ঢাকা ০৭:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাক্ষী দেওয়ায় চরম প্রতিশোধ: ফরিদপুরে যুবকের হাত-পা কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০১:২৭:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 518

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হায়দার মুন্সি (৩৫) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। এ সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা ছোট ভাই সুজন মুন্সিকেও (২৬) কুপিয়ে জখম করা হয়। বর্তমানে তারা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:

শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের ফাযিলখাঁর ডাঙ্গী গ্রামে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা ওই এলাকার মৃত ধলা মুন্সির ছেলে।

পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের কালাম মণ্ডলের সাথে হায়দার মুন্সির দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। প্রায় তিন বছর আগে একটি মারামারির মামলায় কালামের পক্ষে সাক্ষী না দেওয়ায় হায়দারের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল সে। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে হায়দারকে ডেকে নিয়ে কালাম ও তার সহযোগীরা চাপাতি ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে রেখে যায়।

ভয়াল সেই মুহূর্তের বর্ণনা:

আহত সুজন মুন্সি জানান, তার ভাই সত্য সাক্ষী দেওয়ায় আসামিদের সাজা হয়েছিল, সেই থেকেই কালাম মাদক ব্যবসার প্রভাব খাটিয়ে হুমকি দিচ্ছিল। শনিবার রাতে হায়দারকে একা পেয়ে তারা আক্রমণ করে। সুজন বলেন, “আমার ভাই জীবন বাঁচাতে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলেও সেখান থেকে টেনে বের করে কুপিয়ে হাত-পা কেটে ফেলা হয়েছে।”

এদিকে হাসপাতালের বারান্দায় মা নিলু খাতুনের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার ছেলের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

চিকিৎসক ও পুলিশের বক্তব্য:

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. রশিদ জানান, হায়দার মুন্সির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তার একটি হাত ও একটি পা প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই নৃশংস ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে পুলিশি অভিযান চলছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

সাক্ষী দেওয়ায় চরম প্রতিশোধ: ফরিদপুরে যুবকের হাত-পা কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন

আপডেট সময় : ০১:২৭:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হায়দার মুন্সি (৩৫) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। এ সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা ছোট ভাই সুজন মুন্সিকেও (২৬) কুপিয়ে জখম করা হয়। বর্তমানে তারা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:

শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের ফাযিলখাঁর ডাঙ্গী গ্রামে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা ওই এলাকার মৃত ধলা মুন্সির ছেলে।

পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের কালাম মণ্ডলের সাথে হায়দার মুন্সির দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। প্রায় তিন বছর আগে একটি মারামারির মামলায় কালামের পক্ষে সাক্ষী না দেওয়ায় হায়দারের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল সে। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে হায়দারকে ডেকে নিয়ে কালাম ও তার সহযোগীরা চাপাতি ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে রেখে যায়।

ভয়াল সেই মুহূর্তের বর্ণনা:

আহত সুজন মুন্সি জানান, তার ভাই সত্য সাক্ষী দেওয়ায় আসামিদের সাজা হয়েছিল, সেই থেকেই কালাম মাদক ব্যবসার প্রভাব খাটিয়ে হুমকি দিচ্ছিল। শনিবার রাতে হায়দারকে একা পেয়ে তারা আক্রমণ করে। সুজন বলেন, “আমার ভাই জীবন বাঁচাতে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলেও সেখান থেকে টেনে বের করে কুপিয়ে হাত-পা কেটে ফেলা হয়েছে।”

এদিকে হাসপাতালের বারান্দায় মা নিলু খাতুনের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার ছেলের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

চিকিৎসক ও পুলিশের বক্তব্য:

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. রশিদ জানান, হায়দার মুন্সির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তার একটি হাত ও একটি পা প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই নৃশংস ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে পুলিশি অভিযান চলছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”