ঢাকা ১০:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষক লীগ নেতাকে থানা থেকে ছাড়াতে এসে জামায়াত-বিএনপি নেতাসহ আটক ৮

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:২৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 204

রাজনীতির মারপ্যাঁচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীরা যেখানে মুখোমুখি, সেখানে কুষ্টিয়ার মিরপুরে দেখা গেল এক অবিশ্বাস্য ও নাটকমীয় দৃশ্যপট! নাশকতার মামলায় গ্রেফতার হওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন কৃষক লীগের এক স্থানীয় সভাপতিকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে মধ্যরাতে থানায় হাজির হলেন জামায়াত ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে আসামিকে মুক্ত করা তো দূরের কথা, পুলিশের কাজে বাধা ও অযাচিত চাপের মুখে উল্টো পুলিশের হাতেই আটক হতে হলো তাঁদের!

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে ছাড়া পেয়েছেন আটক হওয়া সেই ৮ জন। এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে মিরপুর থানায় তাঁদের আটক করেছিল পুলিশ।

আটক ও পরবর্তীতে মুচলেকায় মুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম (৪৫), জামায়াত সমর্থক মারুফ, বাশার, মফিজুল প্রামাণিক, জাহাঙ্গীর হোসেন, বাদল প্রামাণিক এবং বিএনপি কর্মী মেহেরুল ইসলাম ও সমর্থক শহীদুল ইসলাম।

মধ্যরাতের থানা অভিযান ও অলৌকিক তদবির

মিরপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিথলিয়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে নাশকতা মামলার আসামি ও চিথলিয়া ইউনিয়ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ কৃষক লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

ঘটনার নাটকীয়তা শুরু হয় এর পর থেকেই। হাফিজকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাত দুইটার দিকে ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি দল হঠাৎ মিরপুর থানায় হাজির হয়। তারা পুলিশের কাছে গ্রেফতারকৃত কৃষক লীগ নেতা হাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য জোর সুপারিশ ও ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন—

“নিষেধ করার পরও তারা বারবার নাশকতা মামলার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি ও অন্যায্য তদবির করতে থাকেন। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে ও পুলিশের কাজে বিঘ্ন ঘটানোয় তাঁদেরকে আটক করা হয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয় এবং উভয় দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের জিম্মায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

কৃষক লীগ নেতাকে থানা থেকে ছাড়াতে এসে জামায়াত-বিএনপি নেতাসহ আটক ৮

আপডেট সময় : ০৯:২৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজনীতির মারপ্যাঁচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীরা যেখানে মুখোমুখি, সেখানে কুষ্টিয়ার মিরপুরে দেখা গেল এক অবিশ্বাস্য ও নাটকমীয় দৃশ্যপট! নাশকতার মামলায় গ্রেফতার হওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন কৃষক লীগের এক স্থানীয় সভাপতিকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে মধ্যরাতে থানায় হাজির হলেন জামায়াত ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে আসামিকে মুক্ত করা তো দূরের কথা, পুলিশের কাজে বাধা ও অযাচিত চাপের মুখে উল্টো পুলিশের হাতেই আটক হতে হলো তাঁদের!

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে ছাড়া পেয়েছেন আটক হওয়া সেই ৮ জন। এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে মিরপুর থানায় তাঁদের আটক করেছিল পুলিশ।

আটক ও পরবর্তীতে মুচলেকায় মুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম (৪৫), জামায়াত সমর্থক মারুফ, বাশার, মফিজুল প্রামাণিক, জাহাঙ্গীর হোসেন, বাদল প্রামাণিক এবং বিএনপি কর্মী মেহেরুল ইসলাম ও সমর্থক শহীদুল ইসলাম।

মধ্যরাতের থানা অভিযান ও অলৌকিক তদবির

মিরপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিথলিয়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে নাশকতা মামলার আসামি ও চিথলিয়া ইউনিয়ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ কৃষক লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

ঘটনার নাটকীয়তা শুরু হয় এর পর থেকেই। হাফিজকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাত দুইটার দিকে ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি দল হঠাৎ মিরপুর থানায় হাজির হয়। তারা পুলিশের কাছে গ্রেফতারকৃত কৃষক লীগ নেতা হাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য জোর সুপারিশ ও ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন—

“নিষেধ করার পরও তারা বারবার নাশকতা মামলার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি ও অন্যায্য তদবির করতে থাকেন। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে ও পুলিশের কাজে বিঘ্ন ঘটানোয় তাঁদেরকে আটক করা হয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয় এবং উভয় দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের জিম্মায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”