হাসপাতালে ঢুকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটালেন ছাত্রদল নেতা
- আপডেট সময় : ০৫:০৩:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 98
চিকিৎসাধীন এক নেতার ওপর খোদ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে ঢুকে পৈশাচিক কায়দায় হামলা চালাল প্রতিপক্ষ! মোবাইল কেনাবেচার তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি কক্ষে ঢুকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে ও লাথি মেরে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি রোমহর্ষক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গোটা জেলায় শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক শোরগোল।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কক্ষে ঢুকে জুয়েল হোসেন নিরব (২৮) নামের এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখমের লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত প্রধান হামলাকারী হিসেবে উঠে এসেছে শাহেদ নামের এক স্থানীয় ছাত্রদল নেতার নাম। হাসপাতালের মতো একটি সেবামূলক ও পবিত্র স্থানে এমন নজিরবিহীন মারামারির দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় বন্দি হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
আহত জুয়েল হোসেন নিরব লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত শাহেদ দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক ক্লাস কমিটির নেতা এবং পৌর ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত।
মোবাইল কেনাবেচা থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মোবাইল কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে শাহেদ ও জুয়েল পক্ষের লোকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই মারামারিতে আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে সদর হাসপাতালে আসেন জুয়েল।
কিন্তু ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে প্রতিপক্ষ। চিকিৎসা নেওয়ার সময় শাহেদ ও তার অনুসারীরা দলবেঁধে হাসপাতালের সামনে এসে জুয়েলের ওপর চড়াও হয়। জীবন বাঁচাতে জুয়েল দৌড়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের (ইমার্জেন্সি) ভেতরে গিয়ে আশ্রয় নেন। কিন্তু ঘাতকরা পিছু ছাড়েনি। জরুরি কক্ষের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে শাহেদ ও তার অনুসারীরা চেয়ার দিয়ে জুয়েলকে বেধড়ক পিটুনি দেয়। এ সময় তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে ফ্লোরে ফেলে রক্তাক্ত জখম করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় জুয়েলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
আতঙ্কে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা
হাসপাতালের ভেতরে এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় চিকিৎসাসেবা দিতে আসা চিকিৎসক, নার্স ও সাধারণ রোগীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) অরুপ পাল চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে জানান, “হাসপাতালের মতো জায়গায় ঢুকে এভাবে হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। পুরো ঘটনার দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধারণ হয়েছে। আমরা বিষয়টি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। এই ঘটনায় আমাদের চিকিৎসক ও কর্মচারীরাও চরম আতঙ্কের মধ্যে আছেন।”
সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি ও পুলিশের বক্তব্য
ঘটনার পর অভিযুক্ত শাহেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বারাকাত সৌরভ ও সদস্য সচিব হাসিবুর রহমান অভি যৌথভাবে জানান, অভিযুক্ত শাহেদ অতীতে কলেজ ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে তার কোনো নির্দিষ্ট পদ-পদবি নেই। তবে তিনি পৌর ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন। তার এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, “ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”















