ঢাকা ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে হামলা মামলায় বিএনপির হুঁশিয়ারি: ‘হাসিনার পেতাত্তার ঠাঁই হবে না

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৭:২৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
  • / 439

ফরিদপুরে সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এ কে আজাদের শহরের ঝিলটুলীস্থ বাড়িতে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১৫ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে জামিন দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (৮ জুলাই, ২০২৫) দুপুরে ফরিদপুরের ১ নম্বর আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ এলাহী এই আদেশ দেন। একই মামলায় প্রিন্স নামে এক যুবদল কর্মীকে গতকাল সোমবার গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ, যাকে আজ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

হামলার অভিযোগ ও মামলার বিবরণ

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৩ জুলাই ‘আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়ে এ কে আজাদ তার বাড়িতে গোপন বৈঠক করছেন’ এমন অভিযোগ তুলে ফরিদপুর মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায় এবং বেআইনিভাবে প্রবেশের চেষ্টা করে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ জুলাই ফরিদপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনাল, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক তরুণ বিশ্বাস সহ মোট ১৬ জনের নামে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

১৫ আসামির জামিন মঞ্জুর

আজ মঙ্গলবার দুপুরে এজাহারভুক্ত ১৬ জন আসামির মধ্যে ১৩ জন স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আসিফ এলাহী তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট জসীমউদ্দিন মৃধা জামিনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন, আর বাদীপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জসীমউদ্দিন মৃধা জানান, আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর প্রত্যেক আসামিকে ১০০ টাকার বেলবন্ডে এই মামলায় পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া পর্যন্ত জামিন দিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যারা আজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না, তারাও পরে আদালতে হাজির হবেন এবং তাদেরও স্থায়ী জামিন দেওয়া হয়েছে।

১ জন আটক, আদালতে বিক্ষোভ

এই মামলার এজাহারভুক্ত ১১ নম্বর আসামি আজম ওরফে প্রিন্স (৪৫)-কে গত সোমবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাকে আজ আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে, মামলার ২ নম্বর আসামি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহরিয়ার হোসেন ওরফে শিথিল (৩৩) এবং ৭ নম্বর আসামি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সচিব রাকিবুল ইসলাম ওরফে রাকিব (৪৫) আজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।

এদিকে, জামিন পাওয়ার পর ফরিদপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ সহ জামিনপ্রাপ্ত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আদালত চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি মুজিব সড়ক হয়ে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

নেতাকর্মীদের হুশিয়ারি

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ এফ এম কাইয়ুম, সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এ সময় গোলাম মোস্তফা মিরাজ বলেন, আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী লুণ্ঠনকারী ভূমিদস্যু শেখ হাসিনার প্রেতাত্মা “আওয়ামী লীগের দোসরদের ফরিদপুরে ঠাঁই হবে না।” এই মন্তব্য করে তিনি ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেন। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভুঁইয়া সহ বিএনপিপন্থী বেশ কয়েকজন আইনজীবী।

ফরিদপুরে হামলা মামলায় বিএনপির হুঁশিয়ারি: ‘হাসিনার পেতাত্তার ঠাঁই হবে না

আপডেট সময় : ০৭:২৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫

ফরিদপুরে সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এ কে আজাদের শহরের ঝিলটুলীস্থ বাড়িতে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১৫ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে জামিন দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (৮ জুলাই, ২০২৫) দুপুরে ফরিদপুরের ১ নম্বর আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ এলাহী এই আদেশ দেন। একই মামলায় প্রিন্স নামে এক যুবদল কর্মীকে গতকাল সোমবার গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ, যাকে আজ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

হামলার অভিযোগ ও মামলার বিবরণ

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৩ জুলাই ‘আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়ে এ কে আজাদ তার বাড়িতে গোপন বৈঠক করছেন’ এমন অভিযোগ তুলে ফরিদপুর মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায় এবং বেআইনিভাবে প্রবেশের চেষ্টা করে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ জুলাই ফরিদপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনাল, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক তরুণ বিশ্বাস সহ মোট ১৬ জনের নামে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

১৫ আসামির জামিন মঞ্জুর

আজ মঙ্গলবার দুপুরে এজাহারভুক্ত ১৬ জন আসামির মধ্যে ১৩ জন স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আসিফ এলাহী তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট জসীমউদ্দিন মৃধা জামিনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন, আর বাদীপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জসীমউদ্দিন মৃধা জানান, আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর প্রত্যেক আসামিকে ১০০ টাকার বেলবন্ডে এই মামলায় পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া পর্যন্ত জামিন দিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যারা আজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না, তারাও পরে আদালতে হাজির হবেন এবং তাদেরও স্থায়ী জামিন দেওয়া হয়েছে।

১ জন আটক, আদালতে বিক্ষোভ

এই মামলার এজাহারভুক্ত ১১ নম্বর আসামি আজম ওরফে প্রিন্স (৪৫)-কে গত সোমবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাকে আজ আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে, মামলার ২ নম্বর আসামি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহরিয়ার হোসেন ওরফে শিথিল (৩৩) এবং ৭ নম্বর আসামি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সচিব রাকিবুল ইসলাম ওরফে রাকিব (৪৫) আজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।

এদিকে, জামিন পাওয়ার পর ফরিদপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ সহ জামিনপ্রাপ্ত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আদালত চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি মুজিব সড়ক হয়ে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

নেতাকর্মীদের হুশিয়ারি

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ এফ এম কাইয়ুম, সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এ সময় গোলাম মোস্তফা মিরাজ বলেন, আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী লুণ্ঠনকারী ভূমিদস্যু শেখ হাসিনার প্রেতাত্মা “আওয়ামী লীগের দোসরদের ফরিদপুরে ঠাঁই হবে না।” এই মন্তব্য করে তিনি ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেন। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভুঁইয়া সহ বিএনপিপন্থী বেশ কয়েকজন আইনজীবী।