ফরিদপুরে রাজু হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড আপন ছোট ভাই
- আপডেট সময় : ০১:৩৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
- / 729
ফরিদপুর পৌরসভার ক্লিনার রাজু শেখ (৩৬) হত্যাকাণ্ডের ক্লুলেস রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। আপন ছোট ভাই ইব্রাহিম শেখের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের সহায়তায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম।
নেপথ্যে পারিবারিক কলহ ও মাদক:
পুলিশ সুপার জানান, নিহত রাজু শেখ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি প্রায়ই তার বাবা-মাকে মারধর করতেন। এর আগেও ছোট ভাই ইব্রাহিম তাকে মাদক ছাড়ার অনুরোধ করলে রাজু তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ধাওয়া করেন। মূলত বাবা-মাকে মারধর এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবেই বড় ভাইকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন ইব্রাহিম।
কিলিং মিশনের বিবরণ:
গত ২ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের গুহলক্ষীপুর রেলবস্তি এলাকায় রাজু শেখকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় ইব্রাহিম নিজে মুখোশ পরে উপস্থিত ছিলেন এবং মাদক ব্যবসায়ী হৃদয়, মারুফ ও সাকিদের সাথে নিয়ে মিশন সফল করেন। হত্যার পর ইব্রাহিম অত্যন্ত চতুরতার সাথে এলাকায় অবস্থান করে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।
আসামি গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধার:
পুলিশি তদন্তে রাজুর আপন ভাই ইব্রাহিমের নাম উঠে এলে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় পাবনা থেকে মূল ঘাতক হৃদয় ও মারুফকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই মামলায় এখন পর্যন্ত ১০ জন আসামির মধ্যে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চারটি ধারালো চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য:
পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, মাদক সংক্রান্ত বিরোধ এবং পারিবারিক দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




















