ঢাকা ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে জামায়াত কর্মীদের বাড়ি হামলা : ঘুমন্ত শিশুসহ আহত ৩

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৯:৪২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 541

ফরিদপুর সদর উপজেলার শহরতলীর বাখুন্ডা এলাকায় জামায়াত কর্মীদের বাড়ি ও দোকানে হামলা, ভাঙচুর এবং মারধরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে তারাবির নামাজ শেষে সংঘবদ্ধ হামলায় এক শিশুসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শনিবার সকালে ফরিদপুর জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতারা হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।

হামলার বর্ণনা ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, শুক্রবার রাতে বাখুন্ডা রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী এই তাণ্ডব চালায়। হামলাকারীরা কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করার পাশাপাশি জামায়াত কর্মী আলমগীর হোসেন ও সজিবের বাড়িতে ব্যাপক হামলা চালায়।

সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে ভাঙচুরের সময়; জানালার কাচ ভেঙে সজিবের ঘুমন্ত সন্তানের ওপর পড়লে শিশুটি কানে আঘাত পায়। এছাড়া আলমগীর হোসেনের ভাই আজিজুলকে ফসলের জমিতে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে, বর্তমানে তিনি গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ইউপি সদস্যের বক্তব্য ও পুলিশের অবস্থান

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রাসেদ খান মিলন হামলার দায় অস্বীকার করে বলেন, “জুয়েল নামে এক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণ্ডগোল শুরু হয়েছিল। আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছি মাত্র।”

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান:

“খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

সংসদ সদস্যের সাথে জামায়াত নেতার আলাপ

ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব স্থানীয় সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদের সাথে টেলিফোনে কথা বলেন। তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা এড়াতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। সংসদ সদস্য বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. বদরউদ্দিনসহ জেলা ও থানার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এলাকায় নতুন করে সহিংসতা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশি সতর্ক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ফরিদপুরে জামায়াত কর্মীদের বাড়ি হামলা : ঘুমন্ত শিশুসহ আহত ৩

আপডেট সময় : ০৯:৪২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুর সদর উপজেলার শহরতলীর বাখুন্ডা এলাকায় জামায়াত কর্মীদের বাড়ি ও দোকানে হামলা, ভাঙচুর এবং মারধরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে তারাবির নামাজ শেষে সংঘবদ্ধ হামলায় এক শিশুসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শনিবার সকালে ফরিদপুর জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতারা হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।

হামলার বর্ণনা ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, শুক্রবার রাতে বাখুন্ডা রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী এই তাণ্ডব চালায়। হামলাকারীরা কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করার পাশাপাশি জামায়াত কর্মী আলমগীর হোসেন ও সজিবের বাড়িতে ব্যাপক হামলা চালায়।

সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে ভাঙচুরের সময়; জানালার কাচ ভেঙে সজিবের ঘুমন্ত সন্তানের ওপর পড়লে শিশুটি কানে আঘাত পায়। এছাড়া আলমগীর হোসেনের ভাই আজিজুলকে ফসলের জমিতে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে, বর্তমানে তিনি গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ইউপি সদস্যের বক্তব্য ও পুলিশের অবস্থান

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রাসেদ খান মিলন হামলার দায় অস্বীকার করে বলেন, “জুয়েল নামে এক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণ্ডগোল শুরু হয়েছিল। আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছি মাত্র।”

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান:

“খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

সংসদ সদস্যের সাথে জামায়াত নেতার আলাপ

ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব স্থানীয় সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদের সাথে টেলিফোনে কথা বলেন। তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা এড়াতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। সংসদ সদস্য বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. বদরউদ্দিনসহ জেলা ও থানার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এলাকায় নতুন করে সহিংসতা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশি সতর্ক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।