ঢাকা ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরমানন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়

ফরিদপুরে নাবালক ছেলের চাকরি বাগাতে প্রধান শিক্ষকের জালিয়াতি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 646

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নে শিক্ষা বিভাগকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখিয়ে নিজের অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া নাবালক ছেলেকে ভুয়া জন্মসনদ ও জাল কাগজের মাধ্যমে স্কুলের অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) পদে নিয়োগ দিয়েছেন এক প্রধান শিক্ষক। চাঞ্চল্যকর এই জালিয়াতির ঘটনাটি ঘটেছে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের পরমানন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো: আসাদুজ্জামান তার ছেলে আবরার ফাইয়াজ প্রশ্নের বয়স বাড়িয়ে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। শুধু তাই নয়, নিয়োগ বোর্ডের সকল সদস্যের সই জাল করে শিক্ষা বোর্ডে এমপিওভুক্তির আবেদনও পাঠান তিনি।

যেভাবে ধরা পড়লো জালিয়াতি

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের ছেলে আবরার ফাইয়াজ পরমানন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়েরই অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। ইউনিয়ন পরিষদের রেকর্ড ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী ফাইয়াজের জন্ম তারিখ ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১১। সেই হিসেবে তার বর্তমান বয়স মাত্র ১৫ বছর।

প্যানেল চেয়ারম্যান মো: সিদ্দিকুর রহমান এবং পরমানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: ওয়াজেদ মোল্যা নিশ্চিত করেছেন যে, ফাইয়াজের প্রকৃত বয়স গোপন করে ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করা হয়েছিল।

প্রধান শিক্ষকের স্বীকারোক্তি ও প্রশাসনের ব্যবস্থা

জালিয়াতির বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়োগটি স্থগিত করা হয়। পরে শিক্ষা বোর্ড থেকে নিয়োগটি স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো: আসাদুজ্জামান সরদার নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন।

ফরিদপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: ইকবাল হাসান জানান:

“বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাকে অফিশিয়াল শাস্তির আওতায় আনতে প্রশাসন কাজ করছে।”

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া এ বিষয়ে বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা নিয়োগটি স্থগিত করি। পরবর্তীতে শিক্ষা বোর্ড এটি বাতিল করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শিক্ষা বিভাগে তোলপাড়

একই স্কুলের ছাত্রকে দপ্তরি পদে নিয়োগ দেওয়া এবং সেই ছাত্রটি প্রধান শিক্ষকের নিজের ছেলে হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার এই অপচেষ্টাকে শিক্ষা খাতের জন্য চরম অবমাননাকর হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

পরমানন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়

ফরিদপুরে নাবালক ছেলের চাকরি বাগাতে প্রধান শিক্ষকের জালিয়াতি

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নে শিক্ষা বিভাগকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখিয়ে নিজের অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া নাবালক ছেলেকে ভুয়া জন্মসনদ ও জাল কাগজের মাধ্যমে স্কুলের অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) পদে নিয়োগ দিয়েছেন এক প্রধান শিক্ষক। চাঞ্চল্যকর এই জালিয়াতির ঘটনাটি ঘটেছে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের পরমানন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো: আসাদুজ্জামান তার ছেলে আবরার ফাইয়াজ প্রশ্নের বয়স বাড়িয়ে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। শুধু তাই নয়, নিয়োগ বোর্ডের সকল সদস্যের সই জাল করে শিক্ষা বোর্ডে এমপিওভুক্তির আবেদনও পাঠান তিনি।

যেভাবে ধরা পড়লো জালিয়াতি

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের ছেলে আবরার ফাইয়াজ পরমানন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়েরই অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। ইউনিয়ন পরিষদের রেকর্ড ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী ফাইয়াজের জন্ম তারিখ ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১১। সেই হিসেবে তার বর্তমান বয়স মাত্র ১৫ বছর।

প্যানেল চেয়ারম্যান মো: সিদ্দিকুর রহমান এবং পরমানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: ওয়াজেদ মোল্যা নিশ্চিত করেছেন যে, ফাইয়াজের প্রকৃত বয়স গোপন করে ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করা হয়েছিল।

প্রধান শিক্ষকের স্বীকারোক্তি ও প্রশাসনের ব্যবস্থা

জালিয়াতির বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়োগটি স্থগিত করা হয়। পরে শিক্ষা বোর্ড থেকে নিয়োগটি স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো: আসাদুজ্জামান সরদার নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন।

ফরিদপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: ইকবাল হাসান জানান:

“বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাকে অফিশিয়াল শাস্তির আওতায় আনতে প্রশাসন কাজ করছে।”

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া এ বিষয়ে বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা নিয়োগটি স্থগিত করি। পরবর্তীতে শিক্ষা বোর্ড এটি বাতিল করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শিক্ষা বিভাগে তোলপাড়

একই স্কুলের ছাত্রকে দপ্তরি পদে নিয়োগ দেওয়া এবং সেই ছাত্রটি প্রধান শিক্ষকের নিজের ছেলে হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার এই অপচেষ্টাকে শিক্ষা খাতের জন্য চরম অবমাননাকর হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।