ফরিদপুরে জেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি গ্রেফতার: মিলছে চাঞ্চল্যকর তথ্য
- আপডেট সময় : ০৪:১৯:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
- / 2416
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংস সশস্ত্র হামলা ও হত্যা প্রচেষ্টার মামলায় অবশেষে পুলিশের খাঁচায় ধরা পড়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা ইমামুল মিয়া আজম (৩৪)। গত ১৬ মার্চ ফরিদপুর পৌরসভার কমলাপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হলেও বর্তমানে মামলার তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার আরও ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে আসছে।
গ্রেফতার ও সোপর্দ:
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল গত ১৬ মার্চ দুপুর ১১:৫০ ঘটিকার সময় কমলাপুর ডিআইবি তলা সংলগ্ন এলাকা থেকে আজমকে গ্রেফতার করে। তিনি ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) সহ-সভাপতি পদে ছিলেন। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গ্রেফতারের পরপরই ১৬ মার্চ তাকে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য:
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর মো. আবুল বাশার মোল্লা কর্তৃক আদালতে দাখিলকৃত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফরিদপুরের জনতা ব্যাংকের মোড় এবং ভাঙ্গা রাস্তার মোড় এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার অন্যতম কুশীলব ছিলেন এই আজম। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশে এবং পরিকল্পনায় তিনি স্বয়ং আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
হামলার নৃশংস বর্ণনা ও মামলা:
গত ১০ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে দায়েরকৃত কোতোয়ালী থানার এই মামলায় (এফআইআর নং-১৫) ইমামুল মিয়া আজম এজাহারনামীয় ৪৮ নম্বর আসামি। ঘটনার দিন দুপুর ১২:৩০ মিনিটের দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের গতিরোধ করে একে-৪৭ রাইফেল ও শর্টগান দিয়ে গুলি চালানো হয় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়। এতে মুমতাহিনা ইসলাম ও মো. শিহাব শেখসহ অসংখ্য শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।
বর্তমান আইনি অবস্থা:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজম বর্তমানে এই মামলার অধীনে কারাগারে রয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে এবং হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করতে তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। স্থানীয় ছাত্র-জনতা আজমের মতো সন্ত্রাসীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

















