ঢাকা ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এনসিপির শীর্ষ নেতার অবৈধ ওষুধ সাম্রাজ্য

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:১৬:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 567

সামনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ পদের সাইনবোর্ড, আর আড়ালে চার দেয়ালের ভেতরে তৈরি হচ্ছিল শিশুদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত উপাদান থেকে শুরু করে অননুমোদিত যৌন উত্তেজক সিরাপ! ফরিদপুর শহরের অলিগলিতে দিনের পর দিন ধরে গড়ে তোলা সেই গোপন ও বিপজ্জনক ওষুধ কারখানা উন্মোচিত করল জেলা প্রশাসন। অবৈধভাবে ওষুধ তৈরি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল সংরক্ষণের দায়ে এনসিপির ফরিদপুর জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে (৪০) ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার মোল্লা বাড়ি সড়কে অবস্থিত বায়েজিদের মালিকানাধীন ‘মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ’-এ এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। রাতেই দণ্ডপ্রাপ্ত এনসিপি নেতাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

বেবি জেল থেকে যৌন উত্তেজক সিরাপ: গোয়ালচামটের ল্যাবে কী তৈরি হতো?

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকোর নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে কারখানাটির ভেতর বিপুল পরিমাণ অননুমোদিত ও ক্ষতিকর উপাদান উদ্ধার করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ছেলে বায়েজিদ শহরের গোয়ালচামট মহল্লায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার পর বিগত ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে এই কারখানাটি পরিচালনা করে আসছিলেন। কারখানায় বিএসটিআই বা ওষুধ প্রশাসনের যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই শিশুদের ব্যবহারের জন্য ‘বেবি জেল’, প্রাপ্তবয়স্কদের যৌন উত্তেজক সিরাপ এবং তথাকথিত নানা আয়ুর্বেদিক ওষুধ দেদার তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছিল।

অভিযান পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো জানান—

“১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬/১ ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কারখানাটি থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।”

‘অন্যায়ের দায় নেবে না দল’: সদস্য সচিবের প্রতিক্রিয়া

জেলা পর্যায়ের এক জ্যেষ্ঠ নেতার এমন সাজা ও কারাবাস নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে। এ ব্যাপারে ফরিদপুর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব সাইফ হাসান খাঁন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—

“কোনো রকম অন্যায়ের সঙ্গে আমাদের দল আপস করে না। তিনি যদি ব্যক্তিস্বার্থে বা অবৈধ কোনো অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি আমরা খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অবহিত করছি।”

ফরিদপুরে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এনসিপির শীর্ষ নেতার অবৈধ ওষুধ সাম্রাজ্য

আপডেট সময় : ১০:১৬:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সামনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ পদের সাইনবোর্ড, আর আড়ালে চার দেয়ালের ভেতরে তৈরি হচ্ছিল শিশুদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত উপাদান থেকে শুরু করে অননুমোদিত যৌন উত্তেজক সিরাপ! ফরিদপুর শহরের অলিগলিতে দিনের পর দিন ধরে গড়ে তোলা সেই গোপন ও বিপজ্জনক ওষুধ কারখানা উন্মোচিত করল জেলা প্রশাসন। অবৈধভাবে ওষুধ তৈরি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল সংরক্ষণের দায়ে এনসিপির ফরিদপুর জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে (৪০) ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার মোল্লা বাড়ি সড়কে অবস্থিত বায়েজিদের মালিকানাধীন ‘মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ’-এ এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। রাতেই দণ্ডপ্রাপ্ত এনসিপি নেতাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

বেবি জেল থেকে যৌন উত্তেজক সিরাপ: গোয়ালচামটের ল্যাবে কী তৈরি হতো?

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকোর নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে কারখানাটির ভেতর বিপুল পরিমাণ অননুমোদিত ও ক্ষতিকর উপাদান উদ্ধার করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ছেলে বায়েজিদ শহরের গোয়ালচামট মহল্লায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার পর বিগত ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে এই কারখানাটি পরিচালনা করে আসছিলেন। কারখানায় বিএসটিআই বা ওষুধ প্রশাসনের যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই শিশুদের ব্যবহারের জন্য ‘বেবি জেল’, প্রাপ্তবয়স্কদের যৌন উত্তেজক সিরাপ এবং তথাকথিত নানা আয়ুর্বেদিক ওষুধ দেদার তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছিল।

অভিযান পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো জানান—

“১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬/১ ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কারখানাটি থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।”

‘অন্যায়ের দায় নেবে না দল’: সদস্য সচিবের প্রতিক্রিয়া

জেলা পর্যায়ের এক জ্যেষ্ঠ নেতার এমন সাজা ও কারাবাস নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে। এ ব্যাপারে ফরিদপুর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব সাইফ হাসান খাঁন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—

“কোনো রকম অন্যায়ের সঙ্গে আমাদের দল আপস করে না। তিনি যদি ব্যক্তিস্বার্থে বা অবৈধ কোনো অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি আমরা খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অবহিত করছি।”