ফরিদপুরে ডিসির বোটে আ’লীগ নেতা! নেপথ্যে কোন অদৃশ্য হাত?
- আপডেট সময় : ০৪:১৬:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
- / 205
পটপরিবর্তন হলেও প্রশাসনের অন্দরে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের কেরামতি কি তবে শেষ হয়নি? ফরিদপুরের পদ্মার চরের ধুলো উড়িয়ে যখন সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস খুঁজছে, ঠিক তখনই জেলা প্রশাসনের স্পীডবোটে চড়ে মহাসমারোহে ঘুরতে দেখা গেল এক দুধর্ষ আওয়ামী লীগ নেতা ও হত্যা মামলার আসামিকে! পদ্মার চরের ভাঙ্গি ডাঙ্গী গ্রামে বিগত আওয়ামী লীগ আমলের বিতর্কিত ডামি নির্বাচনের এমপি এ কে আজাদের বড় ভাইয়ের নামে প্রতিষ্ঠিত ‘মোতালেব হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়’-এর একটি অনুষ্ঠানে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে একই নৌকায় সওয়ার হলেন সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মিন্টু।
একদিকে হত্যা মামলার আসামিকে প্রশাসনের ভিআইপি প্রটোকল, অন্যদিকে তার ঠিক আগের দিন ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে বৃক্ষরোপণ মেলা উদ্বোধনে সদর আসনের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফকে স্পষ্ট অবমাননা ও আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগ—এই দুইয়ে মিলে ফরিদপুর সদরের বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।
প্রশাসনের নৌকায় ‘টপ লিস্টেড ক্যাডার’: জেলা ছাত্রদল সভাপতির বিস্ফোরক তোপ
প্রশাসনের চোখের সামনে এমন ‘ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন’ প্রক্রিয়া দেখে আর চুপ করে থাকতে পারেনি মাঠের রাজনীতি। এই নজিরবিহীন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি নাতিদীর্ঘ ও চাবুক পোস্ট দিয়েছেন ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু। প্রশাসনের এই দ্বিচারিতাকে নগ্ন করে অনু লিখেছেন, “এখানে ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার কিছু গুপ্ত সরকার বিরোধী জড়িত বলে সহজে অনুমেয়। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আওয়ামী লীগের টপ লিস্টেড ক্যাডার মিন্টু চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়ে ওই স্কুলের অনুষ্ঠানে চলে গেছেন। ‘কে তথ্যবিহীন আর কে ষড়যন্ত্রের পার্ট’ তা খতিয়ে দেখার জন্য আমি জাতীয়তাবাদী দলের গণতান্ত্রিক সরকারকে আহ্বান জানাই।”
ছাত্রদলের এই প্রভাবশালী জেলা সভাপতি আরও মনে করিয়ে দেন যে, ফরিদপুর সদর আসনটি চিরকালই ধানের শীষের ঘাঁটি এবং গোটা ফরিদপুর বিভাগে বিএনপির জয়জয়কারের মূল কেন্দ্র। সেখানে দলের শীর্ষনেতা তথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেশ গড়ার লক্ষ্যে ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কড়া নজর রাখতে বলছেন, তখন ফরিদপুরের মাটিতে বসে এমন চক্রান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
এমপি নায়াব ইউসুফকে ‘ইগনোর’: নেপথ্যে কি গভীর ষড়যন্ত্র?
বিতর্কের সূত্রপাত অবশ্য এর আগের দিন থেকেই। ফরিদপুর শহরের বুকে আয়োজিত বৃক্ষমেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কেন সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ অনুপস্থিত ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রশাসনের একটি চক্র সদর আসনের এমপির সাথে কোনো প্রকার আলোচনা না করেই নিজেদের মতো করে মেলার আয়োজন করেছে।
সৈয়দ আদনান হোসেন অনু তাঁর পোস্টে দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, “মাননীয় এমপি চৌধুরী নায়াব ইউসুফ শুধু মরহুম জননেতা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ সাহেবের কন্যাই নন, তিনি নিজে কারাবরণকারী ও আন্দোলনে সংযুক্ত জাতীয়তাবাদী দলের একজন সংগ্রামী নেত্রী। আওয়ামী লীগের একটি চক্র নানা ষড়যন্ত্র করেও জাতীয় নির্বাচনে তাঁর বিজয় ঠেকাতে পারেনি। তিনি উদার, তাই কোনো অত্যাচার করেন না বলেই এই নির্যাতনকারী আওয়ামী লীগ নেতারা এখন চুপিসারে টিকে আছে। কিন্তু প্রশ্ন যখন মাননীয় এমপি মহোদয়কে ইগনোর করে আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত ষড়যন্ত্রকারীদের পুনর্বাসনের সম্ভাবনার, সেটা কোনোভাবেই এড়িয়ে যাবার সুযোগ নেই।”
তৃণমূলের স্পষ্ট বার্তা—সামাজিকভাবে এই প্রতিবাদের পর দলের হাইকমান্ড থেকে যেভাবে সিদ্ধান্ত আসবে, সেভাবেই চরের মাটিতে কিংবা রাজপথে যেকোনো ষড়যন্ত্রের চাবুক মোকাবিলা করতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।











