ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রদল নেতা শাকিল খুনে বিএনপির এমপির ছেলে ডিবি হেফাজতে

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৩:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 127

১২টি দীর্ঘ দিন ধরে হাসপাতালের সাদা বিছানায় নিথর পড়ে থেকে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন তরুণ ছাত্রদল নেতা। তবে শেষ পর্যন্ত ঘাতকের বুলেট ও ধারালো অস্ত্রের বিষাক্ত আঘাত জয়ী হলো। নাটোরে গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলামের করুণ প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোমবার রাতে রাজপথে নেমে আসে সহকর্মীদের ক্ষোভের লাভাস্রোত। আর সেই আগুনের উত্তাপ কাটতে না কাটতেই গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্যের ছেলেকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম (২৫) হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাটোর-৪ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত অধ্যাপক আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) গভীর রাতে গুরুদাসপুর পৌর সদরের নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে গোয়েন্দা পুলিশ তুলে নেয় বলে নিশ্চিত করেছেন নাটোর জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম। তবে ডিবির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টিকে এখনই ‘গ্রেপ্তার’ না দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে।

১২ দিনের জীবনযুদ্ধ ও সহকর্মীদের ক্ষোভের বিস্ফোরণ

মৃত্যুর সঙ্গে টানা ১২ দিন লড়াই করার পর সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শাকিল ইসলাম। নিহত শাকিল গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় কাচারিপাড়া মহল্লার রবিউল করিম মিস্ত্রির ছেলে।

শাকিলের মৃত্যুর খবর গুরুদাসপুরে পৌঁছানোমাত্রই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবার ও দলের স্বজনেরা। মুহূর্তের মধ্যেই সেই শোক বদলে যায় ক্ষোভে। রাতেই পৌর ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে তীব্র বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সেই সমাবেশ থেকে শাকিল হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ ইন্ধনদাতা হিসেবে নুরুজ্জামান মিন্টুকে দায়ী করে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

রক্তাক্ত সেই রাতের রোমহর্ষক বিবরণ

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৪ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে। স্থানীয় সূত্র জানায়, চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে চাঁচকৈড় বাজারপাড়া সড়কে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দুলাল সরকারের বাড়ির কাছে পৌঁছালে শাকিলের গতিরোধ করে হেলমেট পরা দুই মোটরসাইকেল আরোহী।

ঘাতকরা প্রথমে তাঁকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। প্রাণের ভয়ে রক্তভেজা শরীর নিয়ে শাকিল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও নিস্তার পাননি। শহিদা জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে ঘাতকরা তাঁকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ এবং অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে ১৫ অক্টোবর তাকে দ্রুত ঢাকার হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অকেজো হয়ে মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়।

মামলা ও ডিবির পরবর্তী পদক্ষেপ

হত্যাকাণ্ডের পর ১৯ অক্টোবর নিহত শাকিলের বাবা রবিউল করিম বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় একটি লিখিত মামলা দায়ের করেন, যেখানে অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান ও ডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার মূল আসামিদের প্রায় শনাক্ত করা গেছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নেপথ্যের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচনে নুরুজ্জামান মিন্টুকে হেফাজতে নিয়ে টানা জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তের স্বার্থে দ্রুতই মূল ঘাতকদের গ্রেপ্তার করে গণমাধ্যমের সামনে আনা হবে।

ছাত্রদল নেতা শাকিল খুনে বিএনপির এমপির ছেলে ডিবি হেফাজতে

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

১২টি দীর্ঘ দিন ধরে হাসপাতালের সাদা বিছানায় নিথর পড়ে থেকে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন তরুণ ছাত্রদল নেতা। তবে শেষ পর্যন্ত ঘাতকের বুলেট ও ধারালো অস্ত্রের বিষাক্ত আঘাত জয়ী হলো। নাটোরে গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলামের করুণ প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোমবার রাতে রাজপথে নেমে আসে সহকর্মীদের ক্ষোভের লাভাস্রোত। আর সেই আগুনের উত্তাপ কাটতে না কাটতেই গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্যের ছেলেকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম (২৫) হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাটোর-৪ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত অধ্যাপক আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) গভীর রাতে গুরুদাসপুর পৌর সদরের নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে গোয়েন্দা পুলিশ তুলে নেয় বলে নিশ্চিত করেছেন নাটোর জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম। তবে ডিবির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টিকে এখনই ‘গ্রেপ্তার’ না দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে।

১২ দিনের জীবনযুদ্ধ ও সহকর্মীদের ক্ষোভের বিস্ফোরণ

মৃত্যুর সঙ্গে টানা ১২ দিন লড়াই করার পর সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শাকিল ইসলাম। নিহত শাকিল গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় কাচারিপাড়া মহল্লার রবিউল করিম মিস্ত্রির ছেলে।

শাকিলের মৃত্যুর খবর গুরুদাসপুরে পৌঁছানোমাত্রই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবার ও দলের স্বজনেরা। মুহূর্তের মধ্যেই সেই শোক বদলে যায় ক্ষোভে। রাতেই পৌর ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে তীব্র বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সেই সমাবেশ থেকে শাকিল হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ ইন্ধনদাতা হিসেবে নুরুজ্জামান মিন্টুকে দায়ী করে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

রক্তাক্ত সেই রাতের রোমহর্ষক বিবরণ

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৪ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে। স্থানীয় সূত্র জানায়, চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে চাঁচকৈড় বাজারপাড়া সড়কে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দুলাল সরকারের বাড়ির কাছে পৌঁছালে শাকিলের গতিরোধ করে হেলমেট পরা দুই মোটরসাইকেল আরোহী।

ঘাতকরা প্রথমে তাঁকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। প্রাণের ভয়ে রক্তভেজা শরীর নিয়ে শাকিল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও নিস্তার পাননি। শহিদা জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে ঘাতকরা তাঁকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ এবং অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে ১৫ অক্টোবর তাকে দ্রুত ঢাকার হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অকেজো হয়ে মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়।

মামলা ও ডিবির পরবর্তী পদক্ষেপ

হত্যাকাণ্ডের পর ১৯ অক্টোবর নিহত শাকিলের বাবা রবিউল করিম বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় একটি লিখিত মামলা দায়ের করেন, যেখানে অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান ও ডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার মূল আসামিদের প্রায় শনাক্ত করা গেছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নেপথ্যের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচনে নুরুজ্জামান মিন্টুকে হেফাজতে নিয়ে টানা জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তের স্বার্থে দ্রুতই মূল ঘাতকদের গ্রেপ্তার করে গণমাধ্যমের সামনে আনা হবে।