ঢাকা ০১:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাবি ফরিদপুর পুলিশের

বোম ফারুক’কে ঢাকার কর্মসূচির জন্য ৫ লাখ টাকা দেন নিক্সন চৌধুরী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:২৬:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • / 657

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ফরিদপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ফারুক হোসেন ওরফে ‘বোম ফারুক’ (৭২)-কে গ্রেপ্তারের পর জেলা পুলিশ চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। পুলিশের দাবি, ১৩ নভেম্বরের ঢাকার কর্মসূচি সফল করতে ফারুক হোসেনকে সাবেক এমপি ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী ৫ লাখ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আব্দুল জলিল এমন দাবি করেন।

ফারুক হোসেনের গ্রেফতার ও পরিচয়

গতকাল সোমবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলী এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে এক নারীসহ ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডাকনামের রহস্য: মৃত মো. জাহিদ হোসেনের ছেলে ফারুক হোসেন আগে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। তাঁর বাম হাতের মধ্যমা আঙুল বোমা বিস্ফোরণে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তিনি স্থানীয়ভাবে ‘বোম ফারুক’ নামে পরিচিত।

দলীয় পদবী: তিনি বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পদে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর জেলা সভাপতি শামীম হক আমেরিকায় থাকায়, ফারুক হোসেন সম্প্রতি ফেসবুকে নিজেকে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দাবি করেন।

আটককৃত নারী: ফারুক হোসেনের সঙ্গে জেলা যুবমহিলা লীগের সদস্য নাসরিন আক্তারকে (২৮) তাঁর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসপি’র সংবাদ সম্মেলন: কর্মসূচির অর্থায়ন

পুলিশ সুপার মো. আব্দুল জলিল সংবাদ সম্মেলনে নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনেন:

অর্থের উৎস: এসপি জানান, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ফারুক হোসেন ও তার বাসা থেকে জেলা যুবমহিলা লীগের সদস্য নাসরিন আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচি সফল করতে সাবেক এমপি মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন।”

অর্থ বিতরণ: পুলিশ সুপার আরও জানান, সেই টাকা থেকে ৪ লাখ টাকা এরই মধ্যে এক ব্যক্তিকে দিয়েছেন ফারুক হোসেন। তবে কৌশলগত কারণে সেই ব্যক্তির নাম এই মুহূর্তে প্রকাশ করা হচ্ছে না।

১৩ নভেম্বরের কর্মসূচির ডাক

ফারুক হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ৩ নভেম্বর তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেন, যেখানে তিনি ফরিদপুরের নেতাকর্মীদের ঢাকায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

আহ্বান: “ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের অন্তর্গত সব থানা, পৌরসভা, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো আগামী ১৩ তারিখ ঢাকা যাওয়ার জন্য সকলে প্রস্তুত থাকুন… বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ তুলুন— অবৈধ ট্রাইব্যুনাল মানি না মানবো না, শেখ হাসিনার কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে…।”

মামলার বিবরণ ও রায় ঘোষণা

ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট ৭টি মামলা রয়েছে।

মামলা: তাঁর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় ৪টি এবং ডিএমপি, ঢাকাতে ২টি মামলা রয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোতোয়ালি থানার এসআই আতিকুর রহমান বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেছেন।

আদালতে প্রেরণ: এই দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রায় প্রসঙ্গ: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায় কবে হবে, তা ১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জানানোর তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।

দাবি ফরিদপুর পুলিশের

বোম ফারুক’কে ঢাকার কর্মসূচির জন্য ৫ লাখ টাকা দেন নিক্সন চৌধুরী

আপডেট সময় : ০৮:২৬:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ফরিদপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ফারুক হোসেন ওরফে ‘বোম ফারুক’ (৭২)-কে গ্রেপ্তারের পর জেলা পুলিশ চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। পুলিশের দাবি, ১৩ নভেম্বরের ঢাকার কর্মসূচি সফল করতে ফারুক হোসেনকে সাবেক এমপি ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী ৫ লাখ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আব্দুল জলিল এমন দাবি করেন।

ফারুক হোসেনের গ্রেফতার ও পরিচয়

গতকাল সোমবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলী এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে এক নারীসহ ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডাকনামের রহস্য: মৃত মো. জাহিদ হোসেনের ছেলে ফারুক হোসেন আগে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। তাঁর বাম হাতের মধ্যমা আঙুল বোমা বিস্ফোরণে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তিনি স্থানীয়ভাবে ‘বোম ফারুক’ নামে পরিচিত।

দলীয় পদবী: তিনি বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পদে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর জেলা সভাপতি শামীম হক আমেরিকায় থাকায়, ফারুক হোসেন সম্প্রতি ফেসবুকে নিজেকে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দাবি করেন।

আটককৃত নারী: ফারুক হোসেনের সঙ্গে জেলা যুবমহিলা লীগের সদস্য নাসরিন আক্তারকে (২৮) তাঁর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসপি’র সংবাদ সম্মেলন: কর্মসূচির অর্থায়ন

পুলিশ সুপার মো. আব্দুল জলিল সংবাদ সম্মেলনে নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনেন:

অর্থের উৎস: এসপি জানান, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ফারুক হোসেন ও তার বাসা থেকে জেলা যুবমহিলা লীগের সদস্য নাসরিন আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচি সফল করতে সাবেক এমপি মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন।”

অর্থ বিতরণ: পুলিশ সুপার আরও জানান, সেই টাকা থেকে ৪ লাখ টাকা এরই মধ্যে এক ব্যক্তিকে দিয়েছেন ফারুক হোসেন। তবে কৌশলগত কারণে সেই ব্যক্তির নাম এই মুহূর্তে প্রকাশ করা হচ্ছে না।

১৩ নভেম্বরের কর্মসূচির ডাক

ফারুক হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ৩ নভেম্বর তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেন, যেখানে তিনি ফরিদপুরের নেতাকর্মীদের ঢাকায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

আহ্বান: “ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের অন্তর্গত সব থানা, পৌরসভা, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো আগামী ১৩ তারিখ ঢাকা যাওয়ার জন্য সকলে প্রস্তুত থাকুন… বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ তুলুন— অবৈধ ট্রাইব্যুনাল মানি না মানবো না, শেখ হাসিনার কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে…।”

মামলার বিবরণ ও রায় ঘোষণা

ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট ৭টি মামলা রয়েছে।

মামলা: তাঁর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় ৪টি এবং ডিএমপি, ঢাকাতে ২টি মামলা রয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোতোয়ালি থানার এসআই আতিকুর রহমান বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেছেন।

আদালতে প্রেরণ: এই দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রায় প্রসঙ্গ: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায় কবে হবে, তা ১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জানানোর তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।