ফরিদপুরে রাজনীতির মাঠে ঝড়: কাঁপছে আওয়ামী লীগের ‘দুর্গ’
- আপডেট সময় : ১২:২৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 1015
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই ফরিদপুরের রাজনীতিতে বাড়ছে উত্তাপ। আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের প্রভাব থাকা এই জেলার চারটি আসনের তিনটিতেই এবার আগেভাগেই সরব হয়ে উঠেছেন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা। দলীয় কোন্দল, ভিন্ন জোটের উত্থান আর তৃণমূলে ভিন্নমতের গতিপ্রবাহ—সব মিলিয়ে ফরিদপুর এখন এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের পথে হাঁটছে।
তৃণমূলে নির্বাচনী আমেজ: ভিন্ন কৌশল
গত ৫ আগস্টের পর থেকেই জেলাজুড়ে জমে উঠেছে নির্বাচনী আলোচনা। রাজনৈতিক দলগুলো নানা দ্বিধাদ্বন্দ্বের মাঝেও প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ব্যস্ত। ভিন্ন ভিন্ন ঘরানার প্রার্থীরা গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারসহ নানা কৌশলে মনোযোগ কেড়ে নিচ্ছেন ভোটারদের।
বিএনপির ভেতরে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় তিনটি আসনেই অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন বলয় সৃষ্টি হয়েছে এবং একাধিক নেতা পৃথকভাবে সভা-সমাবেশ করছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী নিজেদের চিরাচরিত অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে ভিন্ন কৌশলে প্রচার চালাচ্ছে। তারা শিষ্টাচার মেনে প্রচার চালানো এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দিয়ে হয়রানি না করার কথা জানাচ্ছে।
ফরিদপুর-১ (মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা)
এই আসনে বিএনপির হয়ে মাঠে রয়েছেন:
খন্দকার নাসিরুল ইসলাম (সাবেক এমপি)
ভিপি ঝুনু মিয়া
মনিরুজ্জামান মৃধা
ড. শাহাবুদ্দিন আহমেদ
মিয়া হাসান
এ আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্যা। এছাড়াও মাঠে রয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা। আলোচনায় রয়েছেন এনসিপির নেতা মো. হাসিবুর রহমান অপু।
বিএনপির নেতা খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, “বহুদিন পর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ আসছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার চেষ্টা করছি।”
জামায়াতের প্রার্থী ইলিয়াস মোল্যা বলেন, “আমি কারো বিরুদ্ধে বক্তব্য দিই না। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে উচ্চ শিক্ষিত মহল পর্যন্ত সবাই মনে হয় এটাকে ভালোভাবে গ্রহণ করছেন। তাঁরা একটা পরিবর্তনের আশায় আছেন।”
ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা)
এখানে বিএনপির পক্ষে মাঠে রয়েছেন কে এম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদ। তবে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের পর কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলকে ফরিদপুর-৪ আসনে সরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও সাবেক উপজেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী খান বুলু এই আসনের বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং কাজ করে যাচ্ছেন।
জামায়াত থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী নগরকান্দা উপজেলা জামায়াতের আমির সোহরাব হোসেন। এ ছাড়া মাঠে সক্রিয় খেলাফত মজলিসের শায়খুল হাদিস আল্লামা শাহ আকরাম আলী। তিনি বলেন, “আমাদের এলাকায় আলেম-ওলামাদের সমর্থক বেশি। সেই হিসেবে চেষ্টা করছি ইসলামী দলের একক প্রার্থী হতে। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী।”
ফরিদপুর-৩ (সদর)
এই আসনে বিএনপির একাধিক নেতা সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন:
চৌধুরী নায়াব ইউসুফ
সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা
মাহবুবুল হাসান পিংকু
ইসলামী দলগুলোর মধ্যে জামায়াত থেকে প্রার্থী হয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব। খেলাফতের মাওলানা আমজাদ হোসাইন এবং জমিয়তের মুফতি কামরুজ্জামানও মাঠে সক্রিয়। এনসিপি থেকেও সম্ভাব্য প্রার্থী সৈয়দা নীলিমা দোলা আলোচনায় রয়েছেন।
চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, “আমার পরিবার মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে আসছে। আমি সে ধারার উত্তরাধিকারী।” প্রফেসর আবদুত তাওয়াব বলেন, “দখল বাণিজ্য ও চাঁদাবাজদের থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।”
ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন)
এই আসনে বিএনপির দুই সম্ভাব্য প্রার্থী শহীদুল ইসলাম বাবুল ও জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া পৃথকভাবে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। এছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন আইনজীবী মাহবুবুর রহমান, অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ নান্নু ও শাহরিয়া ইসলাম শায়লা।
জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেন এবং খেলাফতের মিজানুর রহমান মোল্যাও মাঠে সক্রিয়।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী শহীদুল ইসলাম বলেন, “দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা মোতাবেক ফরিদপুর-৪ আসনে কাজ করছি।” মাওলানা সরোয়ার হোসেন বলেন, “আনাচে কানাচে সাধারণ লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, আমি মানুষের মধ্যে জায়গা করে নিতে পেরেছি।”





















