সন্ত্রাসীদের বাধা ও ভয়ভীতি: ফরিদপুরের টেন্ডার নিয়ে তোলপাড়
- আপডেট সময় : ১২:১৫:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 528
ফরিদপুর শহরের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ইজারা দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে চরম বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জেল ফেরত সন্ত্রাসী ও একদল দুষ্কৃতিকারীর ভয়ভীতি ও বাধার মুখে অন্তত ছয়জন ঠিকাদার তাদের দরপত্র জমা দিতে পারেননি। এই ঘটনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
৪৭ জন সিডিউল নিলেও জমা পড়েনি অনেকের
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাজারের ইজারা নিতে মোট ৪৭ জন আগ্রহী ঠিকাদার সিডিউল ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দরপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত দিনে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের পথে বাধা সৃষ্টি করা হয় এবং সন্ত্রাসীদের হুমকির কারণে তারা নির্ধারিত বাক্সে দরপত্র ড্রপ করতে ব্যর্থ হন।
গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া অভিযোগে মোহাম্মদ শাহিন মন্ডল, আতাউর রশিদ (বাচ্চু), মিজানুর রহমান চৌধুরী ও লিয়াকত আলী খানসহ বেশ কয়েকজন ঠিকাদার উল্লেখ করেন যে, সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায় তারা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি।
বর্তমান ইজারাদারের দাবি ও ক্ষোভ
বাজারের বর্তমান ইজারাদার লিয়াকত আলী খান (লাভলু) নিজেও দরপত্র জমা দিতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন:
“আমি বৈধভাবে বাজারের বর্তমান ইজারাদার হিসেবে নিয়ম মেনেই অংশ নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সন্ত্রাসীদের বাধার মুখে ভীত হয়ে আমাকে ফিরে আসতে হয়েছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি—সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হোক।”
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. সোহরাব হোসেন জানান, যারা দরপত্র জমা দিয়েছেন তারা নিয়ম মেনেই তা করেছেন। যারা অভিযোগ করছেন, তারা নির্ধারিত সময়ে বিষয়টি জানাননি। তবে দরপত্রগুলো এখন মূল্যায়ন কমিটির কাছে পাঠানো হবে এবং তারাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
রাজস্ব হারানোর শঙ্কা
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ইজারা প্রক্রিয়ায় যদি সিন্ডিকেট বা সন্ত্রাসী প্রভাব থাকে, তবে সরকার বড় অংকের রাজস্ব হারাবে। প্রকৃত প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচন করা সম্ভব, যা প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা ছাড়া সম্ভব নয়। এখন জেলা প্রশাসন ঠিকাদারদের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন শহরবাসী।




















