ফরিদপুরে চাঁদা না পেয়ে কৃষকদল নেতার তাণ্ডব, শিশু অপহরণের হুমকি
- আপডেট সময় : ১০:০৯:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
- / 601
ফরিদপুরে একটি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে না পেয়ে একটি ইটভাটার প্রবেশপথ ভেকু দিয়ে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে মহানগর কৃষকদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, চাঁদার টাকা না দিলে তাদের ৯ বছরের সন্তানকে অপহরণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে সদর উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নের শিবরামপুর এলাকায় ‘পরশমণি ব্রিকস’ (পিএমবি) ইটভাটায় এই ঘটনা ঘটে।
ভয়-ভীতি ও হয়রানির অভিযোগ
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ভাটার সদ্য প্রয়াত মালিক বিশ্বজিৎ ঘোষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল এবং জেলখানায় থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান। এরপর থেকে তার মেজো ভাই চঞ্চল ঘোষ ভাটাটি পরিচালনা করছেন।
পরিবারের অভিযোগ, গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে মহানগর কৃষকদলের সহ-সভাপতি ফরিদ শেখ তাদের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছেন। টাকা না দেওয়ায় এর আগেও ভাটায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়, এমনকি ভাটার দুজন ম্যানেজারকে মারধর করা হয়।
আইনজীবী ছন্দা ঘোষ, যিনি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য, অভিযোগ করে বলেন, “তারা আমাদের বাড়িতে ঢুকে পিস্তল দিয়ে গুলিও করেছে। sürekli আমাদের ওপর চাপ তৈরি করছে এবং বলেছে যে আমাদের জায়গা-জমি দখল করে নেবে।” তিনি আরও বলেন, “তারা আমার ৯ বছরের ভাতিজাকে তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এ ভয়ে আমরা বাচ্চাকে অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দিয়েছি।”
ভাটার রাস্তা কেটে দেওয়ার ঘটনা
ছন্দা ঘোষের অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার বিকেলে ফরিদ শেখের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি ভেকু দিয়ে ভাটার প্রবেশপথ কেটে একটি বড় গর্ত তৈরি করে। এতে ভাটার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে, কিন্তু তার আগেই অভিযুক্তরা ভেকু নিয়ে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরও সম্প্রতি এই ভাটার চিমনি গুঁড়িয়ে দিয়েছে, যদিও পরিবারের দাবি, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নয়।
অভিযুক্তের পাল্টা দাবি
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর কৃষকদল নেতা ফরিদ শেখ চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “এখানে চাঁদাবাজির কোনো বিষয় নেই। তাদের সঙ্গে আমার ব্যবসায়িক লেনদেন রয়েছে।”
তার দাবি, ২০২২ সাল থেকে ইটভাটায় মাটি দেওয়ার বাবদ তিনি ৯ লাখ টাকা পাওনা আছেন। সেই টাকা না দেওয়ায় পাওনাদাররা মিলেই রাস্তা কেটে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের আমলে এই টাকা চাইতে গেলে আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে বের করে দেওয়া হয়।”





















