ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে অস্ত্রধারী নেতার পতন: আওয়ামী লীগ সভাপতি গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:৪১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
  • / 2299

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল চৌধুরী আহাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৩ জুলাই, ২০২৫) সকালে আলফাডাঙ্গা সদর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়। চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি দায়ের করা একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় তাকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ও মামলার প্রেক্ষাপট

আলফাডাঙ্গা থানা সূত্র জানিয়েছে, গত ১৮ জানুয়ারি আলফাডাঙ্গা পৌর সদরের বুড়াইচ এলাকার বিএনপি সমর্থক লাভলু সর্দার বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন। মামলাটিতে আওয়ামী লীগের ১৭০ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয় এবং আড়াই থেকে তিন হাজার জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। সেই মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে সোহেল চৌধুরী আহাদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোহেল চৌধুরী আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের দরুণা গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাক চৌধুরীর ছেলে।

অস্ত্র মিছিল ও পূর্বের অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। এরপর ১৩ আগস্ট শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একটি অস্ত্র মিছিল বের করে। সেই অস্ত্র মিছিলের সামনে থেকে সোহেল চৌধুরী আহাদকে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

ওই ঘটনায় থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা হলেও, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এজাহারভুক্ত আসামির তালিকা থেকে তার নাম বাদ গিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এছাড়া, সোহেল চৌধুরী আহাদের বিরুদ্ধে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রহমানের ঘনিষ্ঠ অনুসারী পরিচয় দিয়ে নিজ ইউনিয়নে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। তিনি সদর ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আজিজার শেখ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন, তবে সেই মামলায় তিনি আদালত থেকে জামিনে ছিলেন।

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি শাহজালাল আলম জানিয়েছেন, একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় সোহেল চৌধুরী আহাদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং রোববার বিকেলে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ফরিদপুরে অস্ত্রধারী নেতার পতন: আওয়ামী লীগ সভাপতি গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৫:৪১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল চৌধুরী আহাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৩ জুলাই, ২০২৫) সকালে আলফাডাঙ্গা সদর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়। চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি দায়ের করা একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় তাকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ও মামলার প্রেক্ষাপট

আলফাডাঙ্গা থানা সূত্র জানিয়েছে, গত ১৮ জানুয়ারি আলফাডাঙ্গা পৌর সদরের বুড়াইচ এলাকার বিএনপি সমর্থক লাভলু সর্দার বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন। মামলাটিতে আওয়ামী লীগের ১৭০ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয় এবং আড়াই থেকে তিন হাজার জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। সেই মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে সোহেল চৌধুরী আহাদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোহেল চৌধুরী আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের দরুণা গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাক চৌধুরীর ছেলে।

অস্ত্র মিছিল ও পূর্বের অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। এরপর ১৩ আগস্ট শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একটি অস্ত্র মিছিল বের করে। সেই অস্ত্র মিছিলের সামনে থেকে সোহেল চৌধুরী আহাদকে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

ওই ঘটনায় থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা হলেও, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এজাহারভুক্ত আসামির তালিকা থেকে তার নাম বাদ গিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এছাড়া, সোহেল চৌধুরী আহাদের বিরুদ্ধে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রহমানের ঘনিষ্ঠ অনুসারী পরিচয় দিয়ে নিজ ইউনিয়নে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। তিনি সদর ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আজিজার শেখ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন, তবে সেই মামলায় তিনি আদালত থেকে জামিনে ছিলেন।

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি শাহজালাল আলম জানিয়েছেন, একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় সোহেল চৌধুরী আহাদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং রোববার বিকেলে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।