ঢাকা ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘দেশি মুরগি খেতে না পারা’ ‘অভাবী’ সেই শিক্ষিকার পাঁচতলা বাড়ি!

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৩১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / 415

সম্প্রতি শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলনে অংশ নিয়ে “শিক্ষকরা দেশি মুরগি খেতে পারেন না”—এমন মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রে আসা শিক্ষিকা শাহিনুর আক্তার শ্যামলীর একাধিক বাড়ি থাকার খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মন্তব্যটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

এদিকে, সমালোচনার মুখে নিজের ফেসবুক লাইভে এসে ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই শিক্ষিকা।

শিক্ষিকার একাধিক স্থাবর সম্পত্তির বিবরণ

শাহিনুর আক্তার শ্যামলীর তিনটি বাড়ি রয়েছে বলে জানা গেছে:

নিজ এলাকা (ফরিদগঞ্জ): গ্রামের বাড়ি ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের বাসারা গ্রামের মোল্লা বাড়িতে একটি একতলা পাকা বাড়ি।

শ্বশুরবাড়ি (কুমিল্লা): কুমিল্লার বরুরা উপজেলায় রয়েছে একটি দুতলা ভবন।

কর্মস্থল সংলগ্ন (হাজীগঞ্জ): হাজীগঞ্জ বাজারের ডিগ্রি কলেজ রোডে ‘আরাম কটেজ’ এর পাশে তাঁর একটি পাঁচতলা নিজস্ব ভবন রয়েছে।

শিক্ষিকা শাহিনুর চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ গার্লস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক এবং উপজেলা শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁর স্বামী কচুয়া উপজেলার রহিমানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

বিবৃতির ব্যাখ্যা: ‘রুপক অর্থে বলেছি’

সমালোচনার মুখে শিক্ষিকা শাহিনুর আক্তার শ্যামলী তাঁর ভাইরাল হওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর মন্তব্যটি ব্যক্তিগত ছিল না, বরং সমগ্র শিক্ষক সমাজের কষ্টের প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ ছিল।

শিক্ষকদের কষ্ট: তিনি বলেন, “আমি একজন শিক্ষক প্রতিনিধি। আমি দীর্ঘদিন এই পেশায় জড়িত। এখানে আমি ব্যক্তি শাহিনুরের কথা বলিনি। আমি আন্দোলনের সময় এ মন্তব্যের মাধ্যমে সব শিক্ষকের কষ্ট ও ক্রন্দন বোঝাতে চেয়েছি।”

আন্দোলন বেগবান: তিনি জানান, যা বলেছেন তা রুপক অর্থে বলেছেন, যা তাঁদের আন্দোলনকে বেগবান করেছে। শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের কষ্টে তিনি একজন শিক্ষক নেত্রী হয়ে সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন, তাই আবেগতাড়িত হয়ে শিক্ষকদের কল্যাণেই তাঁর এই বক্তব্য।

পারিবারিক পরিচয়

শিক্ষিকার গ্রামের বাড়ি ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাসারা গ্রামের মোল্লা বাড়িতে। তাঁর বড় ভাই সালাউদ্দিন মোল্লা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেন এবং ছোট বোন সোহেলি চট্টগ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তাঁর এক মেয়ে ঢাকায় কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে এবং ছোট ছেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে।

‘দেশি মুরগি খেতে না পারা’ ‘অভাবী’ সেই শিক্ষিকার পাঁচতলা বাড়ি!

আপডেট সময় : ১২:৩১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

সম্প্রতি শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলনে অংশ নিয়ে “শিক্ষকরা দেশি মুরগি খেতে পারেন না”—এমন মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রে আসা শিক্ষিকা শাহিনুর আক্তার শ্যামলীর একাধিক বাড়ি থাকার খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মন্তব্যটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

এদিকে, সমালোচনার মুখে নিজের ফেসবুক লাইভে এসে ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই শিক্ষিকা।

শিক্ষিকার একাধিক স্থাবর সম্পত্তির বিবরণ

শাহিনুর আক্তার শ্যামলীর তিনটি বাড়ি রয়েছে বলে জানা গেছে:

নিজ এলাকা (ফরিদগঞ্জ): গ্রামের বাড়ি ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের বাসারা গ্রামের মোল্লা বাড়িতে একটি একতলা পাকা বাড়ি।

শ্বশুরবাড়ি (কুমিল্লা): কুমিল্লার বরুরা উপজেলায় রয়েছে একটি দুতলা ভবন।

কর্মস্থল সংলগ্ন (হাজীগঞ্জ): হাজীগঞ্জ বাজারের ডিগ্রি কলেজ রোডে ‘আরাম কটেজ’ এর পাশে তাঁর একটি পাঁচতলা নিজস্ব ভবন রয়েছে।

শিক্ষিকা শাহিনুর চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ গার্লস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক এবং উপজেলা শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁর স্বামী কচুয়া উপজেলার রহিমানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

বিবৃতির ব্যাখ্যা: ‘রুপক অর্থে বলেছি’

সমালোচনার মুখে শিক্ষিকা শাহিনুর আক্তার শ্যামলী তাঁর ভাইরাল হওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর মন্তব্যটি ব্যক্তিগত ছিল না, বরং সমগ্র শিক্ষক সমাজের কষ্টের প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ ছিল।

শিক্ষকদের কষ্ট: তিনি বলেন, “আমি একজন শিক্ষক প্রতিনিধি। আমি দীর্ঘদিন এই পেশায় জড়িত। এখানে আমি ব্যক্তি শাহিনুরের কথা বলিনি। আমি আন্দোলনের সময় এ মন্তব্যের মাধ্যমে সব শিক্ষকের কষ্ট ও ক্রন্দন বোঝাতে চেয়েছি।”

আন্দোলন বেগবান: তিনি জানান, যা বলেছেন তা রুপক অর্থে বলেছেন, যা তাঁদের আন্দোলনকে বেগবান করেছে। শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের কষ্টে তিনি একজন শিক্ষক নেত্রী হয়ে সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন, তাই আবেগতাড়িত হয়ে শিক্ষকদের কল্যাণেই তাঁর এই বক্তব্য।

পারিবারিক পরিচয়

শিক্ষিকার গ্রামের বাড়ি ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাসারা গ্রামের মোল্লা বাড়িতে। তাঁর বড় ভাই সালাউদ্দিন মোল্লা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেন এবং ছোট বোন সোহেলি চট্টগ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তাঁর এক মেয়ে ঢাকায় কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে এবং ছোট ছেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে।