চাকরির ফাঁদে ফেলে দুই বোনকে বোম্বেতে বিক্রি! ফরিদপুরে শহীদের ১০ বছরের জেল
- আপডেট সময় : ০৫:৩১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 155
ভালো বেতনের চাকরি, একটু স্বচ্ছল জীবনের স্বপ্নে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল ফরিদপুরের দুই দিনমজুর তরুণী বোনের চোখ। কিন্তু সেই স্বপ্নের আড়ালেই লুকিয়ে ছিল এক ভয়াল অন্ধকার নরক! উন্নত জীবনের টোপ ফেলে ঘরের পাশের সহকর্মীই দুই বোনকে সীমান্ত পার করে বেচে দিল ভারতের বোম্বাই (মুম্বাই) শহরের নিষিদ্ধ গলিতে। সেখানে নামিয়ে দেওয়া হলো দেহ ব্যবসার চরম পঙ্কিলতায়। দীর্ঘ দীর্ঘ লড়াই আর ১৫ বছর পর অবশেষে সেই ভয়াল ঘটনার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করলেন আদালত।
ফরিদপুরে চাকরির লোভে দুই বোনকে ভারতে পাচার করে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার চাঞ্চল্যকর ও জঘন্য অভিযোগে মো. শহীদ শেখ (৫০) নামের এক মানব পাচারকারীকে দুই পৃথক ধারায় ১০ বছর করে মোট ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ফরিদপুরের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত শহীদ শেখ ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গজারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।
জোড়া সাজা ও পলাতক আসামির বিরুদ্ধে পরোয়ানা
আদালত সূত্র জানায়, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শহীদ শেখ আদালতে অনুপস্থিত ছিল। সে চতুরতার সাথে আত্মগোপনে থাকায় তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনের দুই সুনির্দিষ্ট ধারায় অপরাধীকে সাজা দেওয়া হয়:
প্রথম ধারায়: ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড; অনাদায়ে আরও তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড।
দ্বিতীয় ধারায়: ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড; অনাদায়ে আরও তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের কঠোর আটো সাঁটো আদেশ দেন আদালত।
ফলে আসামিকে মোট ২০ বছর জেল খাটতে হবে এবং ৭০ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার অপর আসামি শহীদের স্ত্রীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
জুট মিলের সহকর্মী থেকে কীভাবে বোম্বাইয়ের নরকে?
মামলার এজাহার ও দীর্ঘ অনুসন্ধানী সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের কথা। ফরিদপুরের একটি জুট মিলে একসাথে চাকরি করতেন তৎকালীন ২০ ও ১৮ বছর বয়সী দুই হতভাগ্য বোন। ওই একই জুট মিলে কর্মরত ছিল আসামি শহীদ শেখ।
একই সাথে কাজ করার সুযোগে ওই দুই তরুণীর সরলতার সুযোগ নেয় শহীদ। ২০১১ সালের ২৯ জুলাই ভারতে আরও উন্নত ও বেশি বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে ওই দুই বোনকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের বোম্বে শহরে পাচার করে দেয় সে। সেখানে পৌঁছানোর পরই উন্মোচিত হয় শহীদের আসল রূপ। তরুণী দুই বোনকে জোরপূর্বক অনৈতিক ও দেহ ব্যবসায় নামাতে বাধ্য করা হয়।
ঘটনার পর মেয়েদের খোঁজ না পেয়ে ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট দুই বোনের অসহায় বাবা বাদী হয়ে সালথা থানায় শহীদ শেখ ও তার স্ত্রীকে আসামি করে মানব পাচার আইনে মামলা ঠোকেন। তৎকালীন সালথা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমোর আলী দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালতে শহীদ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
দীর্ঘ শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ শহীদ শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়। রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, অপরাধী আইনের ফাঁক গলে পালানোর চেষ্টা করলেও বিচারালয়ের হাত থেকে রেহাই পায়নি।













