ঢাকা ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোরআনের সুর ভালো লাগে না’: ফরিদপুর মাদ্রাসায় তালা, শিক্ষককে মারধর

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:১৯:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
  • / 591

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর পশ্চিমপাড়া আস-সুন্নাহ নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসায় প্রসাবখানা নির্মাণকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষককে মারধর ও শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২০ জুলাই) বিকেলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় সালথা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মাদ্রাসার সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও মারধরের অভিযোগ

জানা যায়, কয়েক বছর আগে কারী হারুন অর রশীদ এই মাদ্রাসাটি নির্মাণ করেন। এর প্রায় এক বছর পর সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য ঝর্ণা বেগম (৪০) মাদ্রাসার পাশেই বাড়ি তৈরি করেন। ঘটনার দিন রবিবার, মাদ্রাসার সীমানা প্রাচীরের মধ্যে প্রসাবখানা নির্মাণ নিয়ে ঝর্ণা বেগম মাদ্রাসার জানালা বন্ধ করতে শুরু করেন। এতে বাধা দিলে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ জসীমকে কাস্তের ঘাড়া দিয়ে আঘাত করলে তিনি আহত হন। অভিযোগ উঠেছে, ঝর্ণা বেগম তাকে মারধরও করেন। এরপর শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে মাদ্রাসায় তালা লাগিয়ে দেন। এ সময় মাদ্রাসার মোহতামিম কারী হারুন অর রশীদ উপস্থিত ছিলেন না। এই ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে সালথা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনা জানাজানি হলে ঝর্ণা বেগম গোপনে তালা খুলে ফেলেন।

স্থানীয়দের ক্ষোভ ও অভিযুক্তের বক্তব্য

স্থানীয়রা ঝর্ণা বেগমকে ‘ধুরন্ধর মহিলা’ আখ্যা দিয়ে জানান, তার স্বামীর বাড়ি কুমিল্লা জেলায় হলেও তিনি বাবার এলাকায় জমি কিনে বসবাস করছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি সংরক্ষিত নারী সদস্য ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, “তার হাত থেকে স্বামী, বাবা-মা, ভাই-বোন, পাড়া প্রতিবেশী কেউই রেহাই পায় নাই। কথায় কথায় পাড়া প্রতিবেশীদের নামে মামলা করেন। প্রতিনিয়ত সবাইকে থানা পুলিশ ও মামলা হামলার ভয় দেখান। পবিত্র কোরআনের সুর তার ভালো লাগে না। সে তো ফেরাউনের চেয়ে খারাপ। মাদ্রাসার একজন ওস্তাদ কোরআনে হাফেজকে তিনি মারধর করেছেন, আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য ঝর্ণা বেগম তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, “আমি প্রসাবখানার গর্ত বন্ধ করতে বলি কিন্তু তারা বন্ধ করে না। এজন্য আমি মাদ্রাসার ঝাঁপ বন্ধ করতে গেলে হুজুর আমার হাত ধরে কিন্তু ছাড়ে না, তখন আমি কাস্তের ঘাড়া দিয়ে কয়েকটা বাড়ি দেই। এরপর মাদ্রাসার ছোট হুজুর আমাকে বেফাঁস কথা বলায় আমি মাদ্রাসায় তালা দিয়েছি।”

শিক্ষকের পাল্টা অভিযোগ ও পুলিশের ভূমিকা

তবে হাত ধরার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ জসীমউদ্দিন। তিনি বলেন, “মাদ্রাসায় হুজুর ছিলেন না, উনি এসে গালি-গালাজ করছিলেন, আমি নিষেধ করায় আমার উপর চড়াও হয়। এরপর আমি একজন প্রতিবেশি একজনকে ডাকলে তাকেও গালি-গালাজ করে তাড়িয়ে দেন ঝর্ণা বেগম। এরপর আমাকে উনি কাস্তে দিয়ে অনেকগুলো কোপ দেন এবং চরম থাপ্পর মারেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “উনি যা যা করেছেন তার সব রেকর্ডিং করা আছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।”

এই বিষয়ে সালথা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান বলেন, “আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কোরআনের সুর ভালো লাগে না’: ফরিদপুর মাদ্রাসায় তালা, শিক্ষককে মারধর

আপডেট সময় : ১২:১৯:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর পশ্চিমপাড়া আস-সুন্নাহ নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসায় প্রসাবখানা নির্মাণকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষককে মারধর ও শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২০ জুলাই) বিকেলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় সালথা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মাদ্রাসার সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও মারধরের অভিযোগ

জানা যায়, কয়েক বছর আগে কারী হারুন অর রশীদ এই মাদ্রাসাটি নির্মাণ করেন। এর প্রায় এক বছর পর সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য ঝর্ণা বেগম (৪০) মাদ্রাসার পাশেই বাড়ি তৈরি করেন। ঘটনার দিন রবিবার, মাদ্রাসার সীমানা প্রাচীরের মধ্যে প্রসাবখানা নির্মাণ নিয়ে ঝর্ণা বেগম মাদ্রাসার জানালা বন্ধ করতে শুরু করেন। এতে বাধা দিলে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ জসীমকে কাস্তের ঘাড়া দিয়ে আঘাত করলে তিনি আহত হন। অভিযোগ উঠেছে, ঝর্ণা বেগম তাকে মারধরও করেন। এরপর শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে মাদ্রাসায় তালা লাগিয়ে দেন। এ সময় মাদ্রাসার মোহতামিম কারী হারুন অর রশীদ উপস্থিত ছিলেন না। এই ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে সালথা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনা জানাজানি হলে ঝর্ণা বেগম গোপনে তালা খুলে ফেলেন।

স্থানীয়দের ক্ষোভ ও অভিযুক্তের বক্তব্য

স্থানীয়রা ঝর্ণা বেগমকে ‘ধুরন্ধর মহিলা’ আখ্যা দিয়ে জানান, তার স্বামীর বাড়ি কুমিল্লা জেলায় হলেও তিনি বাবার এলাকায় জমি কিনে বসবাস করছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি সংরক্ষিত নারী সদস্য ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, “তার হাত থেকে স্বামী, বাবা-মা, ভাই-বোন, পাড়া প্রতিবেশী কেউই রেহাই পায় নাই। কথায় কথায় পাড়া প্রতিবেশীদের নামে মামলা করেন। প্রতিনিয়ত সবাইকে থানা পুলিশ ও মামলা হামলার ভয় দেখান। পবিত্র কোরআনের সুর তার ভালো লাগে না। সে তো ফেরাউনের চেয়ে খারাপ। মাদ্রাসার একজন ওস্তাদ কোরআনে হাফেজকে তিনি মারধর করেছেন, আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য ঝর্ণা বেগম তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, “আমি প্রসাবখানার গর্ত বন্ধ করতে বলি কিন্তু তারা বন্ধ করে না। এজন্য আমি মাদ্রাসার ঝাঁপ বন্ধ করতে গেলে হুজুর আমার হাত ধরে কিন্তু ছাড়ে না, তখন আমি কাস্তের ঘাড়া দিয়ে কয়েকটা বাড়ি দেই। এরপর মাদ্রাসার ছোট হুজুর আমাকে বেফাঁস কথা বলায় আমি মাদ্রাসায় তালা দিয়েছি।”

শিক্ষকের পাল্টা অভিযোগ ও পুলিশের ভূমিকা

তবে হাত ধরার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ জসীমউদ্দিন। তিনি বলেন, “মাদ্রাসায় হুজুর ছিলেন না, উনি এসে গালি-গালাজ করছিলেন, আমি নিষেধ করায় আমার উপর চড়াও হয়। এরপর আমি একজন প্রতিবেশি একজনকে ডাকলে তাকেও গালি-গালাজ করে তাড়িয়ে দেন ঝর্ণা বেগম। এরপর আমাকে উনি কাস্তে দিয়ে অনেকগুলো কোপ দেন এবং চরম থাপ্পর মারেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “উনি যা যা করেছেন তার সব রেকর্ডিং করা আছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।”

এই বিষয়ে সালথা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান বলেন, “আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”