ফরিদপুর: ২০ বছর পর দুই হত্যা মামলার রায়, ৪ আসামির যাবজ্জীবন
- আপডেট সময় : ১০:৫২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
- / 432
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় ২০ বছর আগে সংঘটিত খ্রিস্টান মিশনারীর দুই এনজিও কর্মী হত্যা মামলায় চারজন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঘটনার দীর্ঘ ২০ বছর পর আজ মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শফিউদ্দীন এই রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত সাজাপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত চার আসামি পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই রায় দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাদের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ড ও মামলার বিবরণ
নিহতরা: নিহত এনজিও কর্মীরা হলেন তপন রায় মার্ডি (৩০) ও নিকলাল মার্ডি (৩৫)। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের এই দুজন একটি মিশনারী সংস্থার মাঠ কর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং বোয়ালমারীর চর ধোপাপাড়া গ্রামের শিরগ্রামে বিপুল কুমার বাকচীর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
ঘটনার তারিখ: ২০০৫ সালের ২৮ জুলাই দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
হত্যাকাণ্ড: ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁদের দুজনকে গুরুতর জখম করা হয়। এলাকাবাসী তাঁদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
মামলা: বাড়ির মালিক বিপুল কুমার বাকচী বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে বোয়ালমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগপত্র: এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুলতান মাহমুদ, ২০০৭ সালের ২৮ মার্চ ওই চার ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের পরিচয়
আদালত সূত্র এবং রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা টাকার লোভে ওই দুই ব্যক্তিকে হত্যা করে। আসামিরা জামিন পাওয়ার পর থেকেই পলাতক। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ওই চার আসামি হলেন:
আনোয়ার হোসেন (৫৩): শিরগ্রাম, বানা ইউনিয়ন, আলফাডাঙ্গা।
কামরুল হাসান ওরফে কামরুজ্জামান (৪৫): গুণবাহা গ্রাম, গুণবাহা ইউনিয়ন, বোয়ালমারী।
মনিরুজ্জামান ওরফে মনির (৪০): ধোপাপাড়া গ্রাম, চাঁদপুর ইউনিয়ন, বোয়ালমারী।
আব্দুস সামাদ (৬০): চর ধোপাপাড়া গ্রাম, চাঁদপুর ইউনিয়ন, বোয়ালমারী।
রাষ্ট্রপক্ষের সন্তুষ্টি ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তি
ফরিদপুরের স্পেশাল জজ আদালতের সরকার পক্ষের কৌশলী (পিপি) মো. আজিজুর রহমান এই রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “আসামিদের গ্রেফতারের পর তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জানা যায়, টাকার লোভে তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এরপর তারা জামিন লাভ করে পলাতক হন। বিলম্বে হলেও এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তুষ্ট।”





















