ঢাকা ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলেজছাত্রী ধর্ষণ: ভিডিও ছড়িয়ে বিয়ে ভাঙলো, বিজিবি সদস্য গ্রেপ্তার

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:০০:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
  • / 757

শরীয়তপুরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে এক কলেজছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং সেই দৃশ্য গোপনে মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার (৬ জুলাই, ২০২৫) বিকেলে বিজিবি সদস্য সুলাইমান মুন্সিকে (২৬) গ্রেফতারের পর জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় ওই কলেজছাত্রীর বিয়ে ভেঙে গেছে।

বিজিবি সদস্যের পরিচয় ও অপরাধের বিবরণ

গ্রেফতারকৃত সুলাইমান মুন্সি শরীয়তপুর সদর উপজেলার কাশাভোগ গ্রামের মোতালেব মুন্সির ছেলে। তিনি পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ক্যাম্পে সিপাহী পদে কর্মরত আছেন। জানা গেছে, সুলাইমান বিবাহিত এবং তার এক ছেলে রয়েছে।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুলাইমান মুন্সি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শরীয়তপুর সদর উপজেলার অনার্স চতুর্থ বর্ষের এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। গত ২৮ জুন বিকেলে শরীয়তপুর জেলা শহরের হোটেল মেরিডিয়ানের পঞ্চম তলায় একটি রুম ভাড়া নিয়ে সুলাইমান আবারো ওই ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন এবং গোপনে তার অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

ব্ল্যাকমেইল ও বিয়ের অনুষ্ঠানে ভিডিও ছড়ানো

একপর্যায়ে ওই ছাত্রী জানতে পারেন যে সুলাইমান বিবাহিত এবং তার একটি পুত্রসন্তান আছে। এরপর ওই ছাত্রী তাকে বিয়ের কথা বললে সুলাইমান টালবাহানা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি ওই ছাত্রীকে হুমকি দেন যে, তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক বজায় না রাখলে ধারণ করা অশ্লীল ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবেন।

ঘটনার ভয়াবহতা আরও বাড়ে যখন ওই ছাত্রীর পরিবার অন্যত্র তার বিয়ে ঠিক করে। রোববার (৬ জুলাই, ২০২৫) ছিল ওই ছাত্রীর বিয়ের অনুষ্ঠানের দিন। সুলাইমান বিয়ের খবর জানতে পেরে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ছাত্রীর আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেন। এতে ওই ছাত্রী ও তার পরিবারের মান-সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয় এবং তার বিয়ে ভেঙে যায়।

গ্রেফতার ও আইনি পদক্ষেপ

গতকাল (৬ জুলাই) সকালে সুলাইমান ওই ছাত্রীর এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন লোকজনকে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও দেখাচ্ছিলেন। এ সময় এলাকাবাসী তাকে ধরে বেঁধে রাখে এবং পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পালং মডেল থানা পুলিশ সুলাইমানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

পরে ওই ছাত্রী বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় সুলাইমানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন। এরপর বিকেলে সুলাইমানকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, “ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলায় এক বিজিবি সদস্যকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”

কলেজছাত্রী ধর্ষণ: ভিডিও ছড়িয়ে বিয়ে ভাঙলো, বিজিবি সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০২:০০:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

শরীয়তপুরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে এক কলেজছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং সেই দৃশ্য গোপনে মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার (৬ জুলাই, ২০২৫) বিকেলে বিজিবি সদস্য সুলাইমান মুন্সিকে (২৬) গ্রেফতারের পর জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় ওই কলেজছাত্রীর বিয়ে ভেঙে গেছে।

বিজিবি সদস্যের পরিচয় ও অপরাধের বিবরণ

গ্রেফতারকৃত সুলাইমান মুন্সি শরীয়তপুর সদর উপজেলার কাশাভোগ গ্রামের মোতালেব মুন্সির ছেলে। তিনি পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ক্যাম্পে সিপাহী পদে কর্মরত আছেন। জানা গেছে, সুলাইমান বিবাহিত এবং তার এক ছেলে রয়েছে।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুলাইমান মুন্সি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শরীয়তপুর সদর উপজেলার অনার্স চতুর্থ বর্ষের এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। গত ২৮ জুন বিকেলে শরীয়তপুর জেলা শহরের হোটেল মেরিডিয়ানের পঞ্চম তলায় একটি রুম ভাড়া নিয়ে সুলাইমান আবারো ওই ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন এবং গোপনে তার অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

ব্ল্যাকমেইল ও বিয়ের অনুষ্ঠানে ভিডিও ছড়ানো

একপর্যায়ে ওই ছাত্রী জানতে পারেন যে সুলাইমান বিবাহিত এবং তার একটি পুত্রসন্তান আছে। এরপর ওই ছাত্রী তাকে বিয়ের কথা বললে সুলাইমান টালবাহানা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি ওই ছাত্রীকে হুমকি দেন যে, তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক বজায় না রাখলে ধারণ করা অশ্লীল ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবেন।

ঘটনার ভয়াবহতা আরও বাড়ে যখন ওই ছাত্রীর পরিবার অন্যত্র তার বিয়ে ঠিক করে। রোববার (৬ জুলাই, ২০২৫) ছিল ওই ছাত্রীর বিয়ের অনুষ্ঠানের দিন। সুলাইমান বিয়ের খবর জানতে পেরে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ছাত্রীর আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেন। এতে ওই ছাত্রী ও তার পরিবারের মান-সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয় এবং তার বিয়ে ভেঙে যায়।

গ্রেফতার ও আইনি পদক্ষেপ

গতকাল (৬ জুলাই) সকালে সুলাইমান ওই ছাত্রীর এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন লোকজনকে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও দেখাচ্ছিলেন। এ সময় এলাকাবাসী তাকে ধরে বেঁধে রাখে এবং পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পালং মডেল থানা পুলিশ সুলাইমানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

পরে ওই ছাত্রী বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় সুলাইমানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন। এরপর বিকেলে সুলাইমানকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, “ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলায় এক বিজিবি সদস্যকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”