ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাঁজা জব্দে কারচুপি: ৩০ কেজির স্থলে ৭ কেজি দেখিয়ে এসআই প্রত্যাহার

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:০৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 367

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গাঁজা জব্দে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়া গাঁজার পরিমাণ নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ ওঠার পর পুলিশের এক উপপরিদর্শককে (এসআই) প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই ঘটনা পুলিশের সততা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত

মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বড়াইগ্রামের ছাতিয়ানগাছা মোল্লাপাড়া মোড় থেকে এলাকাবাসী এক বস্তা গাঁজাসহ একটি কাভার্ড ভ্যান ও তার চালককে আটক করে। এ সময় আরও দুজন পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের খবর পেয়ে বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের এসআই আবদুর রাজ্জাক ঘটনাস্থলে আসেন। স্থানীয়রা দাবি করেন, বস্তায় আনুমানিক ৩০ কেজি গাঁজা ছিল এবং তারা ওজন মাপতে চাইলেও এসআই তাতে রাজি হননি।

কারচুপির অভিযোগ

পরে বুধবার সকালে এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয়, যেখানে ১৪টি প্যাকেটে মোট ৭ কেজি গাঁজা উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়। এই উদ্ধারকৃত পরিমাণের সাথে এলাকাবাসীর দাবির মধ্যে বিশাল গরমিল থাকায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এর মধ্যে গাঁজার ওজন পরিমাপ নিয়ে এসআইয়ের কারচুপির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্তে নামেন। প্রাথমিক তদন্তে এই গরমিলের সত্যতা পাওয়া যায়।

পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা

অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর বুধবার দুপুরে এসআই আবদুর রাজ্জাককে বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শোভন চন্দ্র হোড়। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামি সায়েম মণ্ডলকে (৩৪) আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক দুই আসামি আশরাফ আলী (৪৫) ও ফয়েজুল্লাহ প্রামাণিককে (৪৮) গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গাঁজা জব্দে কারচুপি: ৩০ কেজির স্থলে ৭ কেজি দেখিয়ে এসআই প্রত্যাহার

আপডেট সময় : ১১:০৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গাঁজা জব্দে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়া গাঁজার পরিমাণ নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ ওঠার পর পুলিশের এক উপপরিদর্শককে (এসআই) প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই ঘটনা পুলিশের সততা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত

মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বড়াইগ্রামের ছাতিয়ানগাছা মোল্লাপাড়া মোড় থেকে এলাকাবাসী এক বস্তা গাঁজাসহ একটি কাভার্ড ভ্যান ও তার চালককে আটক করে। এ সময় আরও দুজন পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের খবর পেয়ে বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের এসআই আবদুর রাজ্জাক ঘটনাস্থলে আসেন। স্থানীয়রা দাবি করেন, বস্তায় আনুমানিক ৩০ কেজি গাঁজা ছিল এবং তারা ওজন মাপতে চাইলেও এসআই তাতে রাজি হননি।

কারচুপির অভিযোগ

পরে বুধবার সকালে এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয়, যেখানে ১৪টি প্যাকেটে মোট ৭ কেজি গাঁজা উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়। এই উদ্ধারকৃত পরিমাণের সাথে এলাকাবাসীর দাবির মধ্যে বিশাল গরমিল থাকায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এর মধ্যে গাঁজার ওজন পরিমাপ নিয়ে এসআইয়ের কারচুপির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্তে নামেন। প্রাথমিক তদন্তে এই গরমিলের সত্যতা পাওয়া যায়।

পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা

অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর বুধবার দুপুরে এসআই আবদুর রাজ্জাককে বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শোভন চন্দ্র হোড়। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামি সায়েম মণ্ডলকে (৩৪) আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক দুই আসামি আশরাফ আলী (৪৫) ও ফয়েজুল্লাহ প্রামাণিককে (৪৮) গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।