ফরিদপুর: ‘আওয়ামী-যুবলীগপন্থি’ কমিটি, পল্টনে যুবদল নেতার অনশন
- আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
- / 597
ফরিদপুর-১ আসনের বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে ‘আওয়ামী-যুবলীগপন্থি নেতৃত্বে পরিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে আমরণ অনশন শুরু করেছেন বোয়ালমারী উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য শাইন আনোয়ার। ত্যাগী ও দুঃসময়ের নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করার প্রতিবাদে আজ রোববার বেলা ১১টা ১০ মিনিটে তিনি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি শুরু করেন।
শাইন আনোয়ারের এই কঠোর কর্মসূচি দলের ভেতরে তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বিএনপির ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
অনশনের মূল অভিযোগ: ‘ত্যাগীদের উপেক্ষা’
শাইন আনোয়ারের মূল অভিযোগ হলো, দলের দীর্ঘদিন ধরে যারা মামলা, হামলা, গ্রেফতার, জেল–জুলুমের মুখে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন, তাদের সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে।
‘বাইরের’ নেতাদের প্রাধান্য: তিনি দাবি করেন, কমিটিতে ‘বাইরের’ এবং ‘সরকারঘনিষ্ঠ পরিচয়ের’ ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
ব্যক্তিগত হতাশা: শাইন আনোয়ার বলেন, “আমি অসুস্থ শরীর নিয়েও মিটিং-মিছিল থেকে শুরু করে দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকেছি। আজ আমাকে এবং আমাদের মতো ত্যাগীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ-যুবলীগপন্থিদের দিয়ে কমিটি গঠন করা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”
কেন্দ্রীয় নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক
অনশনকারী শাইন আনোয়ার অভিযোগ করেন, অনুমোদিত কমিটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারিক রহমান এবং বিভাগীয় টিম লিডারের নির্দেশনার সম্পূর্ণ বিরোধী।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বক্তব্য লঙ্ঘন: তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেছিলেন, দলের দুঃসময়ে যে কর্মী মিছিলের পেছনে থেকেছে, তাকেও সম্মানজনক জায়গায় রাখা হবে। কিন্তু ফরিদপুর জেলা বিএনপির অনুমোদিত কমিটি সেই বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ত্যাগের প্রমাণ উপেক্ষিত: তিনি উল্লেখ করেন, ফরিদপুর বিভাগীয় সমাবেশে টিমলিডার আছাদুজ্জামান রিপন বলেছিলেন, কমিটিতে যেতে হলে আন্দোলনে অংশগ্রহণ, মামলা-হামলা, কারাবরণসহ ত্যাগের প্রমাণ জমা দিতে হবে। কিন্তু অনুমোদিত কমিটি সেই নির্দেশনা মানেনি।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে আশঙ্কা
বিতর্কিত নেতৃত্ব নিয়ে শাইন আনোয়ার দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বিপদের আশঙ্কা: তিনি বলেন, ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দল ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। “শিবিরের আত্মঘাতী কর্মীদের কারণে যেমন ছাত্রলীগের ক্ষতি হয়েছিল, তেমনিভাবে সুযোগসন্ধানী কিছু নেতা বিএনপিকে বিপদে ফেলতে পারে।”





















