ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ১৪ মামলার আসামি ও আওয়ামী লীগ সভাপতি গ্রেপ্তার

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 395

একটানা বছরের পর বছর ক্ষমতার অপব্যবহার, স্থানীয়দের ওপর দমনপীড়ন আর নাশকতার গুচ্ছ গুচ্ছ মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের চোখ ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফরিদপুর শহরের ব্যস্ততম রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকা থেকে ঝটিকা অভিযানে ঈশান গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের বিতর্কিত চেয়ারম্যান এবং ঈশান গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মজনুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটকের পর অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাস পোড়ানো, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সরকারি কাজে বাধাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা মোট ১৪টি মামলার আসামি শহিদুল ইসলাম মজনুকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রাজবাড়ী রাস্তার মোড় থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ঈশান গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ঈশান গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দীর্ঘদিন ধরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে পলাতক ছিলেন। সর্বশেষ একটি যাত্রীবাহী বাস পোড়ানোর চাঞ্চল্যকর মামলায় তাঁকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারের পরই অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তি

ওসি মো. মাহমুদুল হাসান আরও জানান, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু পথিমধ্যে তিনি হঠাৎ অসুস্থ বোধ করায় চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে পিজি হাসপাতালে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় থানায় নিয়ে আসা হবে।”

চেয়ারম্যানের দীর্ঘ বিতর্কিত অধ্যায় ও নানা অভিযোগ

স্থানীয় সূত্র ও জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা যায়, শহিদুল ইসলাম মজনু ২০১৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে টানা দুই মেয়াদে ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং ভুক্তভোগীদের নানা অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার কারণে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেছিলেন। এমনকি অতীতে তাঁকে একবার চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়ে স্থগিতাদেশ নিয়ে পুনরায় পরিষদের চেয়ার দখল করেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি সম্পূর্ণ গা ঢাকা দিয়ে চলছিলেন। সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত উপস্থিত না হয়ে কৌশলে নিজের অনুগতদের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

ফরিদপুরে ১৪ মামলার আসামি ও আওয়ামী লীগ সভাপতি গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৫:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

একটানা বছরের পর বছর ক্ষমতার অপব্যবহার, স্থানীয়দের ওপর দমনপীড়ন আর নাশকতার গুচ্ছ গুচ্ছ মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের চোখ ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফরিদপুর শহরের ব্যস্ততম রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকা থেকে ঝটিকা অভিযানে ঈশান গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের বিতর্কিত চেয়ারম্যান এবং ঈশান গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মজনুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটকের পর অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাস পোড়ানো, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সরকারি কাজে বাধাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা মোট ১৪টি মামলার আসামি শহিদুল ইসলাম মজনুকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রাজবাড়ী রাস্তার মোড় থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ঈশান গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ঈশান গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দীর্ঘদিন ধরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে পলাতক ছিলেন। সর্বশেষ একটি যাত্রীবাহী বাস পোড়ানোর চাঞ্চল্যকর মামলায় তাঁকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারের পরই অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তি

ওসি মো. মাহমুদুল হাসান আরও জানান, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু পথিমধ্যে তিনি হঠাৎ অসুস্থ বোধ করায় চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে পিজি হাসপাতালে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় থানায় নিয়ে আসা হবে।”

চেয়ারম্যানের দীর্ঘ বিতর্কিত অধ্যায় ও নানা অভিযোগ

স্থানীয় সূত্র ও জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা যায়, শহিদুল ইসলাম মজনু ২০১৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে টানা দুই মেয়াদে ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং ভুক্তভোগীদের নানা অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার কারণে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেছিলেন। এমনকি অতীতে তাঁকে একবার চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়ে স্থগিতাদেশ নিয়ে পুনরায় পরিষদের চেয়ার দখল করেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি সম্পূর্ণ গা ঢাকা দিয়ে চলছিলেন। সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত উপস্থিত না হয়ে কৌশলে নিজের অনুগতদের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।