ঢাকা ০২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কুল নাকি পশুর ডাক্তারখানা ও মাতব্বরি কেন্দ্র? ফরিদপুরে উধাও ৩০ শিক্ষার্থী

ইদ্রিস আলী জমাদার:
  • আপডেট সময় : ০১:৩৫:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 141

শ্রেণীকক্ষে যেখানে বইয়ের পাতার খসখস শব্দ আর শিশুদের কলকাকলিতে মুখরিত হওয়ার কথা, সেখানে এখন শুধুই আতঙ্ক আর রাজনৈতিক দাপটের কালো ছায়া। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকের নিজের মেয়েকে সমর্থন না দেওয়ায় নেমে এলো চরম হুমকি। আর অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের পাঠদান ছেড়ে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক মেতে আছেন পশু চিকিৎসা, কাজিগিরি ও স্থানীয় মাতব্বরিতে! শিক্ষার এই নৈরাজ্যকর ও ভীতিকর পরিবেশে বাধ্য হয়ে নিজেদের সন্তানদের নিরাপত্তা বাঁচাতে একযোগে ৩০ জন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে তুলে নিয়ে গেলেন অভিভাবকেরা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর বাজারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেন বিক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা।

রক্তচক্ষু ও ওসির বদলে ‘পশু চিকিৎসক’ শিক্ষক

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অভিভাবক মুন্নাফ শেখ। উপস্থিত অভিভাবকদের অভিযোগের মূল তির ছিল বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আ. সামাদ, তাঁর পরিবার এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খানের দিকে।

অভিভাবকদের দাবি, সম্প্রতি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আ. সামাদের মেয়েকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানান স্থানীয় অভিভাবকরা। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সাবেক এই শিক্ষক ও তাঁর ছেলেরা। এর পর থেকেই বিভিন্ন সময় অভিভাবকদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে শুরু করেন তাঁরা।

অভিভাবক মো. আকল শেখ ও মাকসুদা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো অভিভাবকই চান না আতঙ্কের মধ্যে সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে। নিজের সন্তানের পড়াশোনা ও শারীরিক নিরাপত্তার কথা ভেবেই বাধ্য হয়ে তাঁরা কোলচুরী বিদ্যালয় থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (ছাড়পত্র) নিয়ে অন্য স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন।

এর সাথে যুক্ত হয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খানের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। অভিভাবকদের মারাত্মক অভিযোগ, ওই শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এলাকার পশু চিকিৎসা (ভেটেরিনারি), বিবাহ নিবন্ধন (কাজি) এবং গ্রাম্য সালিশ-মাতব্বরিতে সময় দেন। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

অভিযুক্তদের সাফাই ও প্রশাসনিক শূন্যতা

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আ. সামাদ। তাঁর দাবি, “অবসর নেওয়ার পর আমি আর স্কুলেই যাই না। একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহল অভিভাবকদের উসকে দিয়ে আমার পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

এদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খান পশু চিকিৎসার কথা স্বীকার করে নিয়ে কিছুটা অদ্ভুত সুরেই বলেন, “আমি টুকটাক পশু চিকিৎসার সাথে জড়িত, তবে স্কুল বাদ দিয়ে নয়। স্কুল টাইমে ক্লাসেই থাকি, তবে বিশেষ প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যেতে হয়।”

স্কুল নাকি পশুর ডাক্তারখানা ও মাতব্বরি কেন্দ্র? ফরিদপুরে উধাও ৩০ শিক্ষার্থী

আপডেট সময় : ০১:৩৫:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

শ্রেণীকক্ষে যেখানে বইয়ের পাতার খসখস শব্দ আর শিশুদের কলকাকলিতে মুখরিত হওয়ার কথা, সেখানে এখন শুধুই আতঙ্ক আর রাজনৈতিক দাপটের কালো ছায়া। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকের নিজের মেয়েকে সমর্থন না দেওয়ায় নেমে এলো চরম হুমকি। আর অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের পাঠদান ছেড়ে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক মেতে আছেন পশু চিকিৎসা, কাজিগিরি ও স্থানীয় মাতব্বরিতে! শিক্ষার এই নৈরাজ্যকর ও ভীতিকর পরিবেশে বাধ্য হয়ে নিজেদের সন্তানদের নিরাপত্তা বাঁচাতে একযোগে ৩০ জন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে তুলে নিয়ে গেলেন অভিভাবকেরা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর বাজারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেন বিক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা।

রক্তচক্ষু ও ওসির বদলে ‘পশু চিকিৎসক’ শিক্ষক

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অভিভাবক মুন্নাফ শেখ। উপস্থিত অভিভাবকদের অভিযোগের মূল তির ছিল বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আ. সামাদ, তাঁর পরিবার এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খানের দিকে।

অভিভাবকদের দাবি, সম্প্রতি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আ. সামাদের মেয়েকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানান স্থানীয় অভিভাবকরা। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সাবেক এই শিক্ষক ও তাঁর ছেলেরা। এর পর থেকেই বিভিন্ন সময় অভিভাবকদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে শুরু করেন তাঁরা।

অভিভাবক মো. আকল শেখ ও মাকসুদা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো অভিভাবকই চান না আতঙ্কের মধ্যে সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে। নিজের সন্তানের পড়াশোনা ও শারীরিক নিরাপত্তার কথা ভেবেই বাধ্য হয়ে তাঁরা কোলচুরী বিদ্যালয় থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (ছাড়পত্র) নিয়ে অন্য স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন।

এর সাথে যুক্ত হয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খানের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। অভিভাবকদের মারাত্মক অভিযোগ, ওই শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এলাকার পশু চিকিৎসা (ভেটেরিনারি), বিবাহ নিবন্ধন (কাজি) এবং গ্রাম্য সালিশ-মাতব্বরিতে সময় দেন। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

অভিযুক্তদের সাফাই ও প্রশাসনিক শূন্যতা

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আ. সামাদ। তাঁর দাবি, “অবসর নেওয়ার পর আমি আর স্কুলেই যাই না। একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহল অভিভাবকদের উসকে দিয়ে আমার পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

এদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খান পশু চিকিৎসার কথা স্বীকার করে নিয়ে কিছুটা অদ্ভুত সুরেই বলেন, “আমি টুকটাক পশু চিকিৎসার সাথে জড়িত, তবে স্কুল বাদ দিয়ে নয়। স্কুল টাইমে ক্লাসেই থাকি, তবে বিশেষ প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যেতে হয়।”