ঢাকা ০৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্ত্র-মাদক নিয়ে বাংলাদেশে ভারতীয় চক্র, বিজিবির অভিযানে গ্রেফতার ১

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:০০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 60

রাতের অন্ধকার আর দুর্গম সীমান্তকে ঢাল বানিয়ে বাংলাদেশে মরণনেশা মাদক ও প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের ভয়ঙ্কর ছক কষেছিল ভারতীয় এক চোরাচালান চক্র। তবে বিজিবির নজরদারি ও প্রখর প্রহরে গুঁড়িয়ে গেল সেই আস্ফালন! মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের ওপর গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। বিজিবির পাল্টা বুলেট ও দুঃসাহসিক ধাওয়ায় হাতেনাতে ধরা পড়েছে ভারতীয় এক দুর্ধর্ষ চোরাকারবারি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাতে বড়লেখা উপজেলার কুমারশাইল সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি)-এর বিশেষ টহলদল।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম বলাই নমশূদ্র (৩৫)। তিনি ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলার লাতু থানার গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা।

গুলিবর্ষণ ও পাল্টাধাওয়া: কুমারশাইল সীমান্তে তোলপাড়

বিজিবি সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রাতে ভারতীয় একটি আন্তর্জাতিক চোরাকারবারি চক্র সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকের বড় চালান নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে—এমন গোপন তথ্য আসে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের কাছে। খবর পাওয়া মাত্রই বিজিবির একটি বিশেষ কমান্ডো দল কুমারশাইল সীমান্তে অবস্থান নেয়।

সীমান্তরেখা পেরিয়ে চোরাকারবারিরা ভূখণ্ডে পা রাখতেই তাদের ঘিরে ফেলে বিজিবি। নিজেদের অবরুদ্ধ দেখে আচমকাই বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালাতে শুরু করে চোরাচালান চক্রটি। মুহূর্তের মধ্যে থমথমে হয়ে ওঠে সীমান্ত পরিস্থিতি। আত্মরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় তৎক্ষণাৎ পাল্টা গুলি ছুড়তে বাধ্য হন বিজিবি সদস্যরা।

দুই পক্ষের এই গোলাগুলির মাঝে চোরাকারবারিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে সীমান্তের ওপারে পালানোর মরিয়া চেষ্টা চালায়। কিন্তু বিজিবির ক্ষিপ্রতায় আহত অবস্থায় ধাওয়া করে কাবু করা হয় বলাই নমশূদ্রকে। পরবর্তীতে তাঁর দেহে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড .২২ বোরের তাজা গোলাবারুদ এবং ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।

বিজিবি ও পুলিশের বক্তব্য: চক্রান্তের শেকড় সন্ধানে তল্লাশি

ঘটনার বিষয়ে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন স্পষ্ট জানান—

“আটক ব্যক্তি সীমান্তবর্তী এক আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য। উদ্ধার হওয়া এই অস্ত্র ও মরণনেশা ইয়াবা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি ও সরবরাহের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। পলাতক অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সীমান্তে বিজিবির চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

পরবর্তীতে বিজিবি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে অভিযুক্ত ভারতীয় নাগরিককে অস্ত্র ও মাদকসহ বড়লেখা থানায় সোপর্দ করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান শুক্রবার বিকেলে জানান—

“বিজিবি পিস্তলসদৃশ অস্ত্র, দুই রাউন্ড গুলি ও ৫০০ পিস ইয়াবাসহ এক ভারতীয় নাগরিককে থানায় হস্তান্তর করেছে। বিজিবির দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে শুক্রবারে আদালতের মাধ্যমে আসামিকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।”

অস্ত্র-মাদক নিয়ে বাংলাদেশে ভারতীয় চক্র, বিজিবির অভিযানে গ্রেফতার ১

আপডেট সময় : ০৬:০০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

রাতের অন্ধকার আর দুর্গম সীমান্তকে ঢাল বানিয়ে বাংলাদেশে মরণনেশা মাদক ও প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের ভয়ঙ্কর ছক কষেছিল ভারতীয় এক চোরাচালান চক্র। তবে বিজিবির নজরদারি ও প্রখর প্রহরে গুঁড়িয়ে গেল সেই আস্ফালন! মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের ওপর গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। বিজিবির পাল্টা বুলেট ও দুঃসাহসিক ধাওয়ায় হাতেনাতে ধরা পড়েছে ভারতীয় এক দুর্ধর্ষ চোরাকারবারি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাতে বড়লেখা উপজেলার কুমারশাইল সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি)-এর বিশেষ টহলদল।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম বলাই নমশূদ্র (৩৫)। তিনি ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলার লাতু থানার গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা।

গুলিবর্ষণ ও পাল্টাধাওয়া: কুমারশাইল সীমান্তে তোলপাড়

বিজিবি সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রাতে ভারতীয় একটি আন্তর্জাতিক চোরাকারবারি চক্র সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকের বড় চালান নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে—এমন গোপন তথ্য আসে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের কাছে। খবর পাওয়া মাত্রই বিজিবির একটি বিশেষ কমান্ডো দল কুমারশাইল সীমান্তে অবস্থান নেয়।

সীমান্তরেখা পেরিয়ে চোরাকারবারিরা ভূখণ্ডে পা রাখতেই তাদের ঘিরে ফেলে বিজিবি। নিজেদের অবরুদ্ধ দেখে আচমকাই বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালাতে শুরু করে চোরাচালান চক্রটি। মুহূর্তের মধ্যে থমথমে হয়ে ওঠে সীমান্ত পরিস্থিতি। আত্মরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় তৎক্ষণাৎ পাল্টা গুলি ছুড়তে বাধ্য হন বিজিবি সদস্যরা।

দুই পক্ষের এই গোলাগুলির মাঝে চোরাকারবারিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে সীমান্তের ওপারে পালানোর মরিয়া চেষ্টা চালায়। কিন্তু বিজিবির ক্ষিপ্রতায় আহত অবস্থায় ধাওয়া করে কাবু করা হয় বলাই নমশূদ্রকে। পরবর্তীতে তাঁর দেহে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড .২২ বোরের তাজা গোলাবারুদ এবং ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।

বিজিবি ও পুলিশের বক্তব্য: চক্রান্তের শেকড় সন্ধানে তল্লাশি

ঘটনার বিষয়ে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন স্পষ্ট জানান—

“আটক ব্যক্তি সীমান্তবর্তী এক আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য। উদ্ধার হওয়া এই অস্ত্র ও মরণনেশা ইয়াবা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি ও সরবরাহের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। পলাতক অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সীমান্তে বিজিবির চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

পরবর্তীতে বিজিবি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে অভিযুক্ত ভারতীয় নাগরিককে অস্ত্র ও মাদকসহ বড়লেখা থানায় সোপর্দ করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান শুক্রবার বিকেলে জানান—

“বিজিবি পিস্তলসদৃশ অস্ত্র, দুই রাউন্ড গুলি ও ৫০০ পিস ইয়াবাসহ এক ভারতীয় নাগরিককে থানায় হস্তান্তর করেছে। বিজিবির দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে শুক্রবারে আদালতের মাধ্যমে আসামিকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।”