অনৈতিক কাজের সময় নারী সহ আটক মসজিদের খতিব
- আপডেট সময় : ০৯:০১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 176
একদিকে পঞ্চগড় সুগার মিল জামে মসজিদের সম্মানিত খতিব, অন্যদিকে জেলা ওলামা দলের সক্রিয় সদস্য—ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও রাজনৈতিক পদের আড়ালে এমন এক ব্যক্তির বাসভবনে রাতের আঁধারে কী ঘটছিল? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে উত্তাল হয়ে উঠল পঞ্চগড় চিনিকল কলোনি এলাকা। তরুণীসহ আপত্তিকর অবস্থায় গণধোলাইয়ের মুখ থেকে স্থানীয় ওলামা দল নেতা মো. শহিদুল ইসলামকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ।
আটক শহিদুল ইসলাম জেলা ওলামা দলের সদস্য পদের পাশাপাশি পঞ্চগড় সুগার মিল জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার বিকেলে। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী বিকেল থেকেই খতিব শহিদুলের চিনিকল কলোনিস্থিত আবাসিক কোয়ার্টারে অবস্থান করছিলেন। রাতের বেলা ওই তরুণী নৈশভোজ বা খাবার সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নিকটবর্তী মিলগেট বাজারে এলে তাঁর উপস্থিতি দেখে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের মনে তীব্র সন্দেহের উদ্রেক হয়।
অনুসরণ, অবরুদ্ধ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি
সন্দেহ জাগতেই যুবকেরা ওই তরুণীকে গোপনে অনুসরণ করতে শুরু করেন। তরুণীটি সোজা গিয়ে প্রবেশ করেন খতিব শহিদুলের কোয়ার্টারে। পেছনে পেছনে যুবকের দলটি সেখানে পৌঁছে অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেন এবং হাতেনাতে দুজনকে ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ করে ফেলেন।
মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেখানে ভিড় জমায় ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত জনতা। কোয়ার্টারের সামনে শুরু হয় চরম হট্টগোল ও উত্তেজনা। গণধোলাইয়ের আশঙ্কা তৈরি হলে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনরোষ থেকে খতিব শহিদুল ও ওই তরুণীকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
লিখিত অভিযোগ নেই, আদালতের পথে পুলিশ
উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হলেও মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে দেখা গেছে জটিলতা।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান জানান—
“ঘটনার খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি এবং দুজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। তবে কোনো পক্ষের তরফ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় আটক শহিদুল ইসলামকে প্রচলিত আইনের ৫১ ধারায় বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”











