ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নৈশভোজ থেকে জেল: বিস্ফোরক মামলায় ফরিদপুরে তোলপাড়, গ্রেপ্তার ৭

মোঃতারিকুল ইসলাম,ফরিদপুর :
  • আপডেট সময় : ১১:০৩:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫
  • / 1070

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কামারগ্রামে ঈদ পরবর্তী এক মিলনমেলা থেকে সাতজন তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা পুরোনো একটি মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়, যদিও গ্রামবাসীদের দাবি, তারা কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত নন।

মিলনমেলার রাতে পুলিশি অভিযান

১০ জুন, বুধবার দিবাগত রাতে কামারগ্রামে স্থানীয় চাকরিজীবী ও কর্মজীবী যুবকদের উদ্যোগে ঈদ পরবর্তী এক মিলনমেলা ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। রাত প্রায় ১২টার দিকে অনুষ্ঠান চলাকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। নেতৃত্বে ছিলেন মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ইমরুল হাসান এবং আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজালাল আলম।

পুলিশ অনুষ্ঠানস্থল থেকে কয়েকজনকে পাশে ডেকে নিয়ে তথ্য জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

কারা গ্রেপ্তার হলেন?

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন:

  • আব্দুল্লাহ কাজী

  • শিমুল শেখ

  • সম্রাট শেখ

  • মামুন

  • রহমত শেখ
    সহ আরও দুজন, যাঁদের নাম নিশ্চিত করা যায়নি। এরা সবাই কামারগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা এবং সাধারণ জীবনযাপন করে থাকেন বলে জানায় স্থানীয়রা।

পুরোনো মামলায় নতুন গ্রেপ্তার

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১৫ জানুয়ারি বুড়াইচ গ্রামের এক ভ্যানচালক লাবলু সরদার বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে ১৭০ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ২,৫০০–৩,০০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া সাতজন সেই মামলার ‘অজ্ঞাত’ আসামি বলে দাবি করছে পুলিশ।

ওসি শাহজালাল আলম বলেন, “উর্ধতন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়েছে।”

পরিবারের দাবি: রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানি

গ্রেপ্তারকৃত রহমত শেখের পরিবার অভিযোগ করেছেন, তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। ঈদের ছুটিতে জাহাজ থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি এসেছিলেন মাত্র। তার মা বলেন, “আমার ছেলে রাজনীতি করে না, তাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে।”

গ্রামে উত্তেজনা ও প্রতিবাদ

এই ঘটনার পর কামারগ্রামে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গ্রামবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিরপরাধ যুবকদের এভাবে গ্রেপ্তার করে হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা দাবি করেন।

নৈশভোজ থেকে জেল: বিস্ফোরক মামলায় ফরিদপুরে তোলপাড়, গ্রেপ্তার ৭

আপডেট সময় : ১১:০৩:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কামারগ্রামে ঈদ পরবর্তী এক মিলনমেলা থেকে সাতজন তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা পুরোনো একটি মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়, যদিও গ্রামবাসীদের দাবি, তারা কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত নন।

মিলনমেলার রাতে পুলিশি অভিযান

১০ জুন, বুধবার দিবাগত রাতে কামারগ্রামে স্থানীয় চাকরিজীবী ও কর্মজীবী যুবকদের উদ্যোগে ঈদ পরবর্তী এক মিলনমেলা ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। রাত প্রায় ১২টার দিকে অনুষ্ঠান চলাকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। নেতৃত্বে ছিলেন মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ইমরুল হাসান এবং আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজালাল আলম।

পুলিশ অনুষ্ঠানস্থল থেকে কয়েকজনকে পাশে ডেকে নিয়ে তথ্য জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

কারা গ্রেপ্তার হলেন?

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন:

  • আব্দুল্লাহ কাজী

  • শিমুল শেখ

  • সম্রাট শেখ

  • মামুন

  • রহমত শেখ
    সহ আরও দুজন, যাঁদের নাম নিশ্চিত করা যায়নি। এরা সবাই কামারগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা এবং সাধারণ জীবনযাপন করে থাকেন বলে জানায় স্থানীয়রা।

পুরোনো মামলায় নতুন গ্রেপ্তার

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১৫ জানুয়ারি বুড়াইচ গ্রামের এক ভ্যানচালক লাবলু সরদার বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে ১৭০ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ২,৫০০–৩,০০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া সাতজন সেই মামলার ‘অজ্ঞাত’ আসামি বলে দাবি করছে পুলিশ।

ওসি শাহজালাল আলম বলেন, “উর্ধতন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়েছে।”

পরিবারের দাবি: রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানি

গ্রেপ্তারকৃত রহমত শেখের পরিবার অভিযোগ করেছেন, তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। ঈদের ছুটিতে জাহাজ থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি এসেছিলেন মাত্র। তার মা বলেন, “আমার ছেলে রাজনীতি করে না, তাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে।”

গ্রামে উত্তেজনা ও প্রতিবাদ

এই ঘটনার পর কামারগ্রামে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গ্রামবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিরপরাধ যুবকদের এভাবে গ্রেপ্তার করে হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা দাবি করেন।