ঢাকা ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

থানার নিউজ শেয়ার করায় ফরিদপুরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৩:১২:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • / 485

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাস ও পরিবহনে চাঁদাবাজির ঘটনায় আটক দুই অভিযুক্তকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেয়ার সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার করায় সাইদুর রহমান মিঠু শিকদার (৪২) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে পুলিশের দাবি, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

আহত সাইদুর রহমান মিঠু ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এবং ভাঙ্গা পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদি এলাকার শাহজাহান শিকদারের ছেলে।

দুই দফায় বর্বরোচিত হামলা:

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত ৯টার দিকে কাপুড়িয়া সদরদি এলাকায় তাঁর ওপর দুই দফায় হামলা চালানো হয়। সাবেক সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীর ক্যাডার ও চিহ্নিত চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত সোহান মুন্সি (২৮) ও শোয়েব মোল্যার (৩০) নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন সশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী হাতুড়ি, চাকু ও লোহার পাইপ নিয়ে এই হামলা চালায়। এ সময় মিঠু শিকদারকে বাঁচাতে গেলে তাঁর মা ও ছোট ভাইকেও মারধর করা হয়।

আহতের ছোট ভাই রাজু শিকদার জানান, সন্ত্রাসীদের হামলায় মিঠুর মাথায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে ৬টি সেলাই লেগেছে। এছাড়া পিটুনির কারণে তাঁর পাঁজরের একটি হাড় ভেঙে গিয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হামলার মূল কারণ:

ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ, গত ১২ মে ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির অভিযোগে সোহান ও শোয়েবকে পুলিশ আটক করে। পরে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ূব মোল্যা থানায় গিয়ে তাঁদের ছাড়িয়ে আনেন। ওসির কক্ষে ওআইন ভাঙার এই ঘটনাটির ভিডিও এবং সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষার্থে মিঠু শিকদার সেটি ফেসবুকে শেয়ার করেন।

মিঠু শিকদার অভিযোগ করেন, “নিউজ শেয়ার করার পর হামলার আধা ঘণ্টা আগে আইয়ুব মোল্যার ছেলে রাজু মোল্যা আমার ভাইকে হুমকি দিয়ে বলে— ‘তোর ভাইকে দেখায় দেব’। এরপর সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে গেলে ওরা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আমাকে আহত করে। পরে ভাঙ্গা হাসপাতালে নেওয়ার পথে আবারও ওত পেতে থেকে চাকু দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।” ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, হামলার সময় বারবার ভাঙ্গা থানার ওসি এবং ৯৯৯-এ ফোন দিলেও পুলিশের কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

নেতৃবৃন্দ ও পুলিশের বক্তব্য:

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সোহান মুন্সি পলাতক থাকায় তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ূব মোল্যা ঘটনাটিকে ন্যাক্কারজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, “আমি ওসিকে ফোন দিয়ে বলেছি আইনি ব্যবস্থা নিতে। অন্যায়ের সাথে আমি নেই।”

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে জেনেছি জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হামলা হয়েছে। থানায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে ফেসবুক পোস্টের জেরে এই হামলা হয়েছে কি-না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন।

থানার নিউজ শেয়ার করায় ফরিদপুরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম

আপডেট সময় : ০৩:১২:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাস ও পরিবহনে চাঁদাবাজির ঘটনায় আটক দুই অভিযুক্তকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেয়ার সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার করায় সাইদুর রহমান মিঠু শিকদার (৪২) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে পুলিশের দাবি, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

আহত সাইদুর রহমান মিঠু ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এবং ভাঙ্গা পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদি এলাকার শাহজাহান শিকদারের ছেলে।

দুই দফায় বর্বরোচিত হামলা:

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত ৯টার দিকে কাপুড়িয়া সদরদি এলাকায় তাঁর ওপর দুই দফায় হামলা চালানো হয়। সাবেক সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীর ক্যাডার ও চিহ্নিত চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত সোহান মুন্সি (২৮) ও শোয়েব মোল্যার (৩০) নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন সশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী হাতুড়ি, চাকু ও লোহার পাইপ নিয়ে এই হামলা চালায়। এ সময় মিঠু শিকদারকে বাঁচাতে গেলে তাঁর মা ও ছোট ভাইকেও মারধর করা হয়।

আহতের ছোট ভাই রাজু শিকদার জানান, সন্ত্রাসীদের হামলায় মিঠুর মাথায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে ৬টি সেলাই লেগেছে। এছাড়া পিটুনির কারণে তাঁর পাঁজরের একটি হাড় ভেঙে গিয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হামলার মূল কারণ:

ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ, গত ১২ মে ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির অভিযোগে সোহান ও শোয়েবকে পুলিশ আটক করে। পরে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ূব মোল্যা থানায় গিয়ে তাঁদের ছাড়িয়ে আনেন। ওসির কক্ষে ওআইন ভাঙার এই ঘটনাটির ভিডিও এবং সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষার্থে মিঠু শিকদার সেটি ফেসবুকে শেয়ার করেন।

মিঠু শিকদার অভিযোগ করেন, “নিউজ শেয়ার করার পর হামলার আধা ঘণ্টা আগে আইয়ুব মোল্যার ছেলে রাজু মোল্যা আমার ভাইকে হুমকি দিয়ে বলে— ‘তোর ভাইকে দেখায় দেব’। এরপর সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে গেলে ওরা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আমাকে আহত করে। পরে ভাঙ্গা হাসপাতালে নেওয়ার পথে আবারও ওত পেতে থেকে চাকু দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।” ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, হামলার সময় বারবার ভাঙ্গা থানার ওসি এবং ৯৯৯-এ ফোন দিলেও পুলিশের কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

নেতৃবৃন্দ ও পুলিশের বক্তব্য:

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সোহান মুন্সি পলাতক থাকায় তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ূব মোল্যা ঘটনাটিকে ন্যাক্কারজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, “আমি ওসিকে ফোন দিয়ে বলেছি আইনি ব্যবস্থা নিতে। অন্যায়ের সাথে আমি নেই।”

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে জেনেছি জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হামলা হয়েছে। থানায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে ফেসবুক পোস্টের জেরে এই হামলা হয়েছে কি-না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন।