ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণের দায়ে আকিদুল শেখের মৃত্যুদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৮:২২:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 121
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের ৮ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে কাদা রাস্তা পার করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাঁশবাগানে নিয়ে পৈশাচিক ধর্ষণের মামলায় ধর্ষক আকিদুল শেখের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামিকাজীতে দণ্ডপ্রাপ্ত আকিদুল শেখ উপস্থিত ছিল। রায় পড়া শেষে আদালত চত্বর থেকে তাকে কঠোর পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আকিদুল শেখ জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের সেলিমের ছেলে।
কাদা রাস্তা পার করার ছলে বাঁশবাগানে পৈশাচিকতা
মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২০ জুন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে নওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ওই শিশু শিক্ষার্থী প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাচ্ছিল। আগের রাতের ভারী বৃষ্টিতে স্কুলের পাশের কাঁচা রাস্তায় প্রচুর কাদা ও পানি জমে ছিল। ছোট শিশুটি কাদা পেরিয়ে যেতে ইতস্তত করছিল।
এ সময় ওত পেতে থাকা আকিদুল শেখ শিশুটিকে চক্রান্ত করে রাস্তা পার করে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু অবুঝ শিশুটিকে কাদা পার করার ছলে রাস্তার পাশে নির্জন একটি বাঁশবাগানে টেনে নিয়ে যায় সে এবং বলপূর্বক পৈশাচিক নির্যাতন চালায়। পাষণ্ড আকিদুল শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
রক্তাক্ত শিশু দেখে শিউরে ওঠেন শিক্ষকেরা
পৈশাচিকতার শিকার শিশুটি কোনোমতে শরীর সামলে রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় বিদ্যালয়ের আঙিনায় পৌঁছালে তা দেখে হতবাক ও ব্যাকুল হয়ে পড়েন বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। তারা অবিলম্বে শিশুটিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
ঘটনার পরদিন ২১ জুন শিশুটির বাবা শংকর কুমার মন্ডল বাদী হয়ে আকিদুল শেখকে একমাত্র আসামি করে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত শেষে আকিদুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।











