ফরিদপুর: বিএনপির দুই গ্রুপে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, শতাধিক আহত
- আপডেট সময় : ১২:৫৪:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
- / 620
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থক দুটি গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ চলছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৭টায় উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়াগট্টি বাজারে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা পরে আশপাশের কয়েকটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর ১২টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছিল, যাতে অন্তত শতাধিক মানুষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।
সংঘর্ষের মূল কারণ ও পক্ষসমূহ
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, এই সংঘর্ষের মূলে রয়েছে গট্টি ইউনিয়নের গ্রাম্য মাতুব্বর নুরু ও জাহিদ-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ।
দলের সমর্থন: দুজনেই ফরিদপুর-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকুর সমর্থক।
সংঘর্ষের ধরন: দুপক্ষের লোকজন সকাল ৭টার দিকে ঢাল, সরকি, ইট-পাটকেলসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় আরও কয়েকটি গ্রামের লোকজন এই সংঘর্ষে যোগ দেয়।
আহত ও ক্ষতির বিবরণ
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকে গুরুতর জখম নিয়ে নিজ বাড়িতে আটকা পড়েছেন।
আহতদের দুর্ভোগ: নুরু মাতুব্বরের গ্রুপের সমর্থক আলেপ শেখ নামের একজন বৃদ্ধ তাঁর নিজ বাড়িতে গুরুতর আহত অবস্থায় আটকা আছেন। তাঁর স্বজনরা জানান, তাঁর পায়ে একাধিক কোপ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে উদ্ধারের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ভাঙচুর ও লুটপাট: সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কিছু বাড়ি-ঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে। এছাড়াও, জাহিদ মাতুব্বর গ্রুপের ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামের নেতৃত্বে বালিয়া বাজার সংলগ্ন ওমর ফারুক নামের এক ব্যক্তির ৫টি গরু লুট করার একটি ভিডিও দেখা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
ওসির দায়িত্বে থাকা সালথা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মারুফ হাসান বলেন, “পুলিশ ও সেনাবাহিনী মিলে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। এ ব্যাপারে পরবর্তীতে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারবো।”
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।











