ঢাকা ০৪:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ২ জিনের বাদশা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 174

কখনো রূপ বদলে ‘জিনের বাদশা’, কখনো তান্ত্রিক-কবিরাজ, আবার কখনো সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচিত মানুষের মোবাইল নম্বর ও সিম ক্লোন করে সুলভ মূল্যে চাল সরবরাহের প্রলোভন! অভিনব সব ফাঁদ পেতে সাধারণ মানুষের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক ভয়ংকর ও সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ফরিদপুর।

দীর্ঘ প্রায় এক বছরের জটিল ও ডিজিটাল তদন্ত শেষে ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। আটক ব্যক্তিরা ইতিমধ্যেই আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজেদের পৈশাচিক জালিয়াতির কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

সিম ক্লোন করে ৩৩ টন চালের টোপ!

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ। রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম এক অবিশ্বাস্য জালিয়াতির শিকার হন। ওই দিন সকালে তাঁরই পূর্বপরিচিত চাল ব্যবসায়ী ‘বিজয় বাবু’র ব্যবহৃত অফিশিয়াল মোবাইল নম্বরটি হুবহু ক্লোন করে ফোন করে প্রতারক চক্র। ফোনের ওপার থেকে বলা হয়, বাজারে সুলভ মূল্যে ৩৩ টন চাল বিক্রির বিশেষ সুযোগ রয়েছে।

ফোনে নিজস্ব পরিচিত মানুষের কণ্ঠ ও নম্বর ভেসে ওঠায় বিন্দুমাত্র সন্দেহ করেননি রশিদুল। এরপর জরুরি পেমেন্টের অজুহাত দেখিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে দফায় দফায় মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ে চাল না পেয়ে আসল বিজয় বাবুর সাথে কথা বলতেই আকাশ ভেঙে পড়ে রশিদুলের মাথায়! বুঝতে পারেন, তিনি ডিজিটালি জালিয়াতির শিকার হয়েছেন।

৮ মাসের ব্যর্থতা ঝেড়ে পিবিআইয়ের বাজিমাত

ঘটনার পর স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও দীর্ঘ আট মাসেও কোনো ক্লু খুঁজে পায়নি জেলা পুলিশ। শেষমেশ বিচারপ্রার্থী রশিদুলের ‘নারাজি’ আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয় পিবিআই ফরিদপুরকে।

ফরিদপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামের কড়া নির্দেশনায় এবং এসআই মাজিদুল হক খানের নেতৃত্বে শুরু হয় নিখুঁত ডিজিটাল নজরদারি। ক্যাশফ্লো এনালাইসিস ও তথ্যপ্রযুক্তির সুতো ধরে পিবিআই ভোলাসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় টানা অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে দুই মূল মাথাকে।

নেটওয়ার্কের কারসাজি: ‘জিনের বাদশা’ থেকে এমএফএস সিন্ডিকেট

ফরিদপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, চক্রটিতে মোট পাঁচজন সদস্য রয়েছে এবং তাদের কাজের বণ্টন ছিল একদম পেশাদারদের মতো। তারা ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সিম তুলত, একবার টাকা ক্যাশ-আউট করার পরই সেই সিম চিরতরে ভেঙে ফেলে দিত।

রাত হলেই এরা নারীদের ফোন করে ‘জিনের বাদশা’ সেজে পরিবার ধ্বংসের ভয় দেখাত, আবার কবিরাজ সেজে নিঃসন্তান বা গোপন রোগে আক্রান্তদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা খসাত। চক্রটির একজনের কাজ ছিল ফোন করা, আরেকজনের কাজ ছিল বিকাশ/নগদ নম্বর জোগান দেওয়া এবং বাকিদের কাজ ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এজেন্ট পয়েন্ট ঘুরে টাকা ক্যাশ-আউট করে নেওয়া।

পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে জবানবন্দিতে প্রতারণার হাড়হিম করা তথ্য দিয়েছে। এ ধরনের যেকোনো অস্বাভাবিক লোভনীয় প্রস্তাব বা পরিচিত নম্বরের টাকা চাওয়ার ফোন পেলে দ্রুত পিবিআইকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ফরিদপুর পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ২ জিনের বাদশা

আপডেট সময় : ০৪:৩৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

কখনো রূপ বদলে ‘জিনের বাদশা’, কখনো তান্ত্রিক-কবিরাজ, আবার কখনো সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচিত মানুষের মোবাইল নম্বর ও সিম ক্লোন করে সুলভ মূল্যে চাল সরবরাহের প্রলোভন! অভিনব সব ফাঁদ পেতে সাধারণ মানুষের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক ভয়ংকর ও সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ফরিদপুর।

দীর্ঘ প্রায় এক বছরের জটিল ও ডিজিটাল তদন্ত শেষে ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। আটক ব্যক্তিরা ইতিমধ্যেই আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজেদের পৈশাচিক জালিয়াতির কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

সিম ক্লোন করে ৩৩ টন চালের টোপ!

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ। রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম এক অবিশ্বাস্য জালিয়াতির শিকার হন। ওই দিন সকালে তাঁরই পূর্বপরিচিত চাল ব্যবসায়ী ‘বিজয় বাবু’র ব্যবহৃত অফিশিয়াল মোবাইল নম্বরটি হুবহু ক্লোন করে ফোন করে প্রতারক চক্র। ফোনের ওপার থেকে বলা হয়, বাজারে সুলভ মূল্যে ৩৩ টন চাল বিক্রির বিশেষ সুযোগ রয়েছে।

ফোনে নিজস্ব পরিচিত মানুষের কণ্ঠ ও নম্বর ভেসে ওঠায় বিন্দুমাত্র সন্দেহ করেননি রশিদুল। এরপর জরুরি পেমেন্টের অজুহাত দেখিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে দফায় দফায় মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ে চাল না পেয়ে আসল বিজয় বাবুর সাথে কথা বলতেই আকাশ ভেঙে পড়ে রশিদুলের মাথায়! বুঝতে পারেন, তিনি ডিজিটালি জালিয়াতির শিকার হয়েছেন।

৮ মাসের ব্যর্থতা ঝেড়ে পিবিআইয়ের বাজিমাত

ঘটনার পর স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও দীর্ঘ আট মাসেও কোনো ক্লু খুঁজে পায়নি জেলা পুলিশ। শেষমেশ বিচারপ্রার্থী রশিদুলের ‘নারাজি’ আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয় পিবিআই ফরিদপুরকে।

ফরিদপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামের কড়া নির্দেশনায় এবং এসআই মাজিদুল হক খানের নেতৃত্বে শুরু হয় নিখুঁত ডিজিটাল নজরদারি। ক্যাশফ্লো এনালাইসিস ও তথ্যপ্রযুক্তির সুতো ধরে পিবিআই ভোলাসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় টানা অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে দুই মূল মাথাকে।

নেটওয়ার্কের কারসাজি: ‘জিনের বাদশা’ থেকে এমএফএস সিন্ডিকেট

ফরিদপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, চক্রটিতে মোট পাঁচজন সদস্য রয়েছে এবং তাদের কাজের বণ্টন ছিল একদম পেশাদারদের মতো। তারা ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সিম তুলত, একবার টাকা ক্যাশ-আউট করার পরই সেই সিম চিরতরে ভেঙে ফেলে দিত।

রাত হলেই এরা নারীদের ফোন করে ‘জিনের বাদশা’ সেজে পরিবার ধ্বংসের ভয় দেখাত, আবার কবিরাজ সেজে নিঃসন্তান বা গোপন রোগে আক্রান্তদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা খসাত। চক্রটির একজনের কাজ ছিল ফোন করা, আরেকজনের কাজ ছিল বিকাশ/নগদ নম্বর জোগান দেওয়া এবং বাকিদের কাজ ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এজেন্ট পয়েন্ট ঘুরে টাকা ক্যাশ-আউট করে নেওয়া।

পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে জবানবন্দিতে প্রতারণার হাড়হিম করা তথ্য দিয়েছে। এ ধরনের যেকোনো অস্বাভাবিক লোভনীয় প্রস্তাব বা পরিচিত নম্বরের টাকা চাওয়ার ফোন পেলে দ্রুত পিবিআইকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।