ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরের আড়িয়াল খাঁয় হানা: ২৪ লাখ টাকার জাল ছাই, আটক ৩

ইদ্রিস আলী জমাদার:
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 64

মা-ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদে চালানো হলো এক ঝটিকা ও সাঁড়াশি অভিযান। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নেমে অবৈধ জালের জাল বিছানোর অপরাধে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়েছে তিন অসাধু জেলেকে। ঘটনাস্থলেই বসানো ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের প্রত্যেককে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৪টা থেকে গভীর রাত ১১টা পর্যন্ত উপজেলার চরমানাইর, নারকেলবাড়িয়া ও চরনাসিরপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদের বিভিন্ন পয়েন্টে যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর ও সদরপুর থানা পুলিশ।

২৪ লাখ টাকার জাল ছাই, মাছ পেল এতিমখানা

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় ও মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৮০ হাজার মিটার ক্ষতিকারক অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া জালের আনুমানিক বাজারমূল্য অন্তত ২৪ লাখ টাকা!

অভিযান শেষে জব্দকৃত কারেন্ট জাল প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ভস্মীভূত করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ১০ কেজি তাজা ইলিশ মাছ স্থানীয় একটি এতিমখানার এতিম শিশুদের মাঝে বিতরণ করে দেওয়া হয়।

হাজতে যাওয়া তিন জেলে ও ভ্রাম্যমাণ আদালত

নদীতে ইলিশ শিকারের অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত তিন জেলে হলেন—সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের চরবলাসিয়া গ্রামের মো. রুবেল হোসেন (২৮), চরনাসিরপুর ইউনিয়নের কাড়ালকান্দি গ্রামের হিরন কাড়াল (৩৫) এবং একই ইউনিয়নের হালিম হাওলাদারকান্দি গ্রামের কুদ্দুস খালাসি (৪০)।

ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাঁদের মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০-এর আওতায় ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

অভিযান শেষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিন স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, “মা-ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় সরকার ঘোষিত ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আমরা বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না। নদীর বুকে এই ধরনের অভিযান ও নজরদারি দিন-রাত সমানভাবে অব্যাহত থাকবে।”

ফরিদপুরের আড়িয়াল খাঁয় হানা: ২৪ লাখ টাকার জাল ছাই, আটক ৩

আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

মা-ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদে চালানো হলো এক ঝটিকা ও সাঁড়াশি অভিযান। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নেমে অবৈধ জালের জাল বিছানোর অপরাধে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়েছে তিন অসাধু জেলেকে। ঘটনাস্থলেই বসানো ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের প্রত্যেককে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৪টা থেকে গভীর রাত ১১টা পর্যন্ত উপজেলার চরমানাইর, নারকেলবাড়িয়া ও চরনাসিরপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদের বিভিন্ন পয়েন্টে যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর ও সদরপুর থানা পুলিশ।

২৪ লাখ টাকার জাল ছাই, মাছ পেল এতিমখানা

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় ও মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৮০ হাজার মিটার ক্ষতিকারক অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া জালের আনুমানিক বাজারমূল্য অন্তত ২৪ লাখ টাকা!

অভিযান শেষে জব্দকৃত কারেন্ট জাল প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ভস্মীভূত করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ১০ কেজি তাজা ইলিশ মাছ স্থানীয় একটি এতিমখানার এতিম শিশুদের মাঝে বিতরণ করে দেওয়া হয়।

হাজতে যাওয়া তিন জেলে ও ভ্রাম্যমাণ আদালত

নদীতে ইলিশ শিকারের অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত তিন জেলে হলেন—সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের চরবলাসিয়া গ্রামের মো. রুবেল হোসেন (২৮), চরনাসিরপুর ইউনিয়নের কাড়ালকান্দি গ্রামের হিরন কাড়াল (৩৫) এবং একই ইউনিয়নের হালিম হাওলাদারকান্দি গ্রামের কুদ্দুস খালাসি (৪০)।

ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাঁদের মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০-এর আওতায় ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

অভিযান শেষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিন স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, “মা-ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় সরকার ঘোষিত ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আমরা বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না। নদীর বুকে এই ধরনের অভিযান ও নজরদারি দিন-রাত সমানভাবে অব্যাহত থাকবে।”