ফরিদপুরে ১ মণ পেঁয়াজ বেচে মিলছে মাত্র ১ কেজি গরুর মাংস
- আপডেট সময় : ১০:০০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
- / 178
পাট ও পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য দেশজুড়ে খ্যাত ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম পড়ে যাওয়ায় চরম হতাশায় দিন কাটছে স্থানীয় কৃষকদের। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, মাত্র এক কেজি গরুর মাংস কিনতে একজন কৃষককে প্রায় এক মণ (৪০ কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে।
বাজার চিত্র: পেঁয়াজ বনাম গরুর মাংস
সালথা সদর বাজার, ঠেনঠেনিয়া, বালিয়া ও মাঝারদিয়াসহ বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, চলতি সপ্তাহে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১১০০ টাকায়। অন্যদিকে, বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে অনেক কৃষক এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে পরিবারের জন্য মাত্র এক কেজি মাংস কিনতে পারছেন, যা তাদের জন্য চরম কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উৎপাদন খরচ ও লোকসানের হিসাব
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সালথার ৮টি ইউনিয়নে ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলন সন্তোষজনক হলেও কৃষকদের অভিযোগ—সার, বীজ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী।
উৎপাদন খরচ: প্রতি মণ পেঁয়াজে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা।
বাজার দর: প্রতি মণ ৭০০ থেকে ১১০০ টাকা।
সার সংকট: ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে চড়া দামে সার কিনতে বাধ্য হয়েছেন কৃষকরা।
কৃষকদের দাবি ও ক্ষোভ
চাষিদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখা হলে তারা ২-৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে বাজার মজুতদারদের হাতে চলে গেছে। পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগার (Cold Storage) না থাকায় অনেক পেঁয়াজ পচে নষ্ট হচ্ছে। কৃষকরা দ্রুত সরকারি প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
ব্যবসায়ী ও কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য
স্থানীয় পেঁয়াজ ব্যবসায়ী এরশাদ মোল্যা জানান, “দেশের সব জেলায় একসাথে পেঁয়াজ ওঠায় সরবরাহ বেড়েছে। ঈদের কারণে ঢাকার আড়তগুলো বন্ধ থাকায় দামে এর প্রভাব পড়েছে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদর্শন সিকদার বলেন, “সরকারিভাবে ৮০০ জন কৃষককে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হবে বলে আশা করছি। দাম নিয়ে কৃষকদের অসন্তোষের বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং সংরক্ষণাগার নির্মাণের বিষয়েও আলোচনা চলছে।”

















