‘মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়েও কন্ট্রাক্ট কিলিংয়ের ছক!’ র্যাবের জালে ফেরারি জামাল
- আপডেট সময় : ০৫:৫২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / 85
মাথায় ঝুলছে ফাঁসির দণ্ডাদেশ। সেই নিশ্চিত সাজা এড়াতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে। সেখানকার ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে ধরা পড়ে জেল খাটেন, কিন্তু সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে কৌশলে আবার দেশে ফিরে আসেন তিনি। তবে অপরাধের রাস্তা ছাড়েননি; বরং মৃত্যুদণ্ডের পরোয়ানা মাথায় নিয়েই দেশে ফিরে শুরু করেছিলেন ভাড়াটে খুনি বা ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’-এর নতুন ছক! কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। র্যাবের জালে ধরা পড়তেই উন্মোচিত হলো এই দুর্ধর্ষ অপরাধীর রোমহর্ষক অপকর্মের ইতিহাস।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম রিপন মণ্ডল হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জামাল পত্তনদারকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুর র্যাব-১০ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদার এই চাঞ্চল্যকর অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানান। এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে নড়াইল সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানকালে তাঁর কাছ থেকে নগদ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দৌলতদিয়ার সেই হত্যা ও সাজা এড়াতে মুম্বাই চম্পট
র্যাবের দেওয়া তথ্য মতে, আজ থেকে প্রায় এক দশক আগে ২০১৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাট থানার দৌলতদিয়া এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম রিপন মণ্ডলকে। এ ঘটনায় তৎকালীন গোয়ালন্দঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট রাজবাড়ীর জেলা ও দায়রা জজ আদালত আসামি জামাল পত্তনদারকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের রায় দেন।
তবে রায়ের খবর টের পেয়ে ফাঁসির দড়ি এড়াতে সীমান্ত পার হয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যান জামাল। ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট ভারতের মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের সিআইইউ তাকে দক্ষিণ মুম্বাইয়ের কুখ্যাত কামাঠিপুরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। সেখানে কয়েক মাস জেল খাটার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর প্রায় দুই মাস আগে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে পুশ-ব্যাকের মাধ্যমে কৌশলে আবার বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
দেশে ফিরে ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’ ও একাধিক মামলার ছায়া
বাংলাদেশে ফিরে গা ঢাকা দিলেও তাঁর অপরাধচেতনা কমেনি এতটুকুও। র্যাব জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত সাজা মাথার ওপর থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে ফিরে নতুন করে ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’ বা ভাড়ায় মানুষ হত্যার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন জামাল।
র্যাব আরও জানায়, জামাল পত্তনদার কেবল এই একটি হত্যাকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। রিপন হত্যা মামলা ছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে দুটি অস্ত্র মামলা, দুটি মাদক মামলা, একটি ডাকাতির প্রস্তুতি এবং একটি চাঁদাবাজির মামলার এজাহারভুক্ত আসামির রেকর্ড রয়েছে। গ্রেফতারির পর তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।














