অনলাইন জুয়ায় ১২ লাখ টাকা খোয়া: ফরিদপুরে শহীদ শিকদারের আত্মহত্যা
- আপডেট সময় : ০৭:০২:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
- / 744
অনলাইন জুয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর কষ্টার্জিত প্রায় ১২ লাখ টাকা হেরে গিয়ে ফরিদপুর সদরের কানাইপুরে শহীদ শিকদার (৩৬) নামের এক ভ্যানচালক আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে নিজ এলাকা কানাইপুরের লক্ষীপুরে ফরিদপুর-মাগুরা মহাসড়কের পাশে একটি বাগানে গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।
নিহত শহীদ শিকদার স্থানীয় লক্ষীপুর গ্রামের তোতা শিকদারের বড় ছেলে। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
জুয়ার নেশা ও মর্মান্তিক পরিণতি
জুয়ায় আসক্তি: ভ্যানচালক শহীদ শিকদার নিরক্ষর হলেও প্রবাসী স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার করতেন। স্থানীয় মিলগেট এলাকার শামীম স্টোরের বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতে গিয়ে তিনি জুয়ার অ্যাপস নামিয়ে জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন।
বিশাল অংকের লস: এভাবে প্রবাসে থাকা স্ত্রীর তিন বছরে উপার্জন করা প্রায় ১২ লাখ টাকা তিনি অনলাইন জুয়া খেলে হেরে যান।
আত্মহত্যার কারণ: সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী দেশে ফিরে টাকার হিসাব চাইলে তিনি হিসেব দিতে ব্যর্থ হন। নিজের ভুল বুঝতে পেরে এবং নিজেকে অপরাধী মনে করে বৃহস্পতিবার দুপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পুলিশের পদক্ষেপ: ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম জানান, শহীদ শিকদারের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে।
এলাকায় অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ চিত্র
শহীদ শিকদারের আত্মহত্যার ঘটনা অনুসন্ধানে কানাইপুর এলাকায় অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে এসেছে।
জুয়ার ঘাঁটি: স্থানীয় মিলগেট এলাকায় অনেক কিশোর ও যুবক জুয়ায় আসক্ত। জুয়ায় আসক্ত শাকিল (৩৫) ও লোকমান (৪১) নামে দুজন জানান, তাঁরা শামীমের মাধ্যমে অ্যাপস নামিয়ে তার দোকান বা কাছাকাছি কোথাও বসে টাকা ঢুকিয়ে নিয়মিত জুয়া খেলতেন। শাকিল প্রায় ৯৬ হাজার টাকা এবং লোকমান আনুমানিক ৫০ হাজার টাকা হেরেছেন।
বিকাশ এজেন্টদের সংশ্লিষ্টতা: এলাকার ডজনখানেক বিকাশ এজেন্ট মালিক এই বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি। তবে কানাইপুর হলপট্টির বিকাশ এজেন্ট বিল্লাল হোসেন জানান, তিনি বুঝতে পারেন কারা জুয়া খেলতে টাকা ভরতে আসে। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রশাসন দ্রুত এসব অনলাইন ক্যাসিনো বন্ধ না করলে এলাকার অনেকেই ফকির হয়ে যাবেন।
শামীমের অস্বীকার: বিকাশ ব্যবসায়ী শামীম জুয়া বা অ্যাপস নামিয়ে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, অনেক লোক তাঁর দোকানে আসত টাকা ভরতে কারণ তিনি অল্প অংকের টাকাও সহজে দিতেন। তারা কী করত, তা তিনি জানতেন না।
জনপ্রতিনিধির উদ্বেগ ও পরিবারের দাবি
ইউপি চেয়ারম্যানের আহ্বান: স্থানীয় ৯ নং কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ আলতাফ হুসাইন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অনলাইন ক্যাসিনো, জুয়া বা ক্রিকেট জুয়া দ্রুত বন্ধে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তিনি প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পিতার আকুতি: নিহত শহীদ শিকদারের বাবা তোতা শিকদার আকুতি জানিয়েছেন, তাঁর মতো যেন আর কোনো পিতা অনলাইন জুয়ার কারণে পুত্রহারা না হন। তিনি এলাকা থেকে জুয়া বন্ধে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
শহীদ শিকদার মৃত্যুকালে এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বাদ জোহর নামাজে জানাজার পর তাঁকে দাফন করা হয়।





















