ঢাকা ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সালিশ প্রত্যাখ্যান করে হুমকি: ফরিদপুরে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:৪০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 120

আবহমান গ্রামবাংলায় ঘরের পোষা মুরগি হাঁস-মুরগির প্রতিবেশী বাড়িতে যাওয়া অতি সাধারণ এক দৃশ্য। কিন্তু সেই সামান্য পোষা দুটি মুরগিকে কেন্দ্র করে যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত ঘটবে এবং শেষপর্যন্ত এক গৃহবধূকে প্রাণ দিতে হবে—তা কল্পনারও অতীত ছিল!

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের তুগোলদিয়া গ্রামে ঘটেছে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক ঘটনা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর নিজ বসতঘরের টয়লেট থেকে ডালিম বেগম (৪০) নামের দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে সালথা থানা পুলিশ। নিহত ডালিম বেগম এলাকার দরিদ্র ভ্যানচালক আব্দুল মোল্যার স্ত্রী।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, প্রায় মাসখানেক আগে ডালিম বেগমের পোষা মুরগি প্রতিবেশী কামরুল মোল্যার বাড়িতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষিপ্ত হয়ে কামরুলের পরিবার বিষ খাইয়ে ও পিটিয়ে ডালিম বেগমের কয়েকটি পোষা মুরগি মেরে ফেলে। এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও কথা কাটাকাটি হলে ডালিম বেগম মরা মুরগি অন্য প্রতিবেশীদের দেখিয়ে বিচারের দাবি তোলেন এবং গ্রামে সালিশ ডাকার কথা হয়।

উঠানে যাওয়া নিয়ে পিটুনি, সালিশ প্রত্যাখ্যান

ঘটনা চরম আকার ধারণ করে গত বুধবার বিকেলে। অসুস্থ আরেক প্রতিবেশী বকুল মোল্যাকে দেখতে কামরুল মোল্যার উঠান দিয়ে যাচ্ছিলেন ডালিম বেগম। এ সময় কামরুল মোল্যা (৪০), তাঁর ভাবি কল্পনা বেগম (৪৫) এবং ভাতিজা ইমামুল মোল্যা (২৪) একজোট হয়ে ডালিম বেগমের ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।

ঘটনাটি মিমাংসার জন্য ওই দিন সন্ধ্যায় স্থানীয় মাতব্বররা সালিশ বৈঠকে বসলেও অভিযুক্ত কামরুল ও তাঁর পরিবার সালিশের সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। চরম অপমানিত ও আহত ডালিম বেগম তখন ঘোষণা দেন—বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বামী ভ্যানচালক আব্দুল মোল্যাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সরাসরি সালথা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেবেন।

থানায় অভিযোগের ঘোষণাই কি কাল হলো?

পরিবারের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ করার কথা শোনার পর থেকেই চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্ত কামরুল মোল্যার পরিবার। তাদের দাবি, পুলিশি ঝামেলা এড়াতে ও প্রতিশোধ নিতে বৃহস্পতিবার দিনের কোনো এক সময় ডালিম বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ বসতঘরের টয়লেটে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ঘরের টয়লেটে ডালিম বেগমের নিথর দেহ ঝুলতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত কামরুল মোল্যা, তাঁর ভাবি কল্পনা বেগম এবং ভাতিজা ইমামুল মোল্যা বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপন করেছেন। তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলোও বন্ধ পাওয়া গেছে।

ময়নাতদন্তে লাশ মর্গে, আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস পুলিশের

ঘটনার বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুলুর রহমান খান জানান, খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে থানায় নিয়ে আসে। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও জানান, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই স্পষ্ট হবে। লিখিত অভিযোগ সাপেক্ষে পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সালিশ প্রত্যাখ্যান করে হুমকি: ফরিদপুরে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৫:৪০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

আবহমান গ্রামবাংলায় ঘরের পোষা মুরগি হাঁস-মুরগির প্রতিবেশী বাড়িতে যাওয়া অতি সাধারণ এক দৃশ্য। কিন্তু সেই সামান্য পোষা দুটি মুরগিকে কেন্দ্র করে যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত ঘটবে এবং শেষপর্যন্ত এক গৃহবধূকে প্রাণ দিতে হবে—তা কল্পনারও অতীত ছিল!

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের তুগোলদিয়া গ্রামে ঘটেছে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক ঘটনা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর নিজ বসতঘরের টয়লেট থেকে ডালিম বেগম (৪০) নামের দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে সালথা থানা পুলিশ। নিহত ডালিম বেগম এলাকার দরিদ্র ভ্যানচালক আব্দুল মোল্যার স্ত্রী।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, প্রায় মাসখানেক আগে ডালিম বেগমের পোষা মুরগি প্রতিবেশী কামরুল মোল্যার বাড়িতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষিপ্ত হয়ে কামরুলের পরিবার বিষ খাইয়ে ও পিটিয়ে ডালিম বেগমের কয়েকটি পোষা মুরগি মেরে ফেলে। এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও কথা কাটাকাটি হলে ডালিম বেগম মরা মুরগি অন্য প্রতিবেশীদের দেখিয়ে বিচারের দাবি তোলেন এবং গ্রামে সালিশ ডাকার কথা হয়।

উঠানে যাওয়া নিয়ে পিটুনি, সালিশ প্রত্যাখ্যান

ঘটনা চরম আকার ধারণ করে গত বুধবার বিকেলে। অসুস্থ আরেক প্রতিবেশী বকুল মোল্যাকে দেখতে কামরুল মোল্যার উঠান দিয়ে যাচ্ছিলেন ডালিম বেগম। এ সময় কামরুল মোল্যা (৪০), তাঁর ভাবি কল্পনা বেগম (৪৫) এবং ভাতিজা ইমামুল মোল্যা (২৪) একজোট হয়ে ডালিম বেগমের ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।

ঘটনাটি মিমাংসার জন্য ওই দিন সন্ধ্যায় স্থানীয় মাতব্বররা সালিশ বৈঠকে বসলেও অভিযুক্ত কামরুল ও তাঁর পরিবার সালিশের সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। চরম অপমানিত ও আহত ডালিম বেগম তখন ঘোষণা দেন—বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বামী ভ্যানচালক আব্দুল মোল্যাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সরাসরি সালথা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেবেন।

থানায় অভিযোগের ঘোষণাই কি কাল হলো?

পরিবারের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ করার কথা শোনার পর থেকেই চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্ত কামরুল মোল্যার পরিবার। তাদের দাবি, পুলিশি ঝামেলা এড়াতে ও প্রতিশোধ নিতে বৃহস্পতিবার দিনের কোনো এক সময় ডালিম বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ বসতঘরের টয়লেটে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ঘরের টয়লেটে ডালিম বেগমের নিথর দেহ ঝুলতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত কামরুল মোল্যা, তাঁর ভাবি কল্পনা বেগম এবং ভাতিজা ইমামুল মোল্যা বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপন করেছেন। তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলোও বন্ধ পাওয়া গেছে।

ময়নাতদন্তে লাশ মর্গে, আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস পুলিশের

ঘটনার বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুলুর রহমান খান জানান, খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে থানায় নিয়ে আসে। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও জানান, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই স্পষ্ট হবে। লিখিত অভিযোগ সাপেক্ষে পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।