ফরিদপুরে ভ্যাট কর্মকর্তার ‘বেশে’ লঙ্কাকাণ্ড: একজন জেলে
- আপডেট সময় : ০৯:৫৮:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 446
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ভ্যাট কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই পৃথক ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলে চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক ভুয়া কর্মকর্তাকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অন্যদিকে, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের একজন আসল সিপাহীর বিরুদ্ধেও মোটা অংকের টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
ভুয়া কর্মকর্তা স্বপন ঘোষের জেল
পৌর বাজারের একটি প্রেসে গিয়ে নিজেকে ফরিদপুর ভ্যাট অফিসের বড় কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে টাকা দাবি করার সময় স্বপন ঘোষ (৫৬) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে স্থানীয়রা। এর আগে তিনি ওই প্রেস থেকে দুই দফায় ৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শিব্বির আহমেদ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে স্বপন ঘোষকে দণ্ডবিধির ১৮৮ ধারায় এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। ম্যাজিস্ট্রেট জানান, ব্যবসায়ীদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাৎক্ষণিক এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সিপাহীর বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ
একই দিনে সাতৈর বাজারের ব্যবসায়ী প্রান্ত সাহা অভিযোগ করেন, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সিপাহী মুস্তাইন শাহ মামুন তার দোকানে গিয়ে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির মামলার হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জানান, ১৫ হাজার টাকায় রফাদফা করতে না চাওয়ায় তাকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন ব্যবসায়ীরা। তবে অভিযুক্ত সিপাহী মামুন দাবি করেন, তিনি সরকারি কাজে সেখানে গিয়েছিলেন এবং ব্যবসায়ী নিজেই তাকে টাকা দিতে চেয়েছিলেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করে তাকে উদ্ধার করে।
রহস্যময় যোগসাজশের দাবি
এলাকাবাসীর মতে, সাজাপ্রাপ্ত ভুয়া কর্মকর্তা স্বপন ঘোষ মাঝেমধ্যে নিজেকে ‘মুস্তাইন শাহ মামুন’ হিসেবেও পরিচয় দিতেন। ফলে এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসাজশ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জোর দাবি তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বোয়ালমারীর ব্যবসায়ী মহলে ভীতি ও অস্থিরতা বিরাজ করছে।














