ঢাকা ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৃত্যুর ফাঁদ ফরিদপুরের কাফুরা রেলক্রসিং: টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 133

ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের কাফুরা রেলক্রসিংটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই ক্রসিংয়ে নেই কোনো লেভেল ক্রসিং গেট বা গেটম্যান। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও রেল কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

স্মৃতিতে এখনো তাজা সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা:

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি এই কাফুরা রেলক্রসিংয়েই এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ট্রেন ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হন। সেই সময় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসটি প্রায় ৫০ গজ দূরে পুকুরে ছিটকে পড়েছিল। দুর্ঘটনার পর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একাধিকবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন মেলেনি।

সরেজমিন চিত্র:

সরেজমিনে দেখা গেছে, ট্রেন আসার সময় কোনো সতর্কবার্তা বা ব্যারিয়ার না থাকায় যানবাহনগুলো হঠাৎ করেই রেললাইনে উঠে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ওহিদুল ফকির ও অটোরিকশা চালক হামিদ শরীফ জানান, প্রতিনিয়ত ভয়ে তারা রাস্তা পার হন। ট্রেন আসার কোনো নির্দিষ্ট সঙ্কেত না থাকায় যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রম:

নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। চা দোকানদার হেলাল বেপারি জানান, ট্রেন আসার সময় তারা নিজেরাই রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেন। ঝালমুড়ি বিক্রেতা রফিক মোল্যা ও চটপটি বিক্রেতা হায়দার মন্ডল বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এখান দিয়ে চলাচল করলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা অত্যন্ত দুঃখজনক।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

এ বিষয়ে ফরিদপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার প্রহলাদ বিশ্বাস জানান, গেটম্যান নিয়োগ ও রেলক্রসিং রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন। তবে স্থানীয়রা দ্রুত এখানে স্থায়ী গেট ও গেটম্যান নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

মৃত্যুর ফাঁদ ফরিদপুরের কাফুরা রেলক্রসিং: টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের কাফুরা রেলক্রসিংটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই ক্রসিংয়ে নেই কোনো লেভেল ক্রসিং গেট বা গেটম্যান। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও রেল কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

স্মৃতিতে এখনো তাজা সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা:

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি এই কাফুরা রেলক্রসিংয়েই এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ট্রেন ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হন। সেই সময় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসটি প্রায় ৫০ গজ দূরে পুকুরে ছিটকে পড়েছিল। দুর্ঘটনার পর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একাধিকবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন মেলেনি।

সরেজমিন চিত্র:

সরেজমিনে দেখা গেছে, ট্রেন আসার সময় কোনো সতর্কবার্তা বা ব্যারিয়ার না থাকায় যানবাহনগুলো হঠাৎ করেই রেললাইনে উঠে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ওহিদুল ফকির ও অটোরিকশা চালক হামিদ শরীফ জানান, প্রতিনিয়ত ভয়ে তারা রাস্তা পার হন। ট্রেন আসার কোনো নির্দিষ্ট সঙ্কেত না থাকায় যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রম:

নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। চা দোকানদার হেলাল বেপারি জানান, ট্রেন আসার সময় তারা নিজেরাই রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেন। ঝালমুড়ি বিক্রেতা রফিক মোল্যা ও চটপটি বিক্রেতা হায়দার মন্ডল বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এখান দিয়ে চলাচল করলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা অত্যন্ত দুঃখজনক।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

এ বিষয়ে ফরিদপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার প্রহলাদ বিশ্বাস জানান, গেটম্যান নিয়োগ ও রেলক্রসিং রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন। তবে স্থানীয়রা দ্রুত এখানে স্থায়ী গেট ও গেটম্যান নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।