ঢাকা ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেন আ.লীগ নেতা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:০৭:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
  • / 349

বগুড়ার কাহালুতে যুবদল নেতা সোয়েব সরকার রাহুল (২৮) হত্যারহস্য উন্মোচিত হয়েছে। পুকুর দখল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জামিল হোসেন (৪৫) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা কাহালু থানার এসআই মাসুদ করিম শুক্রবার বিকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আদালতের নির্দেশে অভিযুক্ত জামিল হোসেনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

হত্যার নেপথ্যে: পুকুর দখলের বিরোধ

নিহত সোয়েব সরকার রাহুল ছিলেন বগুড়া শহর যুবদলের ১৩নং ওয়ার্ড শাখার সভাপতি। অন্যদিকে অভিযুক্ত জামিল হোসেন কাহালু ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। হত্যাকাণ্ডটির মূল কারণ ছিল একটি ওয়াকফ স্টেটের পুকুর দখল।

বিবাদের সূত্রপাত: কাহালু উপজেলার মালঞ্চা ইউনিয়নের একটি পুকুর দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ নেতা জামিল হোসেনের দখলে ছিল (লিজ নেওয়া)।

দখল ও সংঘাত: গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জামিল হোসেন আত্মগোপন করলে যুবদল নেতা রাহুল গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে পুকুরটি দখলে নেন এবং সেখানে মাছ চাষ শুরু করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়, যা থানা ও আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

যেভাবে ঘটল নৃশংস হত্যাকাণ্ড

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টার দিকে রাহুল গ্রামে এসে হুইল বড়শি দিয়ে ওই বিতর্কিত পুকুরে মাছ ধরছিলেন।

হামলা: এ সময় দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ৮-১০ জনের একদল সন্ত্রাসী সেখানে আসে এবং রাহুলের ওপর হামলা চালায়।

হত্যা: রাহুল আত্মরক্ষার্থে পাশের একটি ফাঁকা বাড়িতে ঢুকে পড়লে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর মরদেহ বাড়ির বাইরে এনে ফেলে পালিয়ে যায়।

নিহত রাহুলের মা হাবিবা আকতার বাদী হয়ে জামিল হোসেনসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে কাহালু থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আসামির স্বীকারোক্তি ও বিচারিক প্রক্রিয়া

ঘটনার দিন রাতেই ডিবি পুলিশ ঢাকার উদ্দেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কাশিয়াডাঙ্গা এলাকা থেকে জামিল হোসেনকে গ্রেফতার করে।

স্বীকারোক্তি: প্রথমদিকে জামিল স্বীকারোক্তি দিতে অস্বীকার করলেও, দুই দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. শারমিন খাতুনের আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

স্বীকারের কারণ: জবানবন্দিতে জামিল জানান, তাঁর ইজারা নেওয়া পুকুর রাহুল দখল করে মাছ ধরতে আসায় বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে সঙ্গীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, পুকুর দখল নিয়ে বিরোধেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আসামি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেন আ.লীগ নেতা

আপডেট সময় : ০৮:০৭:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

বগুড়ার কাহালুতে যুবদল নেতা সোয়েব সরকার রাহুল (২৮) হত্যারহস্য উন্মোচিত হয়েছে। পুকুর দখল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জামিল হোসেন (৪৫) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা কাহালু থানার এসআই মাসুদ করিম শুক্রবার বিকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আদালতের নির্দেশে অভিযুক্ত জামিল হোসেনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

হত্যার নেপথ্যে: পুকুর দখলের বিরোধ

নিহত সোয়েব সরকার রাহুল ছিলেন বগুড়া শহর যুবদলের ১৩নং ওয়ার্ড শাখার সভাপতি। অন্যদিকে অভিযুক্ত জামিল হোসেন কাহালু ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। হত্যাকাণ্ডটির মূল কারণ ছিল একটি ওয়াকফ স্টেটের পুকুর দখল।

বিবাদের সূত্রপাত: কাহালু উপজেলার মালঞ্চা ইউনিয়নের একটি পুকুর দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ নেতা জামিল হোসেনের দখলে ছিল (লিজ নেওয়া)।

দখল ও সংঘাত: গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জামিল হোসেন আত্মগোপন করলে যুবদল নেতা রাহুল গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে পুকুরটি দখলে নেন এবং সেখানে মাছ চাষ শুরু করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়, যা থানা ও আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

যেভাবে ঘটল নৃশংস হত্যাকাণ্ড

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টার দিকে রাহুল গ্রামে এসে হুইল বড়শি দিয়ে ওই বিতর্কিত পুকুরে মাছ ধরছিলেন।

হামলা: এ সময় দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ৮-১০ জনের একদল সন্ত্রাসী সেখানে আসে এবং রাহুলের ওপর হামলা চালায়।

হত্যা: রাহুল আত্মরক্ষার্থে পাশের একটি ফাঁকা বাড়িতে ঢুকে পড়লে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর মরদেহ বাড়ির বাইরে এনে ফেলে পালিয়ে যায়।

নিহত রাহুলের মা হাবিবা আকতার বাদী হয়ে জামিল হোসেনসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে কাহালু থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আসামির স্বীকারোক্তি ও বিচারিক প্রক্রিয়া

ঘটনার দিন রাতেই ডিবি পুলিশ ঢাকার উদ্দেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কাশিয়াডাঙ্গা এলাকা থেকে জামিল হোসেনকে গ্রেফতার করে।

স্বীকারোক্তি: প্রথমদিকে জামিল স্বীকারোক্তি দিতে অস্বীকার করলেও, দুই দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. শারমিন খাতুনের আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

স্বীকারের কারণ: জবানবন্দিতে জামিল জানান, তাঁর ইজারা নেওয়া পুকুর রাহুল দখল করে মাছ ধরতে আসায় বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে সঙ্গীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, পুকুর দখল নিয়ে বিরোধেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আসামি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।