সারা দেশে শুরু হচ্ছে বিশেষ অভিযান
- আপডেট সময় : ০৬:৪৬:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 149
সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র, লুণ্ঠিত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করতে সরাসরি মাঠে নামছে সরকার। তবে কেবল নিছক অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের পারফরম্যান্স মেপে দেখতে স্পষ্ট ‘ডেডলাইন’ বা সময়সীমা বেঁধে দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে অপরাধ দমনে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে না পারলে অকম্পিত হস্তে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সাফ বার্তা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা’ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সব কথা জানান।
কৌশলগত বিশেষ অভিযান ও চরম আলটিমেটাম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশজুড়ে অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি মাদক চোরাচালান, সন্ত্রাসী গ্যাং এবং চাঁদাবাজদের শিকড় উপড়ে ফেলতে অবিলম্বে বিশেষ অভিযান চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানে প্রত্যক্ষ সহায়তা দেবে দেশের সবকটি বড় গোয়েন্দা সংস্থা।
মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট ও কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন—
“সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ‘ইন্টেলিজেন্স সাপোর্ট’ নিয়ে ইতিমধ্যে স্ট্র্যাটেজিক কাজ শুরু হয়েছে এবং অভিযানগুলো গতিশীল করতে কিছু গোপন কৌশলও প্রণয়ন করা হয়েছে, যা নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকাশ্যে আনা যাচ্ছে না। লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্রের তথ্য প্রদানকারীদের জন্য সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ পুরষ্কারের সংশোধিত ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
নীতিনির্ধারকদের উপস্থিতি ও মতবিনিময়
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অপরাধ পর্যালোচনা সভায় আইনশৃঙ্খলার বর্তমান চিত্র বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে ডিআইজি, সকল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও জেলা পুলিশ সুপাররা (এসপি) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে মাঠপর্যায়ের কাজের চ্যালেঞ্জ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ঘাটতি তুলে ধরেন। মন্ত্রী ধৈর্য সহকারে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং অপরাধ নির্মূলে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।













