ঢাকা ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ছাত্রদল নেতার হামলা: বিধবার বাড়িতে লুট

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:২২:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
  • / 444

ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের কাশিমাবাদ এলাকায় এক বিধবার বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে কোতোয়ালি থানা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সোহেল মুন্সির বিরুদ্ধে। এ সময় হামলাকারীরা বাড়ি ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের পিটিয়ে আহত করে।

গত শুক্রবার বিকেলে মৃত চান মিয়ার বাড়িতে এই হামলা চালানো হয়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী রাশিদা বেগম কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লুট ও হামলার বিস্তারিত

হামলার নেতৃত্ব: স্থানীয় ও ভুক্তভোগীরা জানান, হামলার নেতৃত্ব দেন কোতোয়ালি থানা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সোহেল মুন্সি। তিনি দেশীয় অস্ত্র ও শতাধিক সন্ত্রাসী নিয়ে এই হামলা চালান।

লুটকৃত সম্পদ: রাশিদা বেগম ভারতে গিয়ে চিকিৎসার জন্য জমিয়ে রাখা আড়াই লাখ টাকা এবং তাঁর মেয়ের গলা থেকে একটি স্বর্ণের চেইন লুট করা হয়।

ভাঙচুর ও আঘাত: একই সঙ্গে হামলাকারীরা বাড়িতে ভাঙচুর করে এবং পরিবারের সদস্যদের পিটিয়ে আহত করে।

ঘটনার সূত্রপাত

রাশিদা বেগমের ছেলে আহাদ মিয়া জানান, হামলার কিছু সময় আগে কানাইপুর বাজারে রামখণ্ড গ্রামের রফিকের সঙ্গে তাদের গ্রামের সেলিমের রাস্তার সাইড দেওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। সেই ঘটনায় রফিককে আহাদদের বাড়ির সামনে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি সোহেল মুন্সিকে খবর দিয়ে আনেন।

আহাদ মিয়া বলেন, স্থানীয় মেম্বার কামাল হোসেন মোল্লা এসে তখন বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। কিন্তু তার কিছু পরেই বিকেলে সাড়ে ৪টার দিকে সোহেল মুন্সি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালান।

বিধবা রাশিদা বেগম বলেন, মীমাংসার পরপরই সোহেল মুন্সির নেতৃত্বে তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধির বক্তব্য ও পুলিশের তৎপরতা

স্থানীয় মেম্বার কামাল হোসেন মোল্লা এই হামলার ঘটনাকে ‘খুবই ন্যক্কারজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, সাইড দেওয়া নিয়ে রফিক ও সেলিমের ঘটনার সঙ্গে বিধবা রাশিদার কোনোভাবেই সম্পৃক্ততা ছিল না। মেম্বার আরও মনে করেন, বিধবার বাড়িতে হামলার ঘটনাটি সোহেলের পরিকল্পিত ছিল।

অভিযুক্ত সোহেল মুন্সির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি (অপারেশন্স) আব্দুল্লাহ বিশ্বাস বলেন, “বিবদমান উভয়পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।”

ফরিদপুরে ছাত্রদল নেতার হামলা: বিধবার বাড়িতে লুট

আপডেট সময় : ১১:২২:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের কাশিমাবাদ এলাকায় এক বিধবার বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে কোতোয়ালি থানা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সোহেল মুন্সির বিরুদ্ধে। এ সময় হামলাকারীরা বাড়ি ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের পিটিয়ে আহত করে।

গত শুক্রবার বিকেলে মৃত চান মিয়ার বাড়িতে এই হামলা চালানো হয়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী রাশিদা বেগম কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লুট ও হামলার বিস্তারিত

হামলার নেতৃত্ব: স্থানীয় ও ভুক্তভোগীরা জানান, হামলার নেতৃত্ব দেন কোতোয়ালি থানা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সোহেল মুন্সি। তিনি দেশীয় অস্ত্র ও শতাধিক সন্ত্রাসী নিয়ে এই হামলা চালান।

লুটকৃত সম্পদ: রাশিদা বেগম ভারতে গিয়ে চিকিৎসার জন্য জমিয়ে রাখা আড়াই লাখ টাকা এবং তাঁর মেয়ের গলা থেকে একটি স্বর্ণের চেইন লুট করা হয়।

ভাঙচুর ও আঘাত: একই সঙ্গে হামলাকারীরা বাড়িতে ভাঙচুর করে এবং পরিবারের সদস্যদের পিটিয়ে আহত করে।

ঘটনার সূত্রপাত

রাশিদা বেগমের ছেলে আহাদ মিয়া জানান, হামলার কিছু সময় আগে কানাইপুর বাজারে রামখণ্ড গ্রামের রফিকের সঙ্গে তাদের গ্রামের সেলিমের রাস্তার সাইড দেওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। সেই ঘটনায় রফিককে আহাদদের বাড়ির সামনে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি সোহেল মুন্সিকে খবর দিয়ে আনেন।

আহাদ মিয়া বলেন, স্থানীয় মেম্বার কামাল হোসেন মোল্লা এসে তখন বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। কিন্তু তার কিছু পরেই বিকেলে সাড়ে ৪টার দিকে সোহেল মুন্সি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালান।

বিধবা রাশিদা বেগম বলেন, মীমাংসার পরপরই সোহেল মুন্সির নেতৃত্বে তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধির বক্তব্য ও পুলিশের তৎপরতা

স্থানীয় মেম্বার কামাল হোসেন মোল্লা এই হামলার ঘটনাকে ‘খুবই ন্যক্কারজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, সাইড দেওয়া নিয়ে রফিক ও সেলিমের ঘটনার সঙ্গে বিধবা রাশিদার কোনোভাবেই সম্পৃক্ততা ছিল না। মেম্বার আরও মনে করেন, বিধবার বাড়িতে হামলার ঘটনাটি সোহেলের পরিকল্পিত ছিল।

অভিযুক্ত সোহেল মুন্সির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি (অপারেশন্স) আব্দুল্লাহ বিশ্বাস বলেন, “বিবদমান উভয়পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।”