হ্যান্ডকাফ পরা ব্যবসায়ী ঝোপে! ফরিদপুরে ডিবি সেজে ৭ লাখ টাকা লুট
- আপডেট সময় : ১১:৪০:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 165
ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে ৭ লাখ টাকা তুলে হাসি মুখে অটোতে উঠেছিলেন ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান। লক্ষ্য ছিল স্বপ্নের জমি কেনা। কিন্তু সেই হাসিমুখ যে ঢাকা-ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কের চারাবটতলা এলাকায় পৌঁছেই এক বীভৎস নারকীয় অভিজ্ঞতায় রূপ নেবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি তিনি! ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে গতিরোধ করা হলো অটোভ্যানের, হাতে পরানো হলো কড়া হ্যান্ডকাফ, আর তার পরেই অস্ত্রের মুখে মুখে বিষাক্ত কাপড়ের গুঁজো দিয়ে চেতনা হারিয়ে লুটে নেওয়া হলো পুরোটাই।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মহাসড়কের চারাবটতলা নামক এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পুলিয়া গাবতলী এলাকার এক নির্জন ঝোপ থেকে হ্যান্ডকাফ পরা ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
ব্যাংক থেকে ছক, মহাসড়কে নাটকীয় অপহরণ
পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার দুপুর দেড়টার দিকে ভাঙ্গা বাজারে অবস্থিত পুবালী ব্যাংক শাখা থেকে জমি কেনার উদ্দেশ্যে নিজের হিসাব নম্বর থেকে নগদ ৭ লাখ টাকা তোলেন মুনসুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মেহেদী হাসান। ব্যাগ ভর্তি টাকা নিয়ে বাজার থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোযোগে নিজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
অটোটি চারাবটতলা নামক নির্জন এলাকায় পৌঁছামাত্রই একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার এসে অটোর গতিরোধ করে। কার থেকে নেমে আসা চারজন ব্যক্তি নিজেদের ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে মেহেদীকে ‘মাদক ব্যবসায়ী’ বলে চিৎকার শুরু করে এবং তাৎক্ষণিক হ্যান্ডকাফ পরিয়ে দেয়। মেহেদী হাসান এর প্রতিবাদ ও চিৎকার শুরু করলে সন্ত্রাসীরা তাকে বেদম মারধর করে, মুখে জোরপূর্বক কাপড় পেঁচিয়ে গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর গাড়ির ভেতর অস্ত্র ঠেকিয়ে মুখে মাস্ক জাতীয় বিষাক্ত কিছু চেপে ধরে তাকে অজ্ঞান করে ফেলে টাকা ভর্তি ব্যাগ লুটে নেয় ছিনতাইকারীরা।
পরবর্তীতে বেলা বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পুলিয়া গাবতলী এলাকার একটি ঝোপের মধ্যে মেহেদীকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা থানা ও পরে দ্রুত ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
‘ভাঙ্গায় কোনো ডিবি টিম ছিল না’, পুলিশি তদন্তের নির্দেশ
ঘটনার বিষয়ে তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করে ফরিদপুর জেলা ডিবি পুলিশের ওসি মো. শহীদুল ইসলাম পরিষ্কার জানান—
“রোববার ভাঙ্গাতে ডিবি পুলিশের কোনো টিম বা সদস্য কোনো দাপ্তরিক প্রয়োজনে যাননি। ডিবি পরিচয়ে টাকা ছিনতাইয়ের বিষয়টি আমরা সাংবাদিকদের মাধ্যমেই প্রথম জানতে পেরেছি।”
অন্যদিকে, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খালেদ হোসেন জানান—
“ছিনতাইকারীরা সাজানো ডিবি পরিচয়ে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট অংকের টাকা ছিনতাই করে চম্পট দিয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতারের কার্যক্রম চলছে।”











