ফরিদপুরে ইসলামী আন্দোলন নেতার নাম যুবলীগের কমিটিতে
- আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / 89
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের তকমা গায়ে লাগতেই যেন হুলুস্থুল কাণ্ড! রাতারাতি ঘোষিত যুবলীগের নতুন কমিটিতে একেবারে ‘ধর্মবিষয়ক সম্পাদক’ বানিয়ে দেওয়া হলো চরমোনাই পন্থী সমমনা এক দলের স্থানীয় সভাপতিকে! বিষয়টি জানাজানি হতেই চোখ কপালে ওঠার দশা। শেষমেশ প্রেস ক্লাবে মাইক হাতে দাঁড়িয়ে নিজের মান বাঁচাতে সংবাদ সম্মেলন করে সাফ জানিয়ে দিলেন—”এই পদের সঙ্গে আমার দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই!”
ফরিদপুরের সালথায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী যুবলীগের সদ্যঘোষিত কমিটিতে ধর্মবিষয়ক সম্পাদক পদে নাম আসাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যে নামটিকে ঘিরে এত কাণ্ড, সেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সালথার যদুনন্দী ইউনিয়ন শাখার সভাপতি এস এম মঞ্জুরুল ইসলাম নিজেই এই পদ পাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে সালথা প্রেস ক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।
‘আমার সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সম্মতিই নেওয়া হয়নি’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এস এম মঞ্জুরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সম্প্রতি সালথা উপজেলা যুবলীগের যে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, তার ধর্মবিষয়ক সম্পাদক পদে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, এটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি এই পদ গ্রহণ তো দূরের কথা, এ বিষয়ে কেউ আমার সঙ্গে বিন্দুমাত্র আলোচনাও করেনি।”
তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কিংবা এর অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে তাঁর ন্যূনতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং ভবিষ্যতেও প্রশ্নই আসে না। তিনি বহু দিন ধরে আদর্শগতভাবে ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন এবং আমৃত্যু এই আদর্শেই অবিচল থাকবেন।
জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে এই সংবাদ সম্মেলন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের বানোয়াট নাম যুক্ত করায় সাধারণ মানুষের মনে এবং তাঁর রাজনৈতিক মহলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে, যা তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করছে। তাই তিনি এই জগাখিচুড়ি কমিটির তালিকা থেকে অবিলম্বে নিজের নাম বাদ দেওয়ার জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তাঁর সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের স্থানীয় বহু নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
পলাতক জেলা নেতারা, মেলেনি কোনো বক্তব্য
এ বিষয়ে সালথা যুবলীগের নতুন কমিটি গঠনের নেপথ্যে থাকা ফরিদপুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জিয়াউল হাসান মিঠু এবং যুগ্ম আহ্বায়ক খান মো. শাহ সুলতান রাহাতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তাঁরা আত্মগোপনে বা পলাতক থাকায় তাঁদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।















