ফরিদপুরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ: হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারে ১৫ দোকান গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন
- আপডেট সময় : ০৪:০৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫
- / 588
ফরিদপুর শহরের হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারে এক বড় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। রবিবার (১৬ জুন, ২০২৫) দুপুরে পরিচালিত এই অভিযানে সরকারি জায়গার ওপর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ১৫টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। শহরের বেইলি ব্রিজের পশ্চিম পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে এই দোকানগুলো পরিচালিত হয়ে আসছিল, যা বাজারের সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করছিল এবং আলীপুর, খাবাসপুর ও রথখোলা এলাকার একটি ‘মাস্তানি’ পরিবেশ তৈরি করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
জনস্বার্থ ও সরকারি স্বার্থ রক্ষায় ফরিদপুর জেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। ২০১৯ সালের একটি মামলার (ধারা ৭৮/২০১৯) পরিপ্রেক্ষিতে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার মো. মোর্শেদ আলী মোল্লা এবং সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (সদর) মো. আদেল শেখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মো. লিয়াকত আলী খান লাভলু, সহ-সাধারণ সম্পাদক খায়রুজ্জামান লাভলুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উচ্ছেদ অভিযানে জেলা পুলিশের একটি দল এবং আনসার বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করেন। এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযানটি চলছিল বলে জানা গেছে।
জনগণের মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ প্রশ্ন
তবে এই উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে কিছু মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ইনকিলাবের কাছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কিছু লোক প্রশ্ন তুলেছেন, এটি কি সত্যি একটি স্থায়ী অভিযান, নাকি কিছুদিন পরেই একই স্থানে আবার দোকানঘর নির্মিত হবে?
বেইলি ব্রিজের পশ্চিম পাশে দীর্ঘ ১২-১৩ বছর ধরে ব্যবসা করে আসা মো. মনা, মো. হাফিজুল এবং মো. আকবর ইনকিলাবকে জানান, সরকারি জায়গা দখলমুক্ত হওয়ায় তাদের কোনো অভিযোগ নেই। তবে তারা দাবি জানান, যদি এই জায়গা লিজ দেওয়া হয়, তাহলে তারা যেন সেই দোকানঘরের জায়গা পেতে পারেন।
অন্যদিকে, বাজারের ক্রেতারা বলাবলি করছেন যে, নতুন বাজার কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর বেইলি ব্রিজ দখলমুক্ত হচ্ছে। তাদের আমলে সরকারি জায়গায় থাকা ১৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হওয়ায় পরিবেশটি দেখতে ভালো লাগছে। তবে তারা বলছেন, দেখা যাক এই পরিচ্ছন্নতা কতদিন থাকে, কারণ ব্রিজের পূর্ব পারেও রাতারাতি বহু দোকানপাট গড়ে উঠেছে।
বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজার কমিটি যদি আরেকটু কঠোর হয়, তাহলে আরও অনেক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা সম্ভব। তবে, বেইলি ব্রিজের এক পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে এলাকাবাসী খুবই খুশি। তারা এখন ময়রা পট্টি এবং ব্রিজের পূর্ব ও উত্তর পাশে থাকা বহু অবৈধ স্থাপনাও দখলমুক্ত করে সরকারের মূল্যবান জায়গা পুনরুদ্ধারের জোর দাবি জানাচ্ছেন।





















