হুমকির মুখে চেয়ারম্যান পদ! উসকানিমূলক বক্তব্যের জালে ফেঁসে প্রকাশ্যে রফিকুল ইসলাম
ফরিদপুরে ইউপি চেয়ারম্যানকে শোকজ
- আপডেট সময় : ১২:৩৩:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 479
জনপ্রতিনিধির চেয়ারে বসে প্রকাশ্য জনসভায় দিয়েছেন সরাসরি সহিংসতা ও খুন-খারাবির উসকানি! “অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব”—এমনই এক বিপজ্জনক ও বিস্ফোরক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই পুরো জেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র জনরোষ ও চাঞ্চল্য। অবশেষে সেই ভাইরাল ভিডিওর জেরে আইনি চাবুক চলল ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লার ওপর। স্থানীয় সরকার আইন ও রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী অসদাচরণের দায়ে তাঁকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন এই কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন। নোটিশে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানকে লিখিত ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া ও হত্যার নির্দেশ: কী ছিল সেই ভাইরাল ভিডিওতে?
ঘটনাসূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সালথা উপজেলার উজিরপুর বাজারে আয়োজিত এক প্রকাশ্য সমর্থক সভায় অংশ নেন যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। সেখানে নিজের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তাঁকে স্পষ্ট ভাষায় দেশীয় বা অবৈধ অস্ত্র তৈরির নির্দেশ এবং পরবর্তী হত্যাকাণ্ডের দায় নিজের কাঁধে নেওয়ার মতো ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য দিতে দেখা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়— “অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব।” ভিডিওটি জনসমক্ষে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন ও ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত হলে প্রশাসনের নজরে আসে পুরো ঘটনা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জারি করা শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়, রফিকুল ইসলামের এই অনভিপ্রেত ও উসকানিমূলক বক্তব্য এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও জনরোষের জন্ম দিয়েছে। আইন অনুযায়ী, একজন জনপ্রতিনিধির মুখে এই ধরনের বক্তব্য ইউনিয়ন পরিষদ তথা রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপ, অসদাচরণ এবং গুরুতর নৈতিক স্খলনজনিত শাস্তিযোগ্য অপরাধের শামিল।
আত্মপক্ষ সমর্থনে ‘ভিডিও এডিটেড’ দাবি, শোকজের পর থেকেই মোবাইল বন্ধ!
ঘটনার পরপরই নিজের অবস্থান সাফাই গাইতে গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম দাবি করেছিলেন যে, তিনি নাকি এই ধরনের কোনো বক্তব্যই দেননি। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিকে প্রযুক্তির সাহায্যে ‘এডিট’ করা বা বিকৃত করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির পর তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পুরো ঘটনা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন স্পষ্ট জানান—
“একজন ইউপি চেয়ারম্যানের মুখে এই জাতীয় বক্তব্য সুস্পষ্ট একটি ফৌজদারি অপরাধ বা ‘ক্রিমিনাল অফেন্স’। ভাইরাল ভিডিওর প্রেক্ষিতেই তাঁর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়ে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) অবিহিত করা হয়েছে। নোটিশের জবাব যদি সন্তোষজনক না হয়, তবে ঐ ইউপি চেয়ারম্যানের পদচ্যুতি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ সরাসরি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।”


















