ফরিদপুরে শামীমাকে যৌনপল্লীতে বন্দি রেখে নির্যাতন! ফাঁসলেন তানিয়া
- আপডেট সময় : ০৯:৫৩:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 656
ফরিদপুর শহরের রথখোলা যৌনপল্লীতে ২২ বছর বয়সী এক তরুণীকে আটকে রাখার দায়ে তানিয়া আক্তার (৪৩) নামের এক নারীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় দেন।
মামলার অন্য এক ধারায় তানিয়াকে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা (অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড) দেওয়া হয়। তবে দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডই ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার পর আসামিকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি ও উদ্ধার অভিযান:
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা এবং ঢাকার সাভারে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ২০২২ সালের ১৮ মার্চ আসামি তানিয়া তাকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে ফরিদপুরে নিয়ে আসেন। পরে রথখোলার যৌনপল্লীর একটি কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়।
পরবর্তীকালে ২৫ মার্চ রাত দেড়টার দিকে ওই তরুণী কৌশলে ফরিদপুর র্যাব-১০ ক্যাম্পে ফোন করে আকুতি জানান। খবর পেয়ে ওই রাতেই র্যাবের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
আইনি প্রক্রিয়া:
উদ্ধারের পরপরই র্যাব-১০ ফরিদপুর ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার শেখ ইসরাইল আমিন বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৯ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন কোতোয়ালি থানার এসআই প্রসাদ কুমার চাকী।
মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৬ ও ১১ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় দেওয়া হয়েছে। এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে মানবপাচারের প্রবণতা হ্রাস পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।











