ফরিদপুরে স্ত্রী হত্যা মামলার আসামী স্বামী বিষপানে আত্মহত্যা
- আপডেট সময় : ০২:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
- / 333
ফরিদপুরের সালথায় স্ত্রী নাদেরা আক্তার হত্যা মামলার আসামী স্বামী রাজু মাতুব্বর (২৮) বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (১২ নভেম্বর) ভোর ৫টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। রাজু মাতুব্বর ছিলেন উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের পশ্চিম বিভাগদি গ্রামের মৃত জয়নাল মাতুব্বরের ছেলে।
পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আত্মহত্যার বিবরণ ও মায়ের বক্তব্য
স্থানীয়রা জানান, রাজু মাতুব্বর মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বিষপান করলে পরিবারের লোকজন তাঁকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।
চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরা: সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের সদস্যরা রাতে রাজুকে বাড়ি নিয়ে আসেন। তবে বুধবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
মায়ের দাবি: নিহত রাজুর মা জাকিরন বেগম দাবি করেন, স্ত্রীকে হত্যার পর রাজু মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল এবং সেই শোক সহ্য করতে না পেরেই বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে।
স্ত্রী হত্যার পূর্বের ঘটনা
রাজু মাতুব্বর যেই হত্যা মামলার আসামী ছিলেন, সেই ঘটনাটিও ছিল মর্মান্তিক।
হত্যাকাণ্ড: গত রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে আটঘর ইউনিয়নের পশ্চিম বিভাগদী গ্রাম থেকে নাদেরা আক্তার (২৩) নামে এক নববধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
শারীরিক নির্যাতন: স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাজু ১৩ সেপ্টেম্বর নাদেরাকে স্ত্রী পরিচয়ে বাড়িতে নিয়ে এলেও, একাধিক বিয়ে করার ইতিহাস থাকায় বিয়ের পর থেকেই নাদেরাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।
হত্যার পদ্ধতি: ঘটনার আগের দিন, শনিবার বিকেলে পারিবারিক কলহের জেরে রাজু নাদেরাকে মারধর করেন। স্থানীয় চিকিৎসক থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফেরার পর রাতেই রাজু হাতুড়ি দিয়ে নাদেরাকে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
মামলা: প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত অবস্থায় নাদেরার মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেন। সেই ঘটনায় রাজু মাতুব্বরকে আসামী করে সালথা থানায় একটি হত্যা মামলা হয় এবং তখন থেকেই রাজু পলাতক ছিলেন।
পুলিশের পদক্ষেপ
সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতাউর রহমান আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
লাশ উদ্ধার: ওসি বলেন, “স্ত্রী হত্যা মামলার আসামী রাজু মাতুব্বর বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।”





















