ঢাকা ০৭:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূ, শ্বশুরের যাবজ্জীবন

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 277

যে ঘরে তিনি এসেছিলেন বধূ হয়ে, সুরক্ষিত থাকার কথা ছিল যার ছায়াতলে—সেই ছাদই তাঁর জন্য হয়ে উঠেছিল এক বিভীষিকাময় নরক। বিয়ের পর থেকেই শশুরের কুরুচিপূর্ণ নজর ও অনৈতিক প্রস্তাব, এরপর ভয় দেখিয়ে দফায় দফায় পাশবিক নির্যাতন। সেই নির্যাতনের শিকার হয়ে গর্ভবতী হওয়ার পর ঘটাতে হয়েছিল জোরপূর্বক গর্ভপাতও। অবশেষে চার বছরের চরম অন্যায় ও পারিবারিক অবহেলার পর সত্যের জয় হলো।

ফরিদপুরের মধুখালীতে নিজ পুত্রবধূকে ধারাবাহিক ধর্ষণ ও নৃশংস নির্যাতনের অপরাধে আসামি হাফিজার শেখ (৫৫)-কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামিমা পারভীন জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামির বিরুদ্ধে একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত হাফিজার শেখ আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

কুপ্রস্তাব থেকে গর্ভপাত: বিচার মেলেনি পরিবারে

মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরের লোলুপ দৃষ্টি পড়েছিল ভুক্তভোগী গৃহবধূর ওপর। বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন হাফিজার শেখ। ব্যর্থ হয়ে ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট কৌশলে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে প্রথমবার ওই তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তিনি।

পরবর্তীতে এই লজ্জাজনক সত্য বাইরে প্রকাশ করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে একাধিকবার নিজের কামনার শিকার বানান নিজ পুত্রবধূকে। একপর্যায়ে ওই গৃহবধূ গর্ভবতী হয়ে পড়লে জোর জবরদস্তি করে তাঁর গর্ভপাত ঘটানো হয়।

যন্ত্রণা সইতে না পেরে ভুক্তভোগী নারী বিষয়টি নিজের স্বামী ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনদের কাছে প্রকাশ করলেও কোনো আইনি বা সামাজিক বিচার পাননি। উল্টো পরিবারজুড়ে শুরু হয় নানা টালবাহানা। বাধ্য হয়ে ওই বধূ বাপের বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং ২০২২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মধুখালী থানায় লম্পট শ্বশুর হাফিজার শেখকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের সন্তোষ ও আদালতের রায়

দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই সাজা প্রদান করেন।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া স্বস্তি প্রকাশ করে জানান—

“অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত জঘন্য অপরাধগুলো সাক্ষ্য-প্রমাণে শতভাগ সত্য প্রমাণিত হয়েছে। বিচারক তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছেন। বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা বাড়াতে এই রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট।”

ফরিদপুরে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূ, শ্বশুরের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যে ঘরে তিনি এসেছিলেন বধূ হয়ে, সুরক্ষিত থাকার কথা ছিল যার ছায়াতলে—সেই ছাদই তাঁর জন্য হয়ে উঠেছিল এক বিভীষিকাময় নরক। বিয়ের পর থেকেই শশুরের কুরুচিপূর্ণ নজর ও অনৈতিক প্রস্তাব, এরপর ভয় দেখিয়ে দফায় দফায় পাশবিক নির্যাতন। সেই নির্যাতনের শিকার হয়ে গর্ভবতী হওয়ার পর ঘটাতে হয়েছিল জোরপূর্বক গর্ভপাতও। অবশেষে চার বছরের চরম অন্যায় ও পারিবারিক অবহেলার পর সত্যের জয় হলো।

ফরিদপুরের মধুখালীতে নিজ পুত্রবধূকে ধারাবাহিক ধর্ষণ ও নৃশংস নির্যাতনের অপরাধে আসামি হাফিজার শেখ (৫৫)-কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামিমা পারভীন জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামির বিরুদ্ধে একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত হাফিজার শেখ আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

কুপ্রস্তাব থেকে গর্ভপাত: বিচার মেলেনি পরিবারে

মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরের লোলুপ দৃষ্টি পড়েছিল ভুক্তভোগী গৃহবধূর ওপর। বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন হাফিজার শেখ। ব্যর্থ হয়ে ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট কৌশলে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে প্রথমবার ওই তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তিনি।

পরবর্তীতে এই লজ্জাজনক সত্য বাইরে প্রকাশ করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে একাধিকবার নিজের কামনার শিকার বানান নিজ পুত্রবধূকে। একপর্যায়ে ওই গৃহবধূ গর্ভবতী হয়ে পড়লে জোর জবরদস্তি করে তাঁর গর্ভপাত ঘটানো হয়।

যন্ত্রণা সইতে না পেরে ভুক্তভোগী নারী বিষয়টি নিজের স্বামী ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনদের কাছে প্রকাশ করলেও কোনো আইনি বা সামাজিক বিচার পাননি। উল্টো পরিবারজুড়ে শুরু হয় নানা টালবাহানা। বাধ্য হয়ে ওই বধূ বাপের বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং ২০২২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মধুখালী থানায় লম্পট শ্বশুর হাফিজার শেখকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের সন্তোষ ও আদালতের রায়

দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই সাজা প্রদান করেন।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া স্বস্তি প্রকাশ করে জানান—

“অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত জঘন্য অপরাধগুলো সাক্ষ্য-প্রমাণে শতভাগ সত্য প্রমাণিত হয়েছে। বিচারক তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছেন। বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা বাড়াতে এই রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট।”