ফরিদপুর ক্লাসরুম দখল, কোচিং বাণিজ্য ও শিক্ষকদের বসবাস!
- আপডেট সময় : ০৬:১৩:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 523
ফরিদপুরের সদরপুর সরকারি কলেজে চরম অব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক শিথিলতার কারণে শিক্ষার পরিবেশ কার্যত ভেঙে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কলেজের একাডেমিক ভবনের কক্ষ দখল করে শিক্ষকরা বসবাস করছেন এবং শ্রেণিকক্ষেই দেদারসে ব্যক্তিগত কোচিং বাণিজ্য চালাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি এখন শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক কেন্দ্রে রূপ নিয়েছে।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
গুরুতর অনিয়ম: বসবাস ও কোচিং বাণিজ্য
সদরপুর সরকারি কলেজে সরেজমিনে শিক্ষক ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ:
ভবন দখল করে বসবাস: একাডেমিক ভবনের একাধিক কক্ষ দখল করে কতিপয় শিক্ষক ‘টিচার্স কোয়ার্টার’ বানিয়ে বসবাস করছেন। ফলে ভবনের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শ্রেণিকক্ষে কোচিং বাণিজ্য: সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত কোচিং বাণিজ্য চালানো। সরকারি ছুটির দিনেও (শুক্র ও শনিবার) কলেজ খোলা রাখা হয় অতিরিক্ত ক্লাস বা এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটির জন্য নয়, বরং শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ব্যাচ পড়ানোর জন্য।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ক্ষোভ
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, শিক্ষকরা ক্লাসে ঠিকমতো পড়ান না, কিন্তু তাঁদের কাছে প্রাইভেট পড়লে যত্ন নিয়ে পড়ানো হয়।
রিয়াজুল ইসলাম (দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী): “আমরা অনেক আশা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু এখানে পড়াশোনার চেয়ে স্যারদের ব্যবসার চিন্তা বেশি। সরকারি ফ্যান, লাইট আর বেঞ্চ ব্যবহার করে তারা ব্যক্তিগত ব্যবসা করছেন, এটা স্পষ্ট অনিয়ম। একাডেমিক ভবনে স্যাররা থাকেন, এটা কেমন নিয়ম? আমরা এর দ্রুত সমাধান চাই।”
অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ক্লাসের চেয়ে কোচিংয়ের দৌরাত্ম্য বেশি হওয়ায় গরিব ছাত্রদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
শিক্ষক ও অধ্যক্ষের ব্যাখ্যা
অভিযোগের বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যায় অনিয়মের বিষয়টি অনেকটা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে।
বসবাসের বিষয়ে শিক্ষক: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, পর্যাপ্ত সরকারি কোয়ার্টার না থাকায় কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমতি নিয়ে বাধ্য হয়ে থাকছেন।
কোচিং বিষয়ে শিক্ষক: আরেক শিক্ষক বলেন, কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমতি নিয়ে তাঁরা শিক্ষার্থীদের অনুরোধে অতিরিক্ত সময় দিচ্ছেন। এটিকে ‘কোচিং বা ব্যবসা বলা ঠিক নয়’।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বীকারোক্তি: কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. এনামুল হক জানান, সদরপুরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে একাডেমিক ভবনে থাকছেন। তিনি আরও স্বীকার করেন, “কোচিং বাণিজ্যের বিষয়টি সব সরকারি কলেজেই হচ্ছে। তারা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মৌখিক পারমিশন নিয়ে অনেক আগে থেকেই কলেজের রুম ব্যবহার করে কোচিং করাচ্ছেন।”
প্রশাসনিক পদক্ষেপ
কলেজে প্রায় ৪০ শিক্ষক কর্মরত থাকলেও নিয়মিত আসেন অর্ধেকেরও কম। এ কারণে অতিরিক্ত চারজন ভলান্টিয়ার শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন জানান:
“আমি নতুন জয়েন করেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”




















